রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেকে) হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা
ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি রামেক হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় হিমশিম
- আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেকে) হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা। দেশের অন্য সব হাসপাতালের মতো উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালটিতেও সাতদিন ধরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। শনিবার থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে সংকট বেড়েছে আরও।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ওয়ার্ড রয়েছে ৬০টি। এসব ওয়ার্ডে ২৭৭ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও প্রায় ১৫০ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করেন। মূলত তারাই রোগী রিসিভ করেন এবং শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
তারা না থাকার কারণে এখন শুধু হাসপাতালে সরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩০০ জন মিড লেভেলের চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। গড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচজন করে চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে। এই পাঁচজন শিফট ভাগ করে ২৪ ঘণ্টায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
এর বাইরে আগের মতোই রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রায় ১০০ জন অধ্যাপক কিংবা সহকারী অধ্যাপক সকালে একবার ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরাও কর্মবিরতিতে যাওয়ার ফলে শুধু সরকারি চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওয়ার্ডে রোগী সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবার ওয়ার্ডে সব সময় চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।
এদিকে হাইকোটের্র পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও ৫ দফা দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে সমাবেশ করেছেন চিকিৎসকেরা। কর্মসূচিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
কর্মসূচিতে তারা বিএমডিসির বিরুদ্ধে করা রিট প্রত্যাহার এবং শুধু এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীধারীদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তারা বিএমডিসি থেকে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করার দাবি জানান। রামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরামের সভাপতি ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের সহকর্মীরা ঢাকায় আন্দোলন করছে, তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কথা বলতে চেয়েছেন। আশা করি আমাদের দাবি মেনে নেবে। দাবি না মানলে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের রক্তরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুর্শেদ জামান মিঞা, ড্যাবের নেতা মনোয়ার তারিক সাবু, সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরুজ্জামান সরকার, ডা. এ এসএম আব্দুল্লাহ, ডা. শফিকুল ইসলাম, পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেনিং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতালের আহ্বাক ডা. এটিএম আখেরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল কীভাবে চলছে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওইভাবেই চলছে। কারণ, ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরা যেহেতু একটা দাবি করেছেন এবং এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ সমাধানের পথ দেয়নি, তাই আন্দোলন চলছে। তারপরও এই সময়ে রোগীরা যাতে সেবা বঞ্চিত না হন তার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সরকারি মিড লেভেলের চিকিৎসক ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা সেবা দিচ্ছেন।























