ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট না: ইসলামী আন্দোলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫ ৫১ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার প্রধান ক্ষেত্র হলো নির্বাচন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত, হানাহানি ও সহিংসতা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরে। শতশত মানুষ এই রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারায়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আমরা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিলাম। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, পরিস্থিতির আদতে কোনো উন্নতি হয় নাই। বরং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন কোন ক্ষেত্রে আরো খারাপ হয়েছে। বিগত এক বছরের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তথ্য তাই বলে।

সোমবার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩য় ও শেষ ধাপের প্রার্থী বাছাই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল দায়িত্বশীলদের থেকে যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এসেছে তাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতারা। আসনের সম্ভবনা, সংকট ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে একজনকে নির্ধারণ করা হয়। এর আগে আরো দুই দফা সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। দলটি দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনশত আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। একই সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিআর পদ্ধতিতে উভয়কক্ষে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবধরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুস্থির ও সাবলীল করতে উভয়কক্ষে আমরাসহ দেশের অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীরা দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার নিম্নকক্ষে পিআর নিয়ে কোনো আলোচনার এজেন্ডাই রাখে নাই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার সাম্প্রতিক নজির দেখা গেছে গাজীপুরে।

চাঁদাবাজির সংবাদ করায় প্রকাশ্য কুপিয়ে ও জবাই করে সাংবাদিক হত্যা করা হয়েছে । নির্বাচনের সময়ে সাংবাদিকরা যে অন্যায়, ভোটচুরি ও ভোট ডাকাতির তথ্য তুলে ধরবে তার সাহস কোথা থেকে পাবে সাংবাদিকরা? আমরা মনে করছি, আসন্ন নির্বাচনে সাংবাদিক বা অন্যকেউ ভোট সংক্রান্ত অন্যায়ের তথ্য প্রকাশে ভয় তৈরি করতেই এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাই যদি হয় তাহলে এবারের নির্বাচনও আগের মতোই কলঙ্কিত হবে। সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে যথেষ্ট মনে হচ্ছে না, ফলত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও তৈরি হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট না: ইসলামী আন্দোলন

আপডেট সময় : ১২:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
জাতীয় ডেস্ক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার প্রধান ক্ষেত্র হলো নির্বাচন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত, হানাহানি ও সহিংসতা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরে। শতশত মানুষ এই রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারায়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আমরা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিলাম। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, পরিস্থিতির আদতে কোনো উন্নতি হয় নাই। বরং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন কোন ক্ষেত্রে আরো খারাপ হয়েছে। বিগত এক বছরের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তথ্য তাই বলে।

সোমবার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩য় ও শেষ ধাপের প্রার্থী বাছাই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল দায়িত্বশীলদের থেকে যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এসেছে তাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতারা। আসনের সম্ভবনা, সংকট ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে একজনকে নির্ধারণ করা হয়। এর আগে আরো দুই দফা সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। দলটি দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনশত আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। একই সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিআর পদ্ধতিতে উভয়কক্ষে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবধরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুস্থির ও সাবলীল করতে উভয়কক্ষে আমরাসহ দেশের অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীরা দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার নিম্নকক্ষে পিআর নিয়ে কোনো আলোচনার এজেন্ডাই রাখে নাই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার সাম্প্রতিক নজির দেখা গেছে গাজীপুরে।

চাঁদাবাজির সংবাদ করায় প্রকাশ্য কুপিয়ে ও জবাই করে সাংবাদিক হত্যা করা হয়েছে । নির্বাচনের সময়ে সাংবাদিকরা যে অন্যায়, ভোটচুরি ও ভোট ডাকাতির তথ্য তুলে ধরবে তার সাহস কোথা থেকে পাবে সাংবাদিকরা? আমরা মনে করছি, আসন্ন নির্বাচনে সাংবাদিক বা অন্যকেউ ভোট সংক্রান্ত অন্যায়ের তথ্য প্রকাশে ভয় তৈরি করতেই এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাই যদি হয় তাহলে এবারের নির্বাচনও আগের মতোই কলঙ্কিত হবে। সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে যথেষ্ট মনে হচ্ছে না, ফলত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও তৈরি হচ্ছে না।