রামেক হাসপাতাল মায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ করা সেনাসদস্যকে মারধর
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: রামেক হাসপাতাল মায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ করা সেনাসদস্যকে মারধর করে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মায়ের মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলা সেনাবাহিনীর এক সদস্য ও তার ভাই ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় উল্টো ‘মবের’ শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
মারধরের শিকার হন সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল সোহেল আলী (২৯) এবং তার ভাই জয় আলী (২৪)। তারা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামের আলম আলীর ছেলে। তাদের মা জুলিয়ারা বেগম (৫০) অসুস্থ হয়ে রোববার রামেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন। পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই জুলিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে সোহেল আলী ও তার ভাই কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তানিয়া আক্তার ও মো. শিবলীর কাছে প্রতিবাদ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সোহেল আলী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে এসে সোহেল আলী ও জয় আলীকে মারধর করেন। মারধরের ফলে সোহেল আলীর মুখে আঘাত লাগে। সেখানে জমখ হয়। পরে তাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ডেকে দুই ভাইকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার ভোররাতে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার এস এম মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল আলী ও জয় আলীকে আসামি করা হয়, পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তারা চিকিৎসকদের সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং হুমকি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, জুলিয়ারা বেগমের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দায়ের করা মামলায় জয় আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে সেনাসদস্য সোহেল আলীকে সামরিক আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি- গত দুই দিন ধরে হাসপাতালে তারা রোগীর স্বজনদের হাতে হেনস্তা ও ‘মব’ হামলার শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।
একইসঙ্গে সকাল থেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসক না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নন।




















