ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎রাজশাহী কলেজে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ছাত্রদলের অব্যাহত সন্ত্রাস ও সিটি কলেজে বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ শিবির সভাপতির রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ঠিক রেখেছে জামায়াত: মাহমুদা মিতু চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার প্রসঙ্গ সংসদে, তদন্ত শেষে ৩০০ বিধিতে বিবৃতির ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ রামেক হাসপাতাল মায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ করা সেনাসদস্যকে মারধর রাজশাহীতে ভুয়া ছাড়পত্রে বিএনপি নেতা জেলহাজতে: ফেঁসে যাচ্ছেন বাদী ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে রাজশাহীতে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন ছাত্রদলের ‘আদু ভাইদের’ সিট দিয়ে তোপে প্রশাসন

রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে রাকসু নির্বাচনি প্রচারণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১২টায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
শেষ দিনের প্রচারণাকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, জানাচ্ছেন নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি। বিভিন্ন বিভাগের সামনে ও আবাসিক হলগুলোতে চলছে প্রার্থীদের সরাসরি প্রচারণা, পোস্টার ও হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের আমতলা, পরিবহন মার্কেট, বুদ্ধিজীবী চত্বর, শহিদ মিনার, চারুকলা ও কৃষি অনুষদ, পশ্চিম পাড়া এলাকা এবং বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে প্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে প্রচারণা চালানোর সময় কথা হয় রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি পদপ্রার্থী তাসিন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ যেহেতু প্রচারণার শেষ দিন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সবার কাছে পৌঁছাতে। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতা হলো, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখনো সবার কাছে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক হাতে সবকিছু সামলাতে হয়—এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ।’

এসময় ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর-উদ্দীন আবীর বলেন, ‘আমাদের প্যানেলের বৈচিত্র্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমাদের ভালোভাবে গ্রহণ করছেন, কারণ তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে, আর যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।’

আমতলায় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছিলেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। প্রচারণা কেমন চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে, ফলে ক্যাম্পাসে বাড়তি আমেজ তৈরি হয়েছে। বারবার নির্বাচন পেছানোয় আমরা দীর্ঘ সময় পেয়েছি প্রচারণার জন্য। শিক্ষার্থীদের কাছে কয়েকবার যাওয়া গেছে, তারাও আমাদের সানন্দে গ্রহণ করছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

অনেক বছর পর নির্বাচন হওয়ায় ভোট কাস্টিংয়ের হার সম্পর্কে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, সবকিছু ঠিক থাকলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ভোট দিতে আসবে।’ প্রসঙ্গত, রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন। ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী এবং হল সংসদ নির্বাচনের ১৫টি পদের বিপরীতে ১৭টি হলে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। পুনর্বিন্যস্ত তফশিল অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণনা শেষে সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে রাকসু নির্বাচনি প্রচারণা

আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১২টায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
শেষ দিনের প্রচারণাকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, জানাচ্ছেন নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি। বিভিন্ন বিভাগের সামনে ও আবাসিক হলগুলোতে চলছে প্রার্থীদের সরাসরি প্রচারণা, পোস্টার ও হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের আমতলা, পরিবহন মার্কেট, বুদ্ধিজীবী চত্বর, শহিদ মিনার, চারুকলা ও কৃষি অনুষদ, পশ্চিম পাড়া এলাকা এবং বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে প্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে প্রচারণা চালানোর সময় কথা হয় রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি পদপ্রার্থী তাসিন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ যেহেতু প্রচারণার শেষ দিন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সবার কাছে পৌঁছাতে। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতা হলো, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখনো সবার কাছে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক হাতে সবকিছু সামলাতে হয়—এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ।’

এসময় ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর-উদ্দীন আবীর বলেন, ‘আমাদের প্যানেলের বৈচিত্র্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমাদের ভালোভাবে গ্রহণ করছেন, কারণ তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে, আর যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।’

আমতলায় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছিলেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। প্রচারণা কেমন চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে, ফলে ক্যাম্পাসে বাড়তি আমেজ তৈরি হয়েছে। বারবার নির্বাচন পেছানোয় আমরা দীর্ঘ সময় পেয়েছি প্রচারণার জন্য। শিক্ষার্থীদের কাছে কয়েকবার যাওয়া গেছে, তারাও আমাদের সানন্দে গ্রহণ করছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

অনেক বছর পর নির্বাচন হওয়ায় ভোট কাস্টিংয়ের হার সম্পর্কে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, সবকিছু ঠিক থাকলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ভোট দিতে আসবে।’ প্রসঙ্গত, রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন। ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী এবং হল সংসদ নির্বাচনের ১৫টি পদের বিপরীতে ১৭টি হলে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। পুনর্বিন্যস্ত তফশিল অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণনা শেষে সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।