সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
- আপডেট সময় : ১১:৩১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। যোগদানের অপেক্ষায় থাকা ১৪ হাজার শিক্ষকের পদায়নের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি যে নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। ১৪ হাজারের ফিক্সড হয়ে গেলে নতুন করে আবার চালু হবে। তখন এটা নেওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করব। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরো নিড বেসড মানে ফাইনান্সিয়াল নিড বেস হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইনান্সিয়াল নিড বেসিসের ওপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরো বাড়ে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮.৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে এখনও একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শনের মূলকথা হলো-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতায় সমৃদ্ধ নাগরিক।
জীবনদক্ষতা, জীবিকায়ন ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন, ২০১৪-এর আওতায় বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু এবং নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর জন্য বয়স ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা, কার্যকর সাক্ষরতা, জীবনদক্ষতা, জীবিকায়ন ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদ্যালয়বহির্ভূত কিশোর-কিশোরীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো SKILFO (Skill Focused Literacy for Out of School Adolescent) পাইলট প্রকল্প। কক্সবাজার জেলায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ৬,৮২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে ১৩টি অকুপেশনে মৌলিক সাক্ষরতা, গণনা দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাক্ষরতাকে কর্মদক্ষতা ও জীবিকায়নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি কার্যকর মডেল তৈরি হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রতি জেলায় ৮০ জন করে মোট ৫,১২০ জন ১৫-২৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৪৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ, যার মধ্যে ১০০ ঘণ্টা কার্যকর সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশিক্ষণটি বিএনকিউএফ কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে।
এই কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষা থেকে কর্মে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি। ইতোমধ্যে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত ৪,৩১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪,১৯৮ জন কম্পিটেন্ট হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩,৮৮২ জন, অর্থাৎ ৯২.৪৭ শতাংশ কম্পিটেন্ট শিক্ষার্থী, কোনো না কোনো ধরনের জব লিংকেজ পেয়েছে। এর মধ্যে ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছে, ৮৭৯ জন শোভন কাজে শিক্ষানবীশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে, ১,৩০৪ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মে যুক্ত হয়েছে এবং ৪৮৯ জন উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্যে মেন্টরের অধীনে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া ৪৫৮ জন BNQF Level-১ এবং ১০৪ জন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের SSC (ভোকেশনাল) কার্যক্রমে ভর্তি হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে-সাক্ষরতা যখন দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।




















