ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

সৌদি আরবে হাজিদের সঙ্গে ভাষার ব্যবধান দূর করল এআই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫ ১২৫ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনসমাগম এবং এক অনন্য যোগাযোগের পরীক্ষাস্থল পবিত্র হজ। প্রতিবছর ১৮০টির বেশি দেশ থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষ পুণ্যভূমি সৌদি আরবে একত্র হন ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ হজ পালন করতে। বিভিন্ন ভাষা, উপভাষা ও সংস্কৃতি থেকে আসা এসব মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
তবে এবার এই চিত্রে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশটি ‘হজে যোগাযোগের নিয়মই বদলে দিচ্ছে’। আর এর কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক অনুবাদ প্রযুক্তি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজের সবচেয়ে আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—আরাফার খুতবা এবার সরাসরি অনুবাদ করা হয়েছে ৩৫টি ভাষায়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কোটি কোটি মানুষ এবং ময়দানে উপস্থিত প্রত্যেক হাজি নিজ নিজ মাতৃভাষায় শুনতে পেরেছেন ঐক্য, করুণা ও ইমানের বার্তা।

সাধারণত এত ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ অসম্ভবই মনে হয়। তবে এবার সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে ‘দুই পবিত্র মসজিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ’র আওতায় পরিচালিত এআই প্রযুক্তি এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে। সৌদির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, ‘অনুবাদ এখন কেবল প্রযুক্তিগত একটি ফিচার নয়, এটি আধ্যাত্মিক সেতুবন্ধন।’

‘স্মার্ট হজ’ ও ‘ইন দেয়ার ল্যাঙ্গুয়েজেস’ নামে চালু হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় প্রতিটি ধাপে হাজিদের জন্য বহুভাষিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নুসুক অ্যাপ

এআইভিত্তিক পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে এটি তাৎক্ষণিকভাবে কথোপকথনের অনুবাদ করে। ফলে হাজিরা সাহায্য চাইতে, নিয়মকানুন বুঝতে এবং সাহায্যকারী বা ভলান্টিয়ার দলের সঙ্গে যোগাযোগে সক্ষম হন।

মানারা রোবট

এটি ১১টি ভাষায় ধর্মীয় দিকনির্দেশনাসহ প্রাসঙ্গিক ও সংবেদনশীল উত্তর দেয়।

মাঠপর্যায়ে এআই ডিভাইস

মাঠে থাকা টিমগুলো এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা ভাষা ও ছবি—উভয়ই বুঝে হাজিদের নিজ ভাষায় নির্ভুল যোগাযোগ নিশ্চিত করে।

মসজিদুল হারামে হাজিদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত কোরআনের কপি বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা পবিত্র বাণী নিজেদের ভাষায় বুঝে নিতে পারেন। এ ছাড়া হজ মৌসুমে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনায়ও এআই অনুবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাণ বাঁচানোর মাধ্যমও হয়ে উঠেছে।

সৌদি সরকার বলছে, বাস্তব সময়ে অনুবাদকে হজ অভিজ্ঞতার কেন্দ্রে রেখে তারা একটি বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, যেখানে প্রযুক্তি ইমানকে পরিপূরক করে তোলে, প্রতিস্থাপন নয়। যেখানে আগে যোগাযোগ ছিল একটি লজিস্টিক সমস্যা, এখন তা আত্মিক সংযোগের একটি সুযোগ। ভাষা পেরিয়ে আজ হৃদয়ও সংযুক্ত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সৌদি আরবে হাজিদের সঙ্গে ভাষার ব্যবধান দূর করল এআই

আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনসমাগম এবং এক অনন্য যোগাযোগের পরীক্ষাস্থল পবিত্র হজ। প্রতিবছর ১৮০টির বেশি দেশ থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষ পুণ্যভূমি সৌদি আরবে একত্র হন ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ হজ পালন করতে। বিভিন্ন ভাষা, উপভাষা ও সংস্কৃতি থেকে আসা এসব মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
তবে এবার এই চিত্রে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশটি ‘হজে যোগাযোগের নিয়মই বদলে দিচ্ছে’। আর এর কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক অনুবাদ প্রযুক্তি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজের সবচেয়ে আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—আরাফার খুতবা এবার সরাসরি অনুবাদ করা হয়েছে ৩৫টি ভাষায়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কোটি কোটি মানুষ এবং ময়দানে উপস্থিত প্রত্যেক হাজি নিজ নিজ মাতৃভাষায় শুনতে পেরেছেন ঐক্য, করুণা ও ইমানের বার্তা।

সাধারণত এত ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ অসম্ভবই মনে হয়। তবে এবার সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে ‘দুই পবিত্র মসজিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ’র আওতায় পরিচালিত এআই প্রযুক্তি এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে। সৌদির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, ‘অনুবাদ এখন কেবল প্রযুক্তিগত একটি ফিচার নয়, এটি আধ্যাত্মিক সেতুবন্ধন।’

‘স্মার্ট হজ’ ও ‘ইন দেয়ার ল্যাঙ্গুয়েজেস’ নামে চালু হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় প্রতিটি ধাপে হাজিদের জন্য বহুভাষিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নুসুক অ্যাপ

এআইভিত্তিক পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে এটি তাৎক্ষণিকভাবে কথোপকথনের অনুবাদ করে। ফলে হাজিরা সাহায্য চাইতে, নিয়মকানুন বুঝতে এবং সাহায্যকারী বা ভলান্টিয়ার দলের সঙ্গে যোগাযোগে সক্ষম হন।

মানারা রোবট

এটি ১১টি ভাষায় ধর্মীয় দিকনির্দেশনাসহ প্রাসঙ্গিক ও সংবেদনশীল উত্তর দেয়।

মাঠপর্যায়ে এআই ডিভাইস

মাঠে থাকা টিমগুলো এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা ভাষা ও ছবি—উভয়ই বুঝে হাজিদের নিজ ভাষায় নির্ভুল যোগাযোগ নিশ্চিত করে।

মসজিদুল হারামে হাজিদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত কোরআনের কপি বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা পবিত্র বাণী নিজেদের ভাষায় বুঝে নিতে পারেন। এ ছাড়া হজ মৌসুমে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনায়ও এআই অনুবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাণ বাঁচানোর মাধ্যমও হয়ে উঠেছে।

সৌদি সরকার বলছে, বাস্তব সময়ে অনুবাদকে হজ অভিজ্ঞতার কেন্দ্রে রেখে তারা একটি বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, যেখানে প্রযুক্তি ইমানকে পরিপূরক করে তোলে, প্রতিস্থাপন নয়। যেখানে আগে যোগাযোগ ছিল একটি লজিস্টিক সমস্যা, এখন তা আত্মিক সংযোগের একটি সুযোগ। ভাষা পেরিয়ে আজ হৃদয়ও সংযুক্ত হচ্ছে।