ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী নীতি থাকলে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জিত হবে: চরমোনাই পীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামী নীতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জিত হবে। রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে এ ভাষণ প্রচার করা হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার, রাষ্ট্রগঠন ও সংস্কার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইশতেহারের মৌলিক অংশ ও বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন। ভাষণে চরমোনাই পীর রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রচলিত মূলনীতির পরিবর্তে নতুন মূলনীতি প্রস্তাব করে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, শরীয়াহ কেবল একটি আইনের নাম নয়; বরং মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলাম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এসব নীতির মধ্যে রয়েছে ইনসাফভিত্তিক বিচারব্যবস্থা, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সম্মান-মর্যাদা নিশ্চিত করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এসব মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

ভোট প্রদানের ইসলামী নীতি তুলে ধরে চরমোনাই পীর জাতিকে সতর্ক করে বলেন, ভালো নীতি ও সৎ ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিলে তার সুফলের অংশ ভোটদাতার আমলনামায় যুক্ত হবে, আর খারাপ নীতি ও অসৎ ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিলে তার কৃত অপরাধের দায়ও ভাগ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয় নয়, এটি একইসাথে পরকালীন বিষয়ও। তাই ভোট প্রদানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি। ভাষণে সংক্ষিপ্ত আকারে দলের ইশতেহারের কাঠামো তুলে ধরে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঁচটি ভাগে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান—রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন, ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ, সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও সম্মান রক্ষা, সহযোগিতামূলক বৈদেশিক সম্পর্ক, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, বৈষম্য-বিরোধিতা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।

রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে দলের ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ, সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ এবং স্বনির্ভর, শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভাষণের শেষাংশে চরমোনাই পীর তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের প্রথম ভোট যেন ইসলামের পক্ষে ও পরিবর্তনের পক্ষে যায়। একইসাথে প্রশাসনে কর্তব্যরতদের সব ধরনের ভয় ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র : বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী নীতি থাকলে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জিত হবে: চরমোনাই পীর

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামী নীতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জিত হবে। রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে এ ভাষণ প্রচার করা হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার, রাষ্ট্রগঠন ও সংস্কার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইশতেহারের মৌলিক অংশ ও বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন। ভাষণে চরমোনাই পীর রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রচলিত মূলনীতির পরিবর্তে নতুন মূলনীতি প্রস্তাব করে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, শরীয়াহ কেবল একটি আইনের নাম নয়; বরং মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলাম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এসব নীতির মধ্যে রয়েছে ইনসাফভিত্তিক বিচারব্যবস্থা, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সম্মান-মর্যাদা নিশ্চিত করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এসব মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

ভোট প্রদানের ইসলামী নীতি তুলে ধরে চরমোনাই পীর জাতিকে সতর্ক করে বলেন, ভালো নীতি ও সৎ ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিলে তার সুফলের অংশ ভোটদাতার আমলনামায় যুক্ত হবে, আর খারাপ নীতি ও অসৎ ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিলে তার কৃত অপরাধের দায়ও ভাগ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয় নয়, এটি একইসাথে পরকালীন বিষয়ও। তাই ভোট প্রদানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি। ভাষণে সংক্ষিপ্ত আকারে দলের ইশতেহারের কাঠামো তুলে ধরে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঁচটি ভাগে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান—রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন, ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ, সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও সম্মান রক্ষা, সহযোগিতামূলক বৈদেশিক সম্পর্ক, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, বৈষম্য-বিরোধিতা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।

রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে দলের ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ, সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ এবং স্বনির্ভর, শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভাষণের শেষাংশে চরমোনাই পীর তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের প্রথম ভোট যেন ইসলামের পক্ষে ও পরিবর্তনের পক্ষে যায়। একইসাথে প্রশাসনে কর্তব্যরতদের সব ধরনের ভয় ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র : বাসস