প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তাণ্ডব এবং শিক্ষিকাকে জুতাপেটা ও মারধরের ঘটনায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তোলপাড়। ঘটনার পর ১০ দিন পার হলেও এর নেপথ্যে কারা এবং কী কারণেইবা ওইদিন কলেজে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখনো চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কলেজটির নামে থাকা প্রায় ৮ বিঘা পুকুর ও কয়েকটি পানের বরজ ছাড়াও ভর্তি ফি, বিভিন্ন চাঁদা ও অন্যান্য খাত থেকে বছরে লাখ লাখ টাকার আয় হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এসব সম্পদ ও তহবিলের ওপর প্রভাব বিস্তার নিয়ে সক্রিয় একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব খাত থেকে অর্জিত অর্থের বড় অংশ নিয়মিতভাবে তছরুপ করা হয়েছে।
২০১৮ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হলেও রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ নতুন অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। তিনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী মহল।
গত ২৩ এপ্রিল কলেজের পুকুর ও পানের বরজ উন্মুক্তভাবে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। এতে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাভোগী চক্রটির স্বার্থে আঘাত লাগে। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগার নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিতে ক্যাম্পাসে ঢোকে। যে দল যখন ক্ষমতায়, সামাদ দারোগা তখন সেই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে যান। পুকুর ও পানের বরজের লিজের টাকা কলেজ তহবিলে জমা করা হয় না। তাছাড়া যত টাকা লিজ হয়, পাকা রসিদে তার চেয়ে অনেক কম টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
















