ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের প্রথম সাক্ষী হলো মেক্সিকো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০২৪ ১৮ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:


অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রথমবারের মতো দেখেছেন মেক্সিকোর মাজাতলানের বাসিন্দারা। ইস্টার্ন টাইম জোন অনুযায়ী ২টা ৭ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়, যা ৪ মিনিটেরও বেশি সময় স্থায়ী ছিল। এর মধ্য দিয়ে মহাজাগতিক বিরল এই সূর্যগ্রহণের প্রথম হয়েছে সাক্ষী মেক্সিকো।

সোমবার (৮ এপ্রিল) মেক্সিকোতে এই সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ সময় অপেক্ষারত জনগণ উচ্ছ্বাসভরে এটি প্রত্যক্ষ করে। এমনটা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মেক্সিকোর সমুদ্রসৈকত লাগোয়া শহর মাজাতলানে উত্তর আমেরিকার প্রধান দর্শনীয় স্থান। এখানে জড়ো হয় হাজার হাজার লোক। সৌর-নিরাপদ চশমাসহ ডেক চেয়ারে বা মাটিতে শুয়ে প্রস্তুতি নেয় সবাই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্থানীয় সময় ২টা ৭ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। এ সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। অঞ্চলটি তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিরল এ দৃশ্য দেখে জনগণ উল্লাস ও করতালিতে ফেটে পড়ে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করেছে রয়টার্স। এ সময় তারা জানায়, সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার কক্ষপথে চাঁদের আগমন হয়। চাঁদের ছায়ায় পৃথিবীর একটা অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে তৈরি হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ফলে পৃথিবীর ওই অংশে নেমে আসে রাতের মতো অন্ধকার। মহাজাগতিক এমন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখার জন্য কোটি কোটি মানুষ উন্মুখ হয়ে ছিল।

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে টেক্সাস হয়ে কানাডায় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি রাজ্যে প্রসারিত হয় অন্ধকার। সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে বিশেষ চশমা পরে টেক্সাসের বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ।

এ ছাড়া স্পেন, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ অন্য আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকরা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। তবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সৌভাগ্য হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলে দিয়েছেন, খালি চোখে এটি প্রত্যক্ষ করলে চোখে সমস্যা হতে পারে। চোখের ক্ষতি রোধে প্রতিরক্ষামূলক সৌর চশমা ব্যবহার করার আহ্বান জানান তারা। শুধু কয়েক মিনিটের জন্য এই ধরনের চশমা ছাড়া বাকি সময় সূর্যকে নিরাপদে দেখা যেতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, সোমবারের গ্রহণের বিশেষত্ব হলো এর স্থায়িত্ব। অপেক্ষাকৃত বেশি সময় টানা চার মিনিট চাঁদের ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে থাকে সূর্য, যা গত ৫০ বছরে কখনও কোনও গ্রহণেই হয়নি। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময়ে ওই চার মিনিট ধরে সূর্যের বাহ্যিক স্তর করোনার আভা স্পষ্ট দেখা যায়।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের প্রথম সাক্ষী হলো মেক্সিকো

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০২৪

নিউজ ডেস্ক:


অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রথমবারের মতো দেখেছেন মেক্সিকোর মাজাতলানের বাসিন্দারা। ইস্টার্ন টাইম জোন অনুযায়ী ২টা ৭ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়, যা ৪ মিনিটেরও বেশি সময় স্থায়ী ছিল। এর মধ্য দিয়ে মহাজাগতিক বিরল এই সূর্যগ্রহণের প্রথম হয়েছে সাক্ষী মেক্সিকো।

সোমবার (৮ এপ্রিল) মেক্সিকোতে এই সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ সময় অপেক্ষারত জনগণ উচ্ছ্বাসভরে এটি প্রত্যক্ষ করে। এমনটা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মেক্সিকোর সমুদ্রসৈকত লাগোয়া শহর মাজাতলানে উত্তর আমেরিকার প্রধান দর্শনীয় স্থান। এখানে জড়ো হয় হাজার হাজার লোক। সৌর-নিরাপদ চশমাসহ ডেক চেয়ারে বা মাটিতে শুয়ে প্রস্তুতি নেয় সবাই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্থানীয় সময় ২টা ৭ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। এ সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। অঞ্চলটি তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিরল এ দৃশ্য দেখে জনগণ উল্লাস ও করতালিতে ফেটে পড়ে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করেছে রয়টার্স। এ সময় তারা জানায়, সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার কক্ষপথে চাঁদের আগমন হয়। চাঁদের ছায়ায় পৃথিবীর একটা অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে তৈরি হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ফলে পৃথিবীর ওই অংশে নেমে আসে রাতের মতো অন্ধকার। মহাজাগতিক এমন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখার জন্য কোটি কোটি মানুষ উন্মুখ হয়ে ছিল।

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে টেক্সাস হয়ে কানাডায় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি রাজ্যে প্রসারিত হয় অন্ধকার। সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে বিশেষ চশমা পরে টেক্সাসের বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ।

এ ছাড়া স্পেন, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ অন্য আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকরা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। তবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সৌভাগ্য হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলে দিয়েছেন, খালি চোখে এটি প্রত্যক্ষ করলে চোখে সমস্যা হতে পারে। চোখের ক্ষতি রোধে প্রতিরক্ষামূলক সৌর চশমা ব্যবহার করার আহ্বান জানান তারা। শুধু কয়েক মিনিটের জন্য এই ধরনের চশমা ছাড়া বাকি সময় সূর্যকে নিরাপদে দেখা যেতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, সোমবারের গ্রহণের বিশেষত্ব হলো এর স্থায়িত্ব। অপেক্ষাকৃত বেশি সময় টানা চার মিনিট চাঁদের ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে থাকে সূর্য, যা গত ৫০ বছরে কখনও কোনও গ্রহণেই হয়নি। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময়ে ওই চার মিনিট ধরে সূর্যের বাহ্যিক স্তর করোনার আভা স্পষ্ট দেখা যায়।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি