ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক-আটক ৩

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় তিন মাস বয়সি এক শিশুর পা মুচড়ে দিচ্ছে তার আপন চাচি। এ ঘটনার পর নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২)। এর আগে, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয় বলে জানান ওসি।

শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ সময় একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়।

অপরদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক-আটক ৩

আপডেট সময় : ১১:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় তিন মাস বয়সি এক শিশুর পা মুচড়ে দিচ্ছে তার আপন চাচি। এ ঘটনার পর নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২)। এর আগে, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয় বলে জানান ওসি।

শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ সময় একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়।

অপরদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।