ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বদলে যাচ্ছে পুরো এশিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে সেবা পাচ্ছেন বিচারপ্রার্থী জনগণ সৌদি আরবে ২৭ মে ঈদুল আজহা তনু হত্যায় আরেক সন্দেহভাজনের সন্ধান ক্রেতাশূন্য বাজারে হিন্দু খামারিদের হাহাকার আত্মহত্যার হুমকি রাজশাহী কলেজে স্পোর্টস সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-জনসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে: আরএমপি কমিশনার রাজশাহীতে বহুতল ভবনের নির্মাণ ত্রুটি-হোটেলের ক্ষতি গণভোট বাস্তবায়ন-পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যাসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের সমাবেশ  ১৬ মে

বিশ্বাসের শক্তি বনাম ভয়: নোচেবো ও প্লাসিবো প্রভাবের বাস্তব গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫ ২৬২ বার পড়া হয়েছে

মো: মাহিদ শেখ ,সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ: একটি গ্রামের ঘটনা—সেখানে এক নারী সদ্য গর্ভপাতের পরেও সামান্য রক্তক্ষরণে ভুগছিলেন। স্থানীয় একজন স্বাস্থ্যকর্মী তার চিকিৎসার জন্য বাড়িতে আসেন। তার আশেপাশে থাকা একটি কমলার গাছের দিকে তাকিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী হাসিমুখে বলেন, “কমলার রসে আছে ভিটামিন সি, এটি শরীরের রক্তনালীকে মজবুত করে—খেলে উপকার হবে।” নারীটি কথামতো এক গ্লাস রস পান করেন, কিন্তু তার মনে ততক্ষণে ভয় বাসা বেঁধেছে। অজানা এক আতঙ্কে তিনি নিজেকে ক্ষতির মধ্যে কল্পনা করতে থাকেন।

কিছুক্ষণ পর তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, মুখ বিবর্ণ, মন প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন। যদিও শারীরিকভাবে কোনো গুরুতর সমস্যা ছিল না, তবু তিনি ভাবছিলেন—”আমি বুঝি মারা যাচ্ছি!” তখন তাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল কেবলমাত্র ডিস্টিলড ওয়াটার। এই পানির ইনজেকশনের কোনো ওষুধের গুণ ছিল না, কিন্তু সেই নারী বিশ্বাস করতেন, ইনজেকশন মানেই শক্তিশালী চিকিৎসা। অবাক করার মতো বিষয়, ইনজেকশন নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা劇ভাবে পরিবর্তিত হয়—তিনি বললেন, “এখন অনেক ভালো লাগছে।”

এই অভিজ্ঞতা মানব মনের এক বিস্ময়কর শক্তিকে তুলে ধরে। নেতিবাচক বিশ্বাস ও আশঙ্কা কিভাবে শরীরকে ভেঙে ফেলতে পারে, এবং আশার শক্তি কিভাবে আবার তা পুনর্গঠন করতে পারে—এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়া হলো নোচেবো এবং প্লাসিবো প্রভাব। নোচেবো তখনই ঘটে, যখন কেউ কোনো নিরীহ বা নিরপেক্ষ জিনিসকেও ক্ষতিকর মনে করে এবং সেই মানসিক ভয়েই বাস্তব অসুস্থতা অনুভব করে। অন্যদিকে, প্লাসিবো এমন এক প্রতিক্রিয়া, যেখানে বিশ্বাসই হয়ে ওঠে ওষুধ—যেমন ওই পানির ইনজেকশন। যদিও তাতে কোনো চিকিৎসাগত উপাদান ছিল না, তবু বিশ্বাসের জোরেই রোগী সুস্থ অনুভব করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান শুধু পিল, সিরাপ বা ইনজেকশনে সীমাবদ্ধ নয়—এর পেছনে কাজ করে মানুষের আত্মবিশ্বাস, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের গভীর অনুভব। একজন দক্ষ চিকিৎসক বা সেবাদানকারী জানেন, অনেক সময় সঠিক কথাবার্তা, সহানুভূতি ও মানসিক সাপোর্টই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিশ্বাসের শক্তি বনাম ভয়: নোচেবো ও প্লাসিবো প্রভাবের বাস্তব গল্প

আপডেট সময় : ০২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫

মো: মাহিদ শেখ ,সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ: একটি গ্রামের ঘটনা—সেখানে এক নারী সদ্য গর্ভপাতের পরেও সামান্য রক্তক্ষরণে ভুগছিলেন। স্থানীয় একজন স্বাস্থ্যকর্মী তার চিকিৎসার জন্য বাড়িতে আসেন। তার আশেপাশে থাকা একটি কমলার গাছের দিকে তাকিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী হাসিমুখে বলেন, “কমলার রসে আছে ভিটামিন সি, এটি শরীরের রক্তনালীকে মজবুত করে—খেলে উপকার হবে।” নারীটি কথামতো এক গ্লাস রস পান করেন, কিন্তু তার মনে ততক্ষণে ভয় বাসা বেঁধেছে। অজানা এক আতঙ্কে তিনি নিজেকে ক্ষতির মধ্যে কল্পনা করতে থাকেন।

কিছুক্ষণ পর তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, মুখ বিবর্ণ, মন প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন। যদিও শারীরিকভাবে কোনো গুরুতর সমস্যা ছিল না, তবু তিনি ভাবছিলেন—”আমি বুঝি মারা যাচ্ছি!” তখন তাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল কেবলমাত্র ডিস্টিলড ওয়াটার। এই পানির ইনজেকশনের কোনো ওষুধের গুণ ছিল না, কিন্তু সেই নারী বিশ্বাস করতেন, ইনজেকশন মানেই শক্তিশালী চিকিৎসা। অবাক করার মতো বিষয়, ইনজেকশন নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা劇ভাবে পরিবর্তিত হয়—তিনি বললেন, “এখন অনেক ভালো লাগছে।”

এই অভিজ্ঞতা মানব মনের এক বিস্ময়কর শক্তিকে তুলে ধরে। নেতিবাচক বিশ্বাস ও আশঙ্কা কিভাবে শরীরকে ভেঙে ফেলতে পারে, এবং আশার শক্তি কিভাবে আবার তা পুনর্গঠন করতে পারে—এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়া হলো নোচেবো এবং প্লাসিবো প্রভাব। নোচেবো তখনই ঘটে, যখন কেউ কোনো নিরীহ বা নিরপেক্ষ জিনিসকেও ক্ষতিকর মনে করে এবং সেই মানসিক ভয়েই বাস্তব অসুস্থতা অনুভব করে। অন্যদিকে, প্লাসিবো এমন এক প্রতিক্রিয়া, যেখানে বিশ্বাসই হয়ে ওঠে ওষুধ—যেমন ওই পানির ইনজেকশন। যদিও তাতে কোনো চিকিৎসাগত উপাদান ছিল না, তবু বিশ্বাসের জোরেই রোগী সুস্থ অনুভব করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান শুধু পিল, সিরাপ বা ইনজেকশনে সীমাবদ্ধ নয়—এর পেছনে কাজ করে মানুষের আত্মবিশ্বাস, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের গভীর অনুভব। একজন দক্ষ চিকিৎসক বা সেবাদানকারী জানেন, অনেক সময় সঠিক কথাবার্তা, সহানুভূতি ও মানসিক সাপোর্টই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।