ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রেনের বগি পড়ে ঘর চুরমার, আশ্রয়হীন বৃদ্ধ দম্পতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:


কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ঢুলিয়া ইউনিয়নের তেজের বাজার উরকুটি এলাকায় রেললাইনের পাশে ঘর তৈরি করে থাকতেন ৭৮ বছর বয়সী চাঁন মিয়া ও মনোয়ারা বেগম (৬৫) দম্পতি। ২০ বছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতার ছোট টিনের ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করতেন তারা।

চাঁন মিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের নাম নাসির মিয়া। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। বউ নিয়ে ঢাকায় থাকেন। মেয়ে সাহিদা বেগম স্বামীর সঙ্গে কুমিল্লা সদর উপজেলার শাহাপাড়া এলাকায় থাকেন।

রোববার (১৭ মার্চ) দুপুরে তেজের বাজার এলাকায় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। কয়েকটি বগি লাইনের পাশে গিয়ে পড়ে।

দুপুরে ঘরের পাশে গাছের নিচে বসে কথা বলছিলেন চাঁন মিয়া ও মনোয়ারা। হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। মূহুর্তের মধ্যে কিছু বুঝে উঠার আগে ট্রেনের একটি বগি ছিটকে এসে পড়ে তাদের ঘরের উপর। বগির এক অংশের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে পড়ে চাঁন মিয়া ও মনোয়ারা। চোখের সামনে ঘরটি চুরমার হয়ে যায়।

চাঁন মিয়ার শরীরে আঘাত লাগে। তার চোখে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। শরীরে আঘাত নিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ আশ্রয়স্থল ভেঙে যাওয়ায় আর্তনাদ করছিলেন তিনি। সারা দিন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া চাল, ডাল, তেল, আলু, টমেটো মাটিতে পড়ে ছিল।

চাঁন মিয়া বলেন, ‘অল্পের লাইজ্ঞা আমি বাইচ্চা গেছি। বগি আমার ঘরের উপর পড়ছে। আমার সব কিছু শেষ। আমি এহন কই থাইক্কাম। আমার কাম করার শক্তি নাই। মানুষের কাছ থাইক্কা খুইজ্জা খাই। আমার ঘরের সব কিছু শেষ হইয়া গেছে। আমারে এহন কেডা সাহায্য করব?’

চাঁন মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ঘরে চারটা হাঁস আছিল। হাঁসগুলোও মইরা গেছে। আমার জামাই বগির লগে ধাক্কা লাইজ্ঞা ব্যথা পাইছে। এখন কেডা আমাগোর সাহায্য করব?’


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ট্রেনের বগি পড়ে ঘর চুরমার, আশ্রয়হীন বৃদ্ধ দম্পতি

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪

নিউজ ডেস্ক:


কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ঢুলিয়া ইউনিয়নের তেজের বাজার উরকুটি এলাকায় রেললাইনের পাশে ঘর তৈরি করে থাকতেন ৭৮ বছর বয়সী চাঁন মিয়া ও মনোয়ারা বেগম (৬৫) দম্পতি। ২০ বছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতার ছোট টিনের ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করতেন তারা।

চাঁন মিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের নাম নাসির মিয়া। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। বউ নিয়ে ঢাকায় থাকেন। মেয়ে সাহিদা বেগম স্বামীর সঙ্গে কুমিল্লা সদর উপজেলার শাহাপাড়া এলাকায় থাকেন।

রোববার (১৭ মার্চ) দুপুরে তেজের বাজার এলাকায় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। কয়েকটি বগি লাইনের পাশে গিয়ে পড়ে।

দুপুরে ঘরের পাশে গাছের নিচে বসে কথা বলছিলেন চাঁন মিয়া ও মনোয়ারা। হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। মূহুর্তের মধ্যে কিছু বুঝে উঠার আগে ট্রেনের একটি বগি ছিটকে এসে পড়ে তাদের ঘরের উপর। বগির এক অংশের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে পড়ে চাঁন মিয়া ও মনোয়ারা। চোখের সামনে ঘরটি চুরমার হয়ে যায়।

চাঁন মিয়ার শরীরে আঘাত লাগে। তার চোখে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। শরীরে আঘাত নিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ আশ্রয়স্থল ভেঙে যাওয়ায় আর্তনাদ করছিলেন তিনি। সারা দিন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া চাল, ডাল, তেল, আলু, টমেটো মাটিতে পড়ে ছিল।

চাঁন মিয়া বলেন, ‘অল্পের লাইজ্ঞা আমি বাইচ্চা গেছি। বগি আমার ঘরের উপর পড়ছে। আমার সব কিছু শেষ। আমি এহন কই থাইক্কাম। আমার কাম করার শক্তি নাই। মানুষের কাছ থাইক্কা খুইজ্জা খাই। আমার ঘরের সব কিছু শেষ হইয়া গেছে। আমারে এহন কেডা সাহায্য করব?’

চাঁন মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ঘরে চারটা হাঁস আছিল। হাঁসগুলোও মইরা গেছে। আমার জামাই বগির লগে ধাক্কা লাইজ্ঞা ব্যথা পাইছে। এখন কেডা আমাগোর সাহায্য করব?’


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি