ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির ৩ মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতপ্রার্থী চূড়ান্ত বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক রিটন সরকার একটা দেশের ভয়ে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে : এটিএম আজহারুল ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির কঠিন সমীকরণ, আলোচনায় যেসব প্রার্থী ব্যক্তিগত বরাদ্দের টাকা বাঁচিয়ে হলগুলোতে ১১ ডিপ ফ্রিজ দিলেন চাকসু ভিপি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস জাবিতে র‍্যাগিংয়ের দুই ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আসিফ মাহমুদকে যে কারণে ধন্যবাদ জানালেন মামুনুল হক

রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ৪

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহীতে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে হানি ট্র্যাপে ফেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীকে আটকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরের আলুপট্টি এলাকায় স্বচ্ছ টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

ওই রাতেই ভুক্তভোগী বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। পরে ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- নগরের বোয়ালিয়া থানার শেখপাড়া এলাকার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণ (২৯), রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান (২৪) ও শাহরিয়ার মনন (২৯) এবং বহরমপুর এলাকার জুনাইরা ইসলাম (২২)। তাঁদের মধ্যে আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক।

মামলার বাদীর (২৮) বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামে। তিনি রাজশাহী শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এজাহারে জানিয়েছেন, গত শনিবার সকাল আটটার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে আসেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে একটি বিসিএস কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে সেখানে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁকে গালিগালাজ করেন। পরে এক তরুণী ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের মধ্যকার সমস্যা সমাধানের কথা বলে ওই তিন ব্যক্তির সঙ্গে রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান।

সেখানে ১৫/এ নম্বর ফ্ল্যাটে ঢোকানোর পরপরই তাঁর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারধরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুটি শর্ত দেওয়া হয়। হয় তাঁদের সঙ্গে থাকা নারীকে ‘কট’ দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হবে, নতুবা এক লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গ্লুর টিনের বোতল দিয়ে আবার মারধর করা হয়। এ সময় ওই নারীকে পাশে বসিয়ে তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে রাবির সাবেক ওই শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকার করলে মুক্তিপণের পরিমাণ কমিয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন থেকে বড় বোনের নম্বরে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। তাঁকে উদ্ধারের জন্য তাঁর বোনের স্বামী কৃষি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে শাহরিয়ার মননের পূবালী ব্যাংক, রাজশাহী শাখার অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার ১০ টাকা পাঠান। এ ছাড়া মুজাহিদের কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকাও জোর করে নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিপণের ৪০ হাজার টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি কথা ডায়েরিতে লিখিয়ে রাবির সাবেক ওই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাঁর বোনের স্বামীর কাছ থেকে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশট নিয়ে টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাঁকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামিরা পেছন পেছন গিয়ে তাঁকে অটোরিকশায় তুলে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, যে ফ্ল্যাটে ওই যুবককে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটির মালিক রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী খন্দকার হাসান কবির। গ্রেপ্তার আসামি মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে স্মরণ হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজারের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে খন্দকার হাসান কবির বলেন, ফ্ল্যাটটির মালিক তিনি। সেখানে তিনি ও তাঁর বড় ছেলে মাঝেমধ্যে থাকেন। হোটেল ম্যানেজারের কাছ থেকে চাবি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আসামিরা একটি ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটটি খুলে ভেতরে ঢুকেছিল।

আসামি আবু রায়হানের বাবা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তাঁর ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বন্ধুরা বিপদে পড়ায় তাঁদের উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। তাঁর ছেলে ‘ফাঁদে ফেলার’ সঙ্গে জড়িত—পুলিশের এমন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে বেশি কথা বলেছে, সে কারণে পুলিশ এমনটি বলতে পারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। রোববার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় : ০৩:২২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহীতে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে হানি ট্র্যাপে ফেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীকে আটকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরের আলুপট্টি এলাকায় স্বচ্ছ টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

ওই রাতেই ভুক্তভোগী বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। পরে ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- নগরের বোয়ালিয়া থানার শেখপাড়া এলাকার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণ (২৯), রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান (২৪) ও শাহরিয়ার মনন (২৯) এবং বহরমপুর এলাকার জুনাইরা ইসলাম (২২)। তাঁদের মধ্যে আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক।

মামলার বাদীর (২৮) বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামে। তিনি রাজশাহী শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এজাহারে জানিয়েছেন, গত শনিবার সকাল আটটার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে আসেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে একটি বিসিএস কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে সেখানে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁকে গালিগালাজ করেন। পরে এক তরুণী ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের মধ্যকার সমস্যা সমাধানের কথা বলে ওই তিন ব্যক্তির সঙ্গে রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান।

সেখানে ১৫/এ নম্বর ফ্ল্যাটে ঢোকানোর পরপরই তাঁর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারধরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুটি শর্ত দেওয়া হয়। হয় তাঁদের সঙ্গে থাকা নারীকে ‘কট’ দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হবে, নতুবা এক লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গ্লুর টিনের বোতল দিয়ে আবার মারধর করা হয়। এ সময় ওই নারীকে পাশে বসিয়ে তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে রাবির সাবেক ওই শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকার করলে মুক্তিপণের পরিমাণ কমিয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন থেকে বড় বোনের নম্বরে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। তাঁকে উদ্ধারের জন্য তাঁর বোনের স্বামী কৃষি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে শাহরিয়ার মননের পূবালী ব্যাংক, রাজশাহী শাখার অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার ১০ টাকা পাঠান। এ ছাড়া মুজাহিদের কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকাও জোর করে নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিপণের ৪০ হাজার টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি কথা ডায়েরিতে লিখিয়ে রাবির সাবেক ওই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাঁর বোনের স্বামীর কাছ থেকে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশট নিয়ে টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাঁকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামিরা পেছন পেছন গিয়ে তাঁকে অটোরিকশায় তুলে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, যে ফ্ল্যাটে ওই যুবককে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটির মালিক রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী খন্দকার হাসান কবির। গ্রেপ্তার আসামি মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে স্মরণ হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজারের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে খন্দকার হাসান কবির বলেন, ফ্ল্যাটটির মালিক তিনি। সেখানে তিনি ও তাঁর বড় ছেলে মাঝেমধ্যে থাকেন। হোটেল ম্যানেজারের কাছ থেকে চাবি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আসামিরা একটি ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটটি খুলে ভেতরে ঢুকেছিল।

আসামি আবু রায়হানের বাবা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তাঁর ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বন্ধুরা বিপদে পড়ায় তাঁদের উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। তাঁর ছেলে ‘ফাঁদে ফেলার’ সঙ্গে জড়িত—পুলিশের এমন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে বেশি কথা বলেছে, সে কারণে পুলিশ এমনটি বলতে পারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। রোববার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।