ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী-৫ আসন রাজনীতিতে ছড়াচ্ছে নির্বাচনি উত্তাপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে ঘিরে নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতিতে । দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটের মাঠে থাকায় বহিষ্কার হলেও তারা নির্বাচনে অনড় । এতে একদিকে বিএনপির অভ্যন্তরে বিভক্তি ও অস্বস্তি বেড়েছে, অন্যদিকে একক প্রার্থী নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল প্রতীক) এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া প্রতীক)।

এছাড়া এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার। স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম বলেন, ‘জনগণ ও নেতাকর্মীদের চাপেই আমাকে ভোটে থাকতে হচ্ছে। যেখানে যাচ্ছি, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষের চোখের পানি আর আহাজারি আমাকে থামতে দেয়নি।’ বহিষ্কারের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের জন্যই মাঠে আছি।’

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সে সময় অনেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ সেই মানুষগুলোর অনুরোধেই নির্বাচন করছি। দল ছাড়িনি, বিএনপির রাজনীতিই করে যাব।’

তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই। দল একজনকেই মনোনয়ন দিয়েছে। আমিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুনজুর রহমান বলেন, ‘ইসলামের বিজয়ের জন্য দেশের আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ এক হয়েছে। পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষ পরিবর্তনের জন্য দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ।’ এদিকে ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, ‘যিনি সত্যিকার অর্থে পাশে থাকবেন, তাকেই ভোট দেব। প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ দেখতে চাই।’

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংকটকালে মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতা ধানের শীষের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহী-৫ আসন রাজনীতিতে ছড়াচ্ছে নির্বাচনি উত্তাপ

আপডেট সময় : ১১:০৯:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে ঘিরে নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতিতে । দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটের মাঠে থাকায় বহিষ্কার হলেও তারা নির্বাচনে অনড় । এতে একদিকে বিএনপির অভ্যন্তরে বিভক্তি ও অস্বস্তি বেড়েছে, অন্যদিকে একক প্রার্থী নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল প্রতীক) এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া প্রতীক)।

এছাড়া এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার। স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম বলেন, ‘জনগণ ও নেতাকর্মীদের চাপেই আমাকে ভোটে থাকতে হচ্ছে। যেখানে যাচ্ছি, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষের চোখের পানি আর আহাজারি আমাকে থামতে দেয়নি।’ বহিষ্কারের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের জন্যই মাঠে আছি।’

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সে সময় অনেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ সেই মানুষগুলোর অনুরোধেই নির্বাচন করছি। দল ছাড়িনি, বিএনপির রাজনীতিই করে যাব।’

তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই। দল একজনকেই মনোনয়ন দিয়েছে। আমিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুনজুর রহমান বলেন, ‘ইসলামের বিজয়ের জন্য দেশের আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ এক হয়েছে। পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষ পরিবর্তনের জন্য দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ।’ এদিকে ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, ‘যিনি সত্যিকার অর্থে পাশে থাকবেন, তাকেই ভোট দেব। প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ দেখতে চাই।’

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংকটকালে মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতা ধানের শীষের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।