ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার-হয়রানি করা যাবে না: হেফাজতে ইসলাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬১ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার বা নির্যাতন করা যাবে না জানিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও আল্লামা সাজেদুর রহমান।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা আগেও বলেছি, মার্কিন ওয়ার অন টেরর-এর সিপাহি ও ভারতপন্থি হিসেবে সমালোচিত ও নিন্দিত প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা সহিংস হওয়া আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু পত্রিকা দুটিতে হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার কিংবা তুলে নিয়ে হয়রানি বা নির্যাতন করা যাবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যারা নিরীহ সমালোচনাকারী, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ভারতপন্থি পত্রিকা দুটির ওপর বাংলাদেশপন্থি ছাত্র-জনতার ক্ষোভ বাড়বে বৈ কমবে না।

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয়ে তার প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা মাদরাসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শয়তানির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।

হেফাজত নেতারা বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তার হলে প্রথম আলো সেটির ‘ন্যায্যতা’ উৎপাদনে সম্পাদকীয় ছাপিয়েছিল। ২০১৩ সালে শাহবাগের ফ্যাসিবাদের পক্ষে দালালি করা পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াকে ‘চ্যালেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ, সম্ভবত সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তার পত্রিকা ওয়ান ইলেভেনের মতো গণবিরোধী ফ্রেমিং ও বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে এখন ব্যর্থ হচ্ছে। কৌতুকের বিষয়, চব্বিশের ২৬ জুলাই ডেইলি স্টারে এক কলামে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে দমনে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে সহায়তা করতে উদগ্রীব সম্পাদক মাহফুজ আনাম আজ কোনো কোনো জুলাই নায়কের ‘কমরেড’ বনে গেছেন!

তারা বলেন, নিকট অতীতে দিগন্ত টিভি বন্ধ করে শত শত সাংবাদিককে নিমিষে বেকার করে দেয়া হয়েছিল; সংগ্রাম পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করে প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদকে লাঞ্ছিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; নয়া দিগন্তের অফিসে আগুন লাগানো হয়েছিল। সেসময় সুশীল নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে আজকে তারা নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন না।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা আরো বলেন, বাংলাদেশে ‘জঙ্গি’ ন্যারেটিভের গডফাদার প্রথম আলো। আর তার দোসর ডেইলি স্টার সেসব ন্যারেটিভ বিদেশিদের গলাধঃকরণ করিয়েছে। এভাবে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে এদেশের অগণিত আলেম, মাদরাসাছাত্র ও ধর্মপ্রাণ তরুণকে ‘জঙ্গিবাদে’র তকমা দিয়ে জেল-জুলুমের সম্মতি উৎপাদন করা হয়েছিল। এর দায় পত্রিকা দুটি কখনো এড়াতে পারে না। ওয়ান ইলেভেনের সময় পত্রিকা দুটির গণবিরোধী ভূমিকা আজও আমাদের জন্য সতর্কতা। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার নিছক গণমাধ্যম নয়, বরং এদেশে দিল্লির সাউথ ব্লকের এজেন্ডা ও বিশেষ মতাদর্শিক রাজনীতির ফুটসোলজার হিসেবে ভাড়া খাটা প্রতিষ্ঠান। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশপন্থি ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার-হয়রানি করা যাবে না: হেফাজতে ইসলাম

আপডেট সময় : ১২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রসঙ্গ অনলাইন: প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার বা নির্যাতন করা যাবে না জানিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও আল্লামা সাজেদুর রহমান।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা আগেও বলেছি, মার্কিন ওয়ার অন টেরর-এর সিপাহি ও ভারতপন্থি হিসেবে সমালোচিত ও নিন্দিত প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা সহিংস হওয়া আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু পত্রিকা দুটিতে হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার কিংবা তুলে নিয়ে হয়রানি বা নির্যাতন করা যাবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যারা নিরীহ সমালোচনাকারী, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ভারতপন্থি পত্রিকা দুটির ওপর বাংলাদেশপন্থি ছাত্র-জনতার ক্ষোভ বাড়বে বৈ কমবে না।

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয়ে তার প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা মাদরাসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শয়তানির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।

হেফাজত নেতারা বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তার হলে প্রথম আলো সেটির ‘ন্যায্যতা’ উৎপাদনে সম্পাদকীয় ছাপিয়েছিল। ২০১৩ সালে শাহবাগের ফ্যাসিবাদের পক্ষে দালালি করা পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াকে ‘চ্যালেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ, সম্ভবত সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তার পত্রিকা ওয়ান ইলেভেনের মতো গণবিরোধী ফ্রেমিং ও বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে এখন ব্যর্থ হচ্ছে। কৌতুকের বিষয়, চব্বিশের ২৬ জুলাই ডেইলি স্টারে এক কলামে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে দমনে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে সহায়তা করতে উদগ্রীব সম্পাদক মাহফুজ আনাম আজ কোনো কোনো জুলাই নায়কের ‘কমরেড’ বনে গেছেন!

তারা বলেন, নিকট অতীতে দিগন্ত টিভি বন্ধ করে শত শত সাংবাদিককে নিমিষে বেকার করে দেয়া হয়েছিল; সংগ্রাম পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করে প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদকে লাঞ্ছিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; নয়া দিগন্তের অফিসে আগুন লাগানো হয়েছিল। সেসময় সুশীল নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে আজকে তারা নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন না।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা আরো বলেন, বাংলাদেশে ‘জঙ্গি’ ন্যারেটিভের গডফাদার প্রথম আলো। আর তার দোসর ডেইলি স্টার সেসব ন্যারেটিভ বিদেশিদের গলাধঃকরণ করিয়েছে। এভাবে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে এদেশের অগণিত আলেম, মাদরাসাছাত্র ও ধর্মপ্রাণ তরুণকে ‘জঙ্গিবাদে’র তকমা দিয়ে জেল-জুলুমের সম্মতি উৎপাদন করা হয়েছিল। এর দায় পত্রিকা দুটি কখনো এড়াতে পারে না। ওয়ান ইলেভেনের সময় পত্রিকা দুটির গণবিরোধী ভূমিকা আজও আমাদের জন্য সতর্কতা। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার নিছক গণমাধ্যম নয়, বরং এদেশে দিল্লির সাউথ ব্লকের এজেন্ডা ও বিশেষ মতাদর্শিক রাজনীতির ফুটসোলজার হিসেবে ভাড়া খাটা প্রতিষ্ঠান। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশপন্থি ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ।