ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার দেশ সাংবাদিক জাহিদুলকে মারধরের ঘটনায় গোলাম পরওয়ারের উদ্বেগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: বিএনপির গুলশান অফিসে আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে ফোন এবং আইডি কার্ড কেড়ে নেওয়া এবং মারধর করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের উপর এধরণের হামলা কাম্য নয়। হাজারো শহীদের রক্তের মধ্য দিয়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর এধরণের হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতচর্চার জন্য আমাদের এতো সংগ্রাম আর আত্মত্যাগকে পাশকাটিয়ে অতীতের মতো পরিবেশ ফিরিয়ে আনার রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে নিবে না। আমরা এই অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির গুলশান অফিসে হামলার শিকার হয়েছেন আমার দেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলাম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গতকাল রোববার বিকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা তার ওপর বর্বর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার মোবাইল ফোন এবং আইডি কার্ড কেড়ে নেয় দলটির নেতাকর্মীরা। তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডাকা হয় বিএনপি অফিসে। অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে জাহিদুলও সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির গুলশান অফিসের সভাকক্ষের দরজায় দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা মোবাইলে ধারণ করছিলেন জাহিদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এরপর ‘আমরা বিএনপি পেজের’ ক্যামেরাপারসন ফয়সলের নেতৃত্বে একদল লোক জাহিদের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে অফিসের দোতলার সিঁড়িতে নিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, এ সময় হামলাকারীরা বলতে থাকে- আমার দেশ বিএনপির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে। এখানে বিএনপির দোষ খুঁজতে রিপোর্টার পাঠিয়েছে। অন্য সাংবাদিকরা জাহিদকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা জাহিদকে মারতে মারতে মূল ফটকের বাইরে রাস্তায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় নয়া দিগন্তের ওয়াসীম আল ইমরান, জাগো নিউজের খালিদ হোসেন ও ডেইলি স্টারের সাজ্জাদ আহত হন বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আমার দেশ সাংবাদিক জাহিদুলকে মারধরের ঘটনায় গোলাম পরওয়ারের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
প্রসঙ্গ অনলাইন: বিএনপির গুলশান অফিসে আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে ফোন এবং আইডি কার্ড কেড়ে নেওয়া এবং মারধর করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের উপর এধরণের হামলা কাম্য নয়। হাজারো শহীদের রক্তের মধ্য দিয়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর এধরণের হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতচর্চার জন্য আমাদের এতো সংগ্রাম আর আত্মত্যাগকে পাশকাটিয়ে অতীতের মতো পরিবেশ ফিরিয়ে আনার রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে নিবে না। আমরা এই অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির গুলশান অফিসে হামলার শিকার হয়েছেন আমার দেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলাম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গতকাল রোববার বিকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা তার ওপর বর্বর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার মোবাইল ফোন এবং আইডি কার্ড কেড়ে নেয় দলটির নেতাকর্মীরা। তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডাকা হয় বিএনপি অফিসে। অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে জাহিদুলও সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির গুলশান অফিসের সভাকক্ষের দরজায় দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা মোবাইলে ধারণ করছিলেন জাহিদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এরপর ‘আমরা বিএনপি পেজের’ ক্যামেরাপারসন ফয়সলের নেতৃত্বে একদল লোক জাহিদের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে অফিসের দোতলার সিঁড়িতে নিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, এ সময় হামলাকারীরা বলতে থাকে- আমার দেশ বিএনপির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে। এখানে বিএনপির দোষ খুঁজতে রিপোর্টার পাঠিয়েছে। অন্য সাংবাদিকরা জাহিদকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা জাহিদকে মারতে মারতে মূল ফটকের বাইরে রাস্তায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় নয়া দিগন্তের ওয়াসীম আল ইমরান, জাগো নিউজের খালিদ হোসেন ও ডেইলি স্টারের সাজ্জাদ আহত হন বলে জানা গেছে।