ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির ৩ মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতপ্রার্থী চূড়ান্ত বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক রিটন সরকার একটা দেশের ভয়ে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে : এটিএম আজহারুল ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির কঠিন সমীকরণ, আলোচনায় যেসব প্রার্থী ব্যক্তিগত বরাদ্দের টাকা বাঁচিয়ে হলগুলোতে ১১ ডিপ ফ্রিজ দিলেন চাকসু ভিপি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস জাবিতে র‍্যাগিংয়ের দুই ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আসিফ মাহমুদকে যে কারণে ধন্যবাদ জানালেন মামুনুল হক

সরকার একটা দেশের ভয়ে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে : এটিএম আজহারুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন। সংসদে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শুনালেন, আমরা খুশি হলাম। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি, এটা খুব স্লো গতিতে যাচ্ছে। আমাদের কানে আসে কোনো এক দেশের ভয়ে এই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে।” বুধবার দুপুরে বগুড়ায় আসন্ন লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে সতর্ক করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা পরিষ্কার বলতে চাই—চব্বিশের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। যারা অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশকে শাসন করতে চেয়েছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সুতরাং আপনারা ১৮ কোটি মানুষের ওপর আস্থা না রেখে কোনো দেশের ভয়-ভীতিতে ভীত হয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেবেন না। আপনারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করুন, আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।”

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে দুটি ভোট গ্রহণ করা হয়—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অপরটি গণভোট। তার দাবি, ওই গণভোটে দেশবাসী প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দিয়ে বিজয়ী করেছে। কিন্তু বিএনপি এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে এবং বিভিন্ন অজুহাতের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি সেই শপথ নেয়নি। বর্তমান সরকারের ছয় মাসে দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধী দল সংসদে সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এ কারণে জনগণের কথা বলার জন্য আমরা রাজপথে লংমার্চ করছি। জনগণ ফুঁসে উঠছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। হাসিনার মতো আপনারাও স্বৈরাচার হওয়ার চেষ্টা করবেন না। জনগণের ভাষা বুঝতে না পারলে আপনাদের পরিণতিও পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে।”

জামায়াতের এই নেতা বলেন, চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম দফার লংমার্চ সফল হওয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিন সকাল ৮টায় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে রংপুরে গিয়ে শেষ হবে। পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ও বগুড়ার মাটিডালিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

লংমার্চে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান এটিএম আজহারুল ইসলাম। কর্মসূচি সফল করতে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান, জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নওগাঁ জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু সায়েম, এলডিপির বগুড়া জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সায়েম মাহমুদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরকার একটা দেশের ভয়ে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে : এটিএম আজহারুল

আপডেট সময় : ১১:৪৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন। সংসদে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শুনালেন, আমরা খুশি হলাম। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি, এটা খুব স্লো গতিতে যাচ্ছে। আমাদের কানে আসে কোনো এক দেশের ভয়ে এই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে।” বুধবার দুপুরে বগুড়ায় আসন্ন লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে সতর্ক করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা পরিষ্কার বলতে চাই—চব্বিশের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। যারা অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশকে শাসন করতে চেয়েছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সুতরাং আপনারা ১৮ কোটি মানুষের ওপর আস্থা না রেখে কোনো দেশের ভয়-ভীতিতে ভীত হয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেবেন না। আপনারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করুন, আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।”

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে দুটি ভোট গ্রহণ করা হয়—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অপরটি গণভোট। তার দাবি, ওই গণভোটে দেশবাসী প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দিয়ে বিজয়ী করেছে। কিন্তু বিএনপি এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে এবং বিভিন্ন অজুহাতের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি সেই শপথ নেয়নি। বর্তমান সরকারের ছয় মাসে দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধী দল সংসদে সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এ কারণে জনগণের কথা বলার জন্য আমরা রাজপথে লংমার্চ করছি। জনগণ ফুঁসে উঠছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। হাসিনার মতো আপনারাও স্বৈরাচার হওয়ার চেষ্টা করবেন না। জনগণের ভাষা বুঝতে না পারলে আপনাদের পরিণতিও পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে।”

জামায়াতের এই নেতা বলেন, চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম দফার লংমার্চ সফল হওয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিন সকাল ৮টায় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে রংপুরে গিয়ে শেষ হবে। পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ও বগুড়ার মাটিডালিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

লংমার্চে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান এটিএম আজহারুল ইসলাম। কর্মসূচি সফল করতে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান, জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নওগাঁ জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু সায়েম, এলডিপির বগুড়া জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সায়েম মাহমুদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।