ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ী ভূমি অফিসের পিয়নের বিরুদ্ধে পুকুর ইজারা বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) আতিকুর রহমান (আতিক)-এর বিরুদ্ধে খাস পুকুর ইজারা কার্যক্রমে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা  রবিউল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থাকলেও  আতিকুর রহমান খাস পুকুরের লিজ সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল ও কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। কোনো ব্যক্তি খাস পুকুর লিজ নেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি খাস পুকুরের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রেও অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলা ১৪৩৩-১৪৩৫ সনের (প্রথম মেয়াদ) লিজযোগ্য প্রকাশিত ও অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়-এমন কিছু খাস পুকুর কম মূল্যে বন্দোবস্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারী এ দাবির সমর্থনে অর্থ আদায়ের কয়েকটি রসিদের কপিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি খাস পুকুরের লিজ চুক্তিনামা সম্পাদনের জন্য দলিলপ্রতি এক হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া পুকুর সংক্রান্ত তথ্য, জাবেদা নকল এবং অন্যান্য সরকারি সেবা পেতেও অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে অফিসে এসে কথা বলার কথা জানান। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, তিনি একটি জরুরি সভায় ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে আলোচনা করতে বলেন।

গোদাগাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কেউ করে থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগকারী মো. রবিউল ইসলাম জানান, একই অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, জলমহাল ও খাস পুকুর ইজারাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রের সদস্যরা বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে ইজারা কার্যক্রমে সুবিধা নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গোদাগাড়ী ভূমি অফিসের পিয়নের বিরুদ্ধে পুকুর ইজারা বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) আতিকুর রহমান (আতিক)-এর বিরুদ্ধে খাস পুকুর ইজারা কার্যক্রমে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা  রবিউল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থাকলেও  আতিকুর রহমান খাস পুকুরের লিজ সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল ও কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। কোনো ব্যক্তি খাস পুকুর লিজ নেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি খাস পুকুরের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রেও অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলা ১৪৩৩-১৪৩৫ সনের (প্রথম মেয়াদ) লিজযোগ্য প্রকাশিত ও অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়-এমন কিছু খাস পুকুর কম মূল্যে বন্দোবস্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারী এ দাবির সমর্থনে অর্থ আদায়ের কয়েকটি রসিদের কপিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি খাস পুকুরের লিজ চুক্তিনামা সম্পাদনের জন্য দলিলপ্রতি এক হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া পুকুর সংক্রান্ত তথ্য, জাবেদা নকল এবং অন্যান্য সরকারি সেবা পেতেও অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে অফিসে এসে কথা বলার কথা জানান। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, তিনি একটি জরুরি সভায় ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে আলোচনা করতে বলেন।

গোদাগাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কেউ করে থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগকারী মো. রবিউল ইসলাম জানান, একই অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, জলমহাল ও খাস পুকুর ইজারাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রের সদস্যরা বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে ইজারা কার্যক্রমে সুবিধা নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।