প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ঢুকে গ্রেপ্তার, যুবকের মুক্তি চাইলেন পাটওয়ারী
- আপডেট সময় : ০৩:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরে ঢুকে পড়ার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার মহিবুল্লাহ মুবিনকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলতে যাওয়ার ঘটনায় যে যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
নাসীরুদ্দীন লিখেন, শুধু সেলফি তোলার মতো ঘটনায় একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার সঙ্গে যদি কোনো ধরনের অন্যায় বা হয়রানি হয়ে থাকে, তবে এর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। পোস্টে তিনি অবিলম্বে মহিবুল্লাহর মুক্তি ও ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
তবে এর আগে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ঢুকে পড়ার ঘটনায় মহিবুল্লাহ মুবিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন মহিবুল্লাহকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই মো. আসাদুর রহমানের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডের বিরোধিতা করে মহিবুল্লাহর জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আবেগতাড়িত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলেন তার মক্কেল। মহিবুল্লাহর পরিবারের কয়েকজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেও আদালতকে জানান তিনি। এছাড়া তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি বলেও দাবি করেন আইনজীবী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রিমান্ডের আবেদন জানান।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়ার কেআইবি মিলনায়তনের সামনে বিএনপি আয়োজিত একটি আলোচনা সভা চলাকালে ঘটনাটি ঘটে। প্রধানমন্ত্রী মিলনায়তনে প্রবেশের আগে মহিবুল্লাহ মুবিন তার সহযোগীদের নিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ঢুকে পড়েন।
ঘটনাস্থল থেকেই মহিবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, দুটি পাসপোর্ট ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্য অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি, মহিবুল্লাহ কী উদ্দেশ্যে, কার নির্দেশে বা প্ররোচনায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা জানতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণেই তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।




















