‘একাত্তরের পক্ষে না বিপক্ষে’-এর ভিত্তিতে রাজনীতি গ্রহণ করতে কেউ আগ্রহী নয়: ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাহিদ
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
নাহিদ লেখেন, যারা চব্বিশের লড়াইয়ে অংশ নিয়ে সেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন, আমরা একাত্তরকে অতিক্রম করেছি এবং চব্বিশে পৌঁছেছি। যারা এখনো একাত্তরের পক্ষে না বিপক্ষেÑএই পুরোনো রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা দেশকে একটি অচল রাজনৈতিক কাঠামোতে ফিরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু আমরা চব্বিশ থেকে একটি নতুন সূচনা চেয়েছি, যা চব্বিশের অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।
এনসিপির এই নেতা আরো লেখেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক করার জন্য মুজিববাদ এবং সব ধরনের কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করাই আমাদের দায়িত্ব। এই প্রজন্ম ইতোমধ্যেই একাত্তরকে অতিক্রম করে এসেছে। একাত্তরের পক্ষে না বিপক্ষেÑএই বাইনারির ওপর ভিত্তি করে তৈরি রাজনীতিকে গ্রহণ করতে কেউ আগ্রহী নয়। একাত্তর ইতিহাসে থাকবে রাষ্ট্রের একটি ভিত্তি এবং সম্মানজনক একটি নীতি হিসেবে। কিন্তু সেটি আর রাজনৈতিক বৈধতার ওপর আধিপত্য করবে না। সাতচল্লিশকেও একই ভাবে ঐতিহাসিক মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। কিন্তু এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কোনো হাতিয়ার হবে না। এর মানে এই নয় যে, আমরা এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা বা বিতর্ক করব না; বরং এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমরা আমাদের ঐতিহাসিক প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে পারি।
এখন রাজনীতি হতে হবে চব্বিশের মূল্যবোধের ভিত্তিতেÑএমন মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম ফেসবুক পোস্টে বলেন, যারা আবার একাত্তরে ফিরতে চায়, তারা চব্বিশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ অনেক রাজনৈতিক শক্তির জন্য ছিল এক ধরনের প্রায়শ্চিত্ত। কিন্তু সেই প্রায়শ্চিত্তের অর্থই হারিয়ে যাবে, যদি তারা বা আমরা আবার পুরোনো মতাদর্শের রাজনীতিতে ফিরে যাই। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুরোনো বাইনারি কাঠামোর পুনরুত্থান রোধ করা আমাদের দায়িত্ব।
চব্বিশ কখনোই প্রতিশোধের জন্য ছিল নাÑএমন মন্তব্য করে নাহিদ লিখেছেন, যারা চব্বিশকে প্রতিশোধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তারা এর অন্তর্নিহিত মর্মকে ভুলভাবে অনুধাবন করেছে। চব্বিশ হলো জাতীয় ঐক্য ও রিকন্সিলিয়েশনের (পুনর্মিলন) একটি ক্ষেত্র। এর চেতনা এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিহিত, যা ঐকমত্য, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্বের মাধ্যমে গড়ে উঠতে হবে; প্রতিশোধের চক্রের মাধ্যমে নয়।




















