ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘গুলি করার পরেও আরাফাতকে হাসপাতালে নিতে বাধা দিয়েছিল’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ ২৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:


‘গুলি করার পরেও আরাফাতকে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিতে গেলে তাদের বাধা দিয়েছেন রায়হান শরীফ। প্রতিদিন ক্লাসের টেবিলে পিস্তল রেখে পাঠদান করাতেন সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক রায়হান শরীফ।’

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আরাফাত আমিন তমালের মা সেলিনা আক্তার এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তার এমন উগ্র আচরণে শিক্ষার্থীরা ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। শিক্ষকের এমন আচরণে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন? আমার ছেলে যদি মারা যেত এর দায় কে নিতো? আমি এই শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

গুলিবিদ্ধ আরাফাত আমিন তমাল বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া ধানসিঁড়ি মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের ছেলে। অন্যদিকে, বিসিএস-৩৯ তম ব্যাচের চিকিৎসক মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক রায়হান শরীফ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

তমালের মা সেলিনা আক্তার বলেন, আমার দুই সন্তান তমাল ও তনু। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তমালকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেছি। ওই উগ্র আচরণের শিক্ষক গুলি করার পর তমাল মোবাইল ফোনে আমায় বলেছিল মা আমাকে এক পাগলা শিক্ষক পায়ে গুলি করেছে। এই কথা শুনে বুকের মধ্যে পাহাড় ভেঙে পড়েছিলো। দ্রুত আমরা বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জে চলে আসি। হাসপাতালে এসে অধ্যক্ষকে বলেছি আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ কেন? কেন ওই শিক্ষক আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করলেন। তারা সঠিক জবাব দেয়নি। আমার মতো অসংখ্য মা তার প্রিয় সন্তানদের এ কলেজে লেখাপড়ার জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমার ছেলেকে নিরাপত্তা দেবে কে?

ঘটনার সময় ক্লাসে উপস্থিত থাকা মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহির বলেন, ক্লাসে আমরা প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ছিলাম। হঠাৎ তিনি ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে আমাদের দুই-তিনজনের দিকে টার্গেট করেন। এরপর জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি কেউ পোষা পাখি পালো? এইটা হলো আমার পোষা পাখি। এটা আমি পুষি। এরপরই তিনি হঠাৎ শুট করে দিলেন। আরাফাতের পায়ে লাগল।

তিনি আরও বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই এই শিক্ষক গুলি চালায়। গুলির শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমরা আরাফাতকে হাসপাতালে নিতে চাইলেও তিনি বাধা দেন। হাসপাতালে নেওয়ার দরকার নাই, এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। পরে আমরা আরাফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। রায়হান শরিফের কাছে সব সময় একটা ব্যাগ থাকে। সেই ব্যাগে অস্ত্র, ছুরি থাকে। এসব বিষয় আমরা ভয়ে-ভয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাই। কারণ এই শিক্ষকের হাতে আমাদের নম্বর থাকে। তখন নাম জানতে পারলে সমস্যা করতেন। কর্তৃপক্ষ সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

কলেজের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ক্লাসে, ভাইভা রুমে, খাবারের ডাইনিং, আড্ডা দেওয়ার স্থানসহ সব সময় অস্ত্র দেখিয়ে বেড়াতেন। আমাদের মাথায় পিস্তল ধরে গুলি ছাড়া আগেও ফায়ার করেছেন। তবে এবার ফায়ার করেছেন গুলিসহ। অল্পের জন্য আরাফাতের প্রাণ বেঁচেছে।

কলেজের কারও না কারও প্রশ্রয়ে তিনি এমন বেপরোয়া ছিলেন বলে অভিযোগ করে জাহিদ হাসান বলেন, ডা. রায়হান শরিফকে কেউ সাপোর্ট না দিলে তিনি এত সাহস পেতেন না। কে তাকে সাহস দিতেন; সেটা আমরা জানতে চাই। তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

গুলিবিদ্ধ তমালের সহপাঠী মাসুম হোসেন বলেন, রায়হান শরীফ পিস্তল নিয়ে ক্যাম্পাস ও ক্লাসে আসায় আমরা সবসময় ভয়ে থাকতাম। ক্লাসের টেবিলে পিস্তল রেখে পাঠদান করাতেন। আমরা কিছু বললে পরীক্ষায় ফেল করার ভয় দেখাতেন। রায়হান শরীফ মূলত কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক। কিন্তু তিনি গায়ের জোরে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগেও ক্লাস নিতেন।

তমালের আরেক সহপাঠি সাব্বির হোসেন বলেন, রায়হান শরিফ রাতের বেলায় আমাদের ব্যাচমেট মেয়েদের কল দিতেন। কেউ ফোন না ধরলে অন্যজনকে ফোন করে বলতেন। এভাবে কল ধরতে চাপ দিতেন। তারপরও কেউ কল না ধরলে পরদিন ক্লাসে সবার সামনে বলতেন এই তুই রাতে আমার ফোন রিসিভ করিসনি কেন? এভাবে তিনি ছাত্রীদের অপমান করতেন।

রায়হান শরিফের নানা অভিযোগের বিষয়গুলো জানতে চাইলে শহিদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন বলেন, পিস্তল টেবিলে রেখে ক্লাস নিতেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাতেন বিষয়গুলো আমাদের কেউ জানায়নি। তমালকে গুলি করার পরে বিষয়গুলো সামনে আসছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটির সদস্যরা কলেজে এসেছেন। তারা সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৪ মার্চ) বিকেলে ক্লাস নেওয়ার একপর্যায়ে শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে লক্ষ্য করে গুলি চালান কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক রায়হান শরীফ। এ ঘটনার পর তাকে আটকে রাখা হলে খবর পেয়ে পুলিশ এসে আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা অবৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখার অপরাধে, অন্যটি ছাত্রকে গুলি করার ঘটনায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ডা. রায়হান শরিফকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘গুলি করার পরেও আরাফাতকে হাসপাতালে নিতে বাধা দিয়েছিল’

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪

নিউজ ডেস্ক:


‘গুলি করার পরেও আরাফাতকে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিতে গেলে তাদের বাধা দিয়েছেন রায়হান শরীফ। প্রতিদিন ক্লাসের টেবিলে পিস্তল রেখে পাঠদান করাতেন সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক রায়হান শরীফ।’

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আরাফাত আমিন তমালের মা সেলিনা আক্তার এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তার এমন উগ্র আচরণে শিক্ষার্থীরা ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। শিক্ষকের এমন আচরণে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন? আমার ছেলে যদি মারা যেত এর দায় কে নিতো? আমি এই শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

গুলিবিদ্ধ আরাফাত আমিন তমাল বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া ধানসিঁড়ি মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের ছেলে। অন্যদিকে, বিসিএস-৩৯ তম ব্যাচের চিকিৎসক মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক রায়হান শরীফ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

তমালের মা সেলিনা আক্তার বলেন, আমার দুই সন্তান তমাল ও তনু। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তমালকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেছি। ওই উগ্র আচরণের শিক্ষক গুলি করার পর তমাল মোবাইল ফোনে আমায় বলেছিল মা আমাকে এক পাগলা শিক্ষক পায়ে গুলি করেছে। এই কথা শুনে বুকের মধ্যে পাহাড় ভেঙে পড়েছিলো। দ্রুত আমরা বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জে চলে আসি। হাসপাতালে এসে অধ্যক্ষকে বলেছি আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ কেন? কেন ওই শিক্ষক আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করলেন। তারা সঠিক জবাব দেয়নি। আমার মতো অসংখ্য মা তার প্রিয় সন্তানদের এ কলেজে লেখাপড়ার জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমার ছেলেকে নিরাপত্তা দেবে কে?

ঘটনার সময় ক্লাসে উপস্থিত থাকা মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহির বলেন, ক্লাসে আমরা প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ছিলাম। হঠাৎ তিনি ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে আমাদের দুই-তিনজনের দিকে টার্গেট করেন। এরপর জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি কেউ পোষা পাখি পালো? এইটা হলো আমার পোষা পাখি। এটা আমি পুষি। এরপরই তিনি হঠাৎ শুট করে দিলেন। আরাফাতের পায়ে লাগল।

তিনি আরও বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই এই শিক্ষক গুলি চালায়। গুলির শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমরা আরাফাতকে হাসপাতালে নিতে চাইলেও তিনি বাধা দেন। হাসপাতালে নেওয়ার দরকার নাই, এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। পরে আমরা আরাফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। রায়হান শরিফের কাছে সব সময় একটা ব্যাগ থাকে। সেই ব্যাগে অস্ত্র, ছুরি থাকে। এসব বিষয় আমরা ভয়ে-ভয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাই। কারণ এই শিক্ষকের হাতে আমাদের নম্বর থাকে। তখন নাম জানতে পারলে সমস্যা করতেন। কর্তৃপক্ষ সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

কলেজের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ক্লাসে, ভাইভা রুমে, খাবারের ডাইনিং, আড্ডা দেওয়ার স্থানসহ সব সময় অস্ত্র দেখিয়ে বেড়াতেন। আমাদের মাথায় পিস্তল ধরে গুলি ছাড়া আগেও ফায়ার করেছেন। তবে এবার ফায়ার করেছেন গুলিসহ। অল্পের জন্য আরাফাতের প্রাণ বেঁচেছে।

কলেজের কারও না কারও প্রশ্রয়ে তিনি এমন বেপরোয়া ছিলেন বলে অভিযোগ করে জাহিদ হাসান বলেন, ডা. রায়হান শরিফকে কেউ সাপোর্ট না দিলে তিনি এত সাহস পেতেন না। কে তাকে সাহস দিতেন; সেটা আমরা জানতে চাই। তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

গুলিবিদ্ধ তমালের সহপাঠী মাসুম হোসেন বলেন, রায়হান শরীফ পিস্তল নিয়ে ক্যাম্পাস ও ক্লাসে আসায় আমরা সবসময় ভয়ে থাকতাম। ক্লাসের টেবিলে পিস্তল রেখে পাঠদান করাতেন। আমরা কিছু বললে পরীক্ষায় ফেল করার ভয় দেখাতেন। রায়হান শরীফ মূলত কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক। কিন্তু তিনি গায়ের জোরে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগেও ক্লাস নিতেন।

তমালের আরেক সহপাঠি সাব্বির হোসেন বলেন, রায়হান শরিফ রাতের বেলায় আমাদের ব্যাচমেট মেয়েদের কল দিতেন। কেউ ফোন না ধরলে অন্যজনকে ফোন করে বলতেন। এভাবে কল ধরতে চাপ দিতেন। তারপরও কেউ কল না ধরলে পরদিন ক্লাসে সবার সামনে বলতেন এই তুই রাতে আমার ফোন রিসিভ করিসনি কেন? এভাবে তিনি ছাত্রীদের অপমান করতেন।

রায়হান শরিফের নানা অভিযোগের বিষয়গুলো জানতে চাইলে শহিদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন বলেন, পিস্তল টেবিলে রেখে ক্লাস নিতেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাতেন বিষয়গুলো আমাদের কেউ জানায়নি। তমালকে গুলি করার পরে বিষয়গুলো সামনে আসছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটির সদস্যরা কলেজে এসেছেন। তারা সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৪ মার্চ) বিকেলে ক্লাস নেওয়ার একপর্যায়ে শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে লক্ষ্য করে গুলি চালান কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক রায়হান শরীফ। এ ঘটনার পর তাকে আটকে রাখা হলে খবর পেয়ে পুলিশ এসে আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা অবৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখার অপরাধে, অন্যটি ছাত্রকে গুলি করার ঘটনায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ডা. রায়হান শরিফকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি