ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরে দালাল মারফতে মালশিয়া গিয়ে জিম্মি মুক্তিপন দাবিতে নির্যাতন

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ৮২ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


সংসারে সাচ্ছন্দ্য ও ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় দালাল মারফতে মালশিয়া পাড়ি দিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপনের জন্য মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার কারনে মানুষিক রোগী হয়ে দেশে ফিরেছেন সবুজ নামের এক যুবক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । মুক্তিপন হিসেবে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা পাঠালে ছেড়ে দেয় যুবক কে। মালশিয়া যাওয়া যুবকের নাম সবুজ আলী।

তার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন (ইউপির) ছাঐড় গ্রামে। সে ইমদাদুলের পুত্র। নির্যাতিত যুবক সবুজ (২২) মানুষিক রোগী হয়ে চলতি মাসের ১৭ অক্টোবর বাড়িতে আসেন। এঘটনায় সবুজের পিতা ইমদাদুল বাদি হয়ে গত ১৮ অক্টোবর দালাল ছাঐড় গ্রামের বাবুন ও তার ছেলে আপনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে সবুজ আসার খবর জানতে পেরে দালাল লাপাত্তা হয়েছেন। শুধু সবুজ না দালাল বাবুন বেশকিছু ব্যক্তিকে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে মালেশিয়াতে পাঠিয়ে বিভিন্ন কায়দায় মুক্তিপন দাবি করেন বলেও অহরহ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একদিকে ছেলে কে বিদেশে পাঠিয়ে হয়ে এসেছেন মানুষিক রোগী, অপর দিকে ১০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় পিতা ইমদাদ।

 

ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দালালকে আইনের আওতায় এনে খোয়া যাওয়া টাকা ফেরতের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসী। তানাহলে ছেলে ও টাকার চিন্তায় হয়তো পিতা মাতাও মানষি রোগী হতে পারেন বলেও আশঙ্কা গ্রাম বাসীর।

নির্যাতিত বিদেশ ফেরত সবুজের পিতা জানান, আমার ছেলেকে কোনভাবেই বিদেশ পাঠাবনা। কিন্তু দালাল বাবুন আমার ছেলেকে নানা ভাবে প্রলোভন দেয়া শুরু করেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার ছেলে মালেশিয়াতে যায়। যাওয়ার পর থেকে ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম না। দালালকে একাধিকবার বলা হলেও সে বলত আপনার ছেলে ভালো আছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই টাকা পাঠানো শুরু করবে।

এক মাস পর আমার ছেলে কান্না করতে করতে মোবাইল করে বলে আমাকে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছে, আমাকে খেতে দেয়া হচ্ছে না, চোখ মুখ কালো কাপড়ে বেধে নির্যাতন করছে, যেভাবে হোক টাকা পাঠান না হলে আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে জীবিত দেখতে চাইলে তাদের চাহিদামত টাকা দিতেই হবে। বাধ্য হয়ে ইসলামি ব্যাংক তানোর শাখার মারফতে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা চলতি মাসের ১০/১০/২০২০৩ ইং তারিখে পাঠিয়ে দিই।

টাকা দেয়ার পর তারা আমার ছেলেকে মুক্তি দেয়।মালশিয়া থেকে দেশে আনার জন্য বিমানের টিকিটসহ আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে আরো ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা দিলে আমার ছেলে দেশে আসেন। ঢাকা থেকে ২৬ হাজার টাকায় মাইক্রো ভাড়া করে বাড়িতে নিয়ে আসি। আমার ছেলের পুরো শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। সঠিক ভাবে কথাবার্তা বলতে পারছিনা। দালাল বাবুনকেও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ছেলে আপনকে টাকা ফেরতের কথা বলা হলে সেও সাব বলে দিচ্ছে আমার বাবা আসলে তার সাথে কথা বলে সমাধান করেন। আমি এখন পথের ভিখারি হয়ে পড়েছি।

সবুজের মা বলেন, আমার ছেলে কে এত পরিমান নির্যাতন করেছে বলাই কষ্টকর।পুরো শরীরে জখম। একেবারেই মানষিক রোগী হয়ে গেছে। কত আসা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাঠালাম আর আমার ছেলে পাগল হয়ে আসল। এখন কিভাবে সংসার চালাবে কিভাবে ঋন পরিশোধ করব, নাকি ছেলের চিকিৎসা করাব।ছেলের বাবাও মনে হয় পাগল হয়ে যাবে। আমার ছেলে শুয়ে থাকা অবস্থায় ঘুমের ঘরে চিৎকার দিচ্ছে, আর বলছে আমাকে মের না খেতে দাও, নইলে মরে যাব।

দালালকে ধরে এনে আমাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।

অভিযোগে উল্লেখ, দালাল বাবুনের আকর্ষনীয় প্রলোভনে চলতি বছরের ১১ জুলাই ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মালেশিয়াতে পাঠায় সবুজ কে। সেখানে যাওয়ার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবারের সাথে। প্রায় এক মাস পর মালশিয়া থেকে সবুজ কে দিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করে দালাল বাবুনের লোকজনরা।ছেলেকে বাচাতে ঘটিবাটি বিক্রি ও ঋন মহাজন করে চলতি মাসের ১০/১০/২০২৩ ইং তারিখে টাকা পাঠায়। মালশিয়া থেকে দেশে আসতে আরো ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা পাঠায় কোরবান নামের এক ব্যক্তির কাছে।

তিনি টাকা পাওয়ার পর বিমানের টিকিট সহ যাবতীয় কাগজপত্র দিয়ে সবুজকে দেশে পাঠায় । বর্তমানে সবুজ মানষিক রোগী হয়ে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে আছেন। তবে দালাল বাবুন এলাকায় না থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম বলেন, অভিযোগ হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে দালাল মারফতে মালশিয়া গিয়ে জিম্মি মুক্তিপন দাবিতে নির্যাতন

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


সংসারে সাচ্ছন্দ্য ও ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় দালাল মারফতে মালশিয়া পাড়ি দিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপনের জন্য মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার কারনে মানুষিক রোগী হয়ে দেশে ফিরেছেন সবুজ নামের এক যুবক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । মুক্তিপন হিসেবে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা পাঠালে ছেড়ে দেয় যুবক কে। মালশিয়া যাওয়া যুবকের নাম সবুজ আলী।

তার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন (ইউপির) ছাঐড় গ্রামে। সে ইমদাদুলের পুত্র। নির্যাতিত যুবক সবুজ (২২) মানুষিক রোগী হয়ে চলতি মাসের ১৭ অক্টোবর বাড়িতে আসেন। এঘটনায় সবুজের পিতা ইমদাদুল বাদি হয়ে গত ১৮ অক্টোবর দালাল ছাঐড় গ্রামের বাবুন ও তার ছেলে আপনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে সবুজ আসার খবর জানতে পেরে দালাল লাপাত্তা হয়েছেন। শুধু সবুজ না দালাল বাবুন বেশকিছু ব্যক্তিকে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে মালেশিয়াতে পাঠিয়ে বিভিন্ন কায়দায় মুক্তিপন দাবি করেন বলেও অহরহ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একদিকে ছেলে কে বিদেশে পাঠিয়ে হয়ে এসেছেন মানুষিক রোগী, অপর দিকে ১০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় পিতা ইমদাদ।

 

ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দালালকে আইনের আওতায় এনে খোয়া যাওয়া টাকা ফেরতের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসী। তানাহলে ছেলে ও টাকার চিন্তায় হয়তো পিতা মাতাও মানষি রোগী হতে পারেন বলেও আশঙ্কা গ্রাম বাসীর।

নির্যাতিত বিদেশ ফেরত সবুজের পিতা জানান, আমার ছেলেকে কোনভাবেই বিদেশ পাঠাবনা। কিন্তু দালাল বাবুন আমার ছেলেকে নানা ভাবে প্রলোভন দেয়া শুরু করেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার ছেলে মালেশিয়াতে যায়। যাওয়ার পর থেকে ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম না। দালালকে একাধিকবার বলা হলেও সে বলত আপনার ছেলে ভালো আছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই টাকা পাঠানো শুরু করবে।

এক মাস পর আমার ছেলে কান্না করতে করতে মোবাইল করে বলে আমাকে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছে, আমাকে খেতে দেয়া হচ্ছে না, চোখ মুখ কালো কাপড়ে বেধে নির্যাতন করছে, যেভাবে হোক টাকা পাঠান না হলে আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে জীবিত দেখতে চাইলে তাদের চাহিদামত টাকা দিতেই হবে। বাধ্য হয়ে ইসলামি ব্যাংক তানোর শাখার মারফতে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা চলতি মাসের ১০/১০/২০২০৩ ইং তারিখে পাঠিয়ে দিই।

টাকা দেয়ার পর তারা আমার ছেলেকে মুক্তি দেয়।মালশিয়া থেকে দেশে আনার জন্য বিমানের টিকিটসহ আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে আরো ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা দিলে আমার ছেলে দেশে আসেন। ঢাকা থেকে ২৬ হাজার টাকায় মাইক্রো ভাড়া করে বাড়িতে নিয়ে আসি। আমার ছেলের পুরো শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। সঠিক ভাবে কথাবার্তা বলতে পারছিনা। দালাল বাবুনকেও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ছেলে আপনকে টাকা ফেরতের কথা বলা হলে সেও সাব বলে দিচ্ছে আমার বাবা আসলে তার সাথে কথা বলে সমাধান করেন। আমি এখন পথের ভিখারি হয়ে পড়েছি।

সবুজের মা বলেন, আমার ছেলে কে এত পরিমান নির্যাতন করেছে বলাই কষ্টকর।পুরো শরীরে জখম। একেবারেই মানষিক রোগী হয়ে গেছে। কত আসা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাঠালাম আর আমার ছেলে পাগল হয়ে আসল। এখন কিভাবে সংসার চালাবে কিভাবে ঋন পরিশোধ করব, নাকি ছেলের চিকিৎসা করাব।ছেলের বাবাও মনে হয় পাগল হয়ে যাবে। আমার ছেলে শুয়ে থাকা অবস্থায় ঘুমের ঘরে চিৎকার দিচ্ছে, আর বলছে আমাকে মের না খেতে দাও, নইলে মরে যাব।

দালালকে ধরে এনে আমাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।

অভিযোগে উল্লেখ, দালাল বাবুনের আকর্ষনীয় প্রলোভনে চলতি বছরের ১১ জুলাই ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মালেশিয়াতে পাঠায় সবুজ কে। সেখানে যাওয়ার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবারের সাথে। প্রায় এক মাস পর মালশিয়া থেকে সবুজ কে দিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করে দালাল বাবুনের লোকজনরা।ছেলেকে বাচাতে ঘটিবাটি বিক্রি ও ঋন মহাজন করে চলতি মাসের ১০/১০/২০২৩ ইং তারিখে টাকা পাঠায়। মালশিয়া থেকে দেশে আসতে আরো ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা পাঠায় কোরবান নামের এক ব্যক্তির কাছে।

তিনি টাকা পাওয়ার পর বিমানের টিকিট সহ যাবতীয় কাগজপত্র দিয়ে সবুজকে দেশে পাঠায় । বর্তমানে সবুজ মানষিক রোগী হয়ে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে আছেন। তবে দালাল বাবুন এলাকায় না থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম বলেন, অভিযোগ হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি