ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ২৪৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের আপত্তিকর ভিডিওটি ভাইরাল হলে নেটিজনদের মাঝে তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। আরডিএ’র আলোচিত এই প্রভাবশালী প্রকৌশলী দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে পরিচিত।

তার নানা অপকর্ম, নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও ম্যানি লন্ডারিং’র দায়ে দুদকের দুটি মামলার পরেও কিভাবে আরডিএর মতো প্রতিষ্ঠানে স্বপদে বহাল আছেন তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আরডিএ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নীতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৬ আগস্ট আরডিএ ১০টি পদের বিপরীতে ১১ জন জনবল নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে শেখ কামরুজ্জামান সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে আবেদন করেন। নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় পূর্ণমান ছিল ১০০। আর ন্যূনতম পাস নম্বর ছিল ৩৩। এর মধ্যে শেখ কামরুজ্জামান লিখিত পরীক্ষায় পেয়ে ছিলেন ২৪ নম্বর। তাই লিখিত পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। তারপরেও সে প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে আরডিএতে নিয়োগ পান। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটায় ছিল পুরোটায় ঘাপলা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা। সেই অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়। কিন্তু কামারুজ্জামান লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তৎকালীন আরডিএর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেয়। ওই নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আরডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব হিসেবে তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

সূত্রে জানা যায়, কেবল মাত্র কামারুজ্জামানকে চাকুরী দেওয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ১৯৯৩ সালে কামরুজ্জামান মানবিক বিভাগ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাস করেন। কিন্তু আরডিএর লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হায়েছিলেন তাঁরা ছিলেন বিএসসি (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রিধারী।
কামারুজ্জামানের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়োগবঞ্চিরা ২০১১ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৭ জুলাই দুদকের রাজশাহী তৎকালীন অঞ্চলের উপ-পরিচালক আব্দুল করিম শাহমখদুম থানায় মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ আট বছর তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদুর রহমান ওই মামলায় রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ওই মামলায় কামরুজ্জামানকে অবৈধভাবে নিয়োগ দোয়ার অভিযোগে আরডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রব জোয়ার্দ্দারকেও অভিযুক্ত করা হয়।

এই বিষয়ে ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব লুৎফুন নাহার আরডিএর চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামী হওয়ার পরেও মন্ত্রণালয়ের আদেশ যথাযথ ভাবে প্রয়োগ না করা। মামলাল সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাওয় হয়। সেই সাথে তার চাকরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার যাবতীয় তথ্যও চাওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মন্ত্রণালয়ের সেই চিঠির জবাব পরে আর দেননি আরডিএ কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা যায়, তার নিযোগপ্রক্রিয়া হয়েছে অনিয়ম আর ঘাপলার মাধ্যমে। শুরু থেকে বর্তমান চাকুরীকাল পর্যন্ত পুরোটায় অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ভরা। শেখ কামরুজ্জামান সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকুরী করলেও অবৈধ ভাবে নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের করা আরও ২টি মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ম্যানি লন্ডারিং’র অভিযোগে সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্নাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। এর আগে দুদক ২০২২ সালের ১লা জুন শেখ কামরুজ্জামান ও ২রা জুন তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পদ অর্জন ও ম্যানি লন্ডারিং’র অভিযোগে মামলা দুটি করেন। ওই সময় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শেখ কামারুজ্জামান বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের একটি গ্রুপের কয়েকজন নেতার প্রভাব খাটিয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত প্রত্যাহার করিয়ে নিতে আরডিএ কর্তৃপক্ষ চাপ প্রয়োগ করে। ফলে আরডিএ কর্তৃপক্ষ শেখ কামরুজ্জামানের দুর্নীতির মামলা আদালতে চলমান থাকার পরও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তুলে নিতে বাধ্য হন। তবে কামারুজ্জামানের দাবী মহামান্য হাইকোর্ট থেকে দুদকের মামলার ষ্ট্রে অর্ডার রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহামান্য হাইকোর্ট তাকে ৬ মাসের জন্য দুদকের মামলার ষ্ট্রে অর্ডার দেন। এই সুযোগে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে আবারও চাকুরীতে যোগদান করেন। এরপর প্রায় দেড় বছর পার হলে হাইকোর্ট থেকে আর কোন ষ্ট্রে অর্ডার না নিয়েই দাপটের সক্সেগ বিধিবর্হিরভূতভাবে চাকুরী করছে। এরপর তিনি আর বেপরোয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, নারী কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতি ও ম্যানি লন্ডারিং’র দায়ে দুদকের দুটি মামলার পরেও বিএনপি আওয়ামীলীগ উভয় সরকারের আমলে অদৃশ্য শক্তির বলে এখনোও দাপুটে এই প্রকৌশলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের আপত্তিকর ভিডিওটি ভাইরাল হলে নেটিজনদের মাঝে তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। আরডিএ’র আলোচিত এই প্রভাবশালী প্রকৌশলী দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে পরিচিত।

তার নানা অপকর্ম, নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও ম্যানি লন্ডারিং’র দায়ে দুদকের দুটি মামলার পরেও কিভাবে আরডিএর মতো প্রতিষ্ঠানে স্বপদে বহাল আছেন তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আরডিএ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নীতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৬ আগস্ট আরডিএ ১০টি পদের বিপরীতে ১১ জন জনবল নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে শেখ কামরুজ্জামান সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে আবেদন করেন। নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় পূর্ণমান ছিল ১০০। আর ন্যূনতম পাস নম্বর ছিল ৩৩। এর মধ্যে শেখ কামরুজ্জামান লিখিত পরীক্ষায় পেয়ে ছিলেন ২৪ নম্বর। তাই লিখিত পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। তারপরেও সে প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে আরডিএতে নিয়োগ পান। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটায় ছিল পুরোটায় ঘাপলা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা। সেই অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়। কিন্তু কামারুজ্জামান লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তৎকালীন আরডিএর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেয়। ওই নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আরডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব হিসেবে তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

সূত্রে জানা যায়, কেবল মাত্র কামারুজ্জামানকে চাকুরী দেওয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ১৯৯৩ সালে কামরুজ্জামান মানবিক বিভাগ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাস করেন। কিন্তু আরডিএর লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হায়েছিলেন তাঁরা ছিলেন বিএসসি (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রিধারী।
কামারুজ্জামানের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়োগবঞ্চিরা ২০১১ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৭ জুলাই দুদকের রাজশাহী তৎকালীন অঞ্চলের উপ-পরিচালক আব্দুল করিম শাহমখদুম থানায় মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ আট বছর তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদুর রহমান ওই মামলায় রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ওই মামলায় কামরুজ্জামানকে অবৈধভাবে নিয়োগ দোয়ার অভিযোগে আরডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রব জোয়ার্দ্দারকেও অভিযুক্ত করা হয়।

এই বিষয়ে ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব লুৎফুন নাহার আরডিএর চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামী হওয়ার পরেও মন্ত্রণালয়ের আদেশ যথাযথ ভাবে প্রয়োগ না করা। মামলাল সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাওয় হয়। সেই সাথে তার চাকরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার যাবতীয় তথ্যও চাওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মন্ত্রণালয়ের সেই চিঠির জবাব পরে আর দেননি আরডিএ কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা যায়, তার নিযোগপ্রক্রিয়া হয়েছে অনিয়ম আর ঘাপলার মাধ্যমে। শুরু থেকে বর্তমান চাকুরীকাল পর্যন্ত পুরোটায় অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ভরা। শেখ কামরুজ্জামান সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকুরী করলেও অবৈধ ভাবে নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের করা আরও ২টি মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ম্যানি লন্ডারিং’র অভিযোগে সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্নাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। এর আগে দুদক ২০২২ সালের ১লা জুন শেখ কামরুজ্জামান ও ২রা জুন তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পদ অর্জন ও ম্যানি লন্ডারিং’র অভিযোগে মামলা দুটি করেন। ওই সময় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শেখ কামারুজ্জামান বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের একটি গ্রুপের কয়েকজন নেতার প্রভাব খাটিয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত প্রত্যাহার করিয়ে নিতে আরডিএ কর্তৃপক্ষ চাপ প্রয়োগ করে। ফলে আরডিএ কর্তৃপক্ষ শেখ কামরুজ্জামানের দুর্নীতির মামলা আদালতে চলমান থাকার পরও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তুলে নিতে বাধ্য হন। তবে কামারুজ্জামানের দাবী মহামান্য হাইকোর্ট থেকে দুদকের মামলার ষ্ট্রে অর্ডার রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহামান্য হাইকোর্ট তাকে ৬ মাসের জন্য দুদকের মামলার ষ্ট্রে অর্ডার দেন। এই সুযোগে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে আবারও চাকুরীতে যোগদান করেন। এরপর প্রায় দেড় বছর পার হলে হাইকোর্ট থেকে আর কোন ষ্ট্রে অর্ডার না নিয়েই দাপটের সক্সেগ বিধিবর্হিরভূতভাবে চাকুরী করছে। এরপর তিনি আর বেপরোয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, নারী কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতি ও ম্যানি লন্ডারিং’র দায়ে দুদকের দুটি মামলার পরেও বিএনপি আওয়ামীলীগ উভয় সরকারের আমলে অদৃশ্য শক্তির বলে এখনোও দাপুটে এই প্রকৌশলী।