ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে পুশব্যাক প্রসঙ্গে নিন্দা অমর্ত্য সেনের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে যখন জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তখন এ বিষয়ে সরব হলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার খর্ব করা যায় না। ত্রুটিমুক্ত করার নামে প্রক্রিয়াটিকে অযথা জটিল করে তোলা হচ্ছে।’

অমর্ত্য সেন আরো স্পষ্ট করে জানান, ‘অনেক নাগরিকের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, কিন্তু এজন্য তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া অন্যায়। সামান্য উন্নতির অজুহাতে বড় ক্ষতি করা অনুচিত।’

‘বাঙালি অস্মিতা’ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘মানুষের যেকোনো জায়গায় যাওয়ার এবং সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। বাঙালি-পাঞ্জাবি কিংবা হিন্দু-মুসলমান বিভেদ টিকিয়ে রেখে কেউই লাভবান হতে পারবে না। বরং এই বিভেদ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।’

প্রতীচী ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে অমর্ত্য সেন মন্তব্য করেন, ‘বাংলায় কথা বললেই যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে ফরাসি জানলে হয়তো ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। আমাকে বাংলাদেশে পাঠালে আপত্তি নেই, কারণ ঢাকায় আমার বাড়ি ছিল।’

একই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় গবেষক ও সংগ্রাহক অধ্যাপক ক্ষিতিমোহন সেনের রচিত গ্রন্থ ‘ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা’-র পুনর্মুদ্রণ। উল্লেখ্য, ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন অমর্ত্য সেনের মাতামহ। বইটির নবপ্রকাশিত সংস্করণের ভূমিকা লিখেছেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ নিজে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশে পুশব্যাক প্রসঙ্গে নিন্দা অমর্ত্য সেনের

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে যখন জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তখন এ বিষয়ে সরব হলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার খর্ব করা যায় না। ত্রুটিমুক্ত করার নামে প্রক্রিয়াটিকে অযথা জটিল করে তোলা হচ্ছে।’

অমর্ত্য সেন আরো স্পষ্ট করে জানান, ‘অনেক নাগরিকের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, কিন্তু এজন্য তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া অন্যায়। সামান্য উন্নতির অজুহাতে বড় ক্ষতি করা অনুচিত।’

‘বাঙালি অস্মিতা’ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘মানুষের যেকোনো জায়গায় যাওয়ার এবং সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। বাঙালি-পাঞ্জাবি কিংবা হিন্দু-মুসলমান বিভেদ টিকিয়ে রেখে কেউই লাভবান হতে পারবে না। বরং এই বিভেদ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।’

প্রতীচী ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে অমর্ত্য সেন মন্তব্য করেন, ‘বাংলায় কথা বললেই যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে ফরাসি জানলে হয়তো ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। আমাকে বাংলাদেশে পাঠালে আপত্তি নেই, কারণ ঢাকায় আমার বাড়ি ছিল।’

একই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় গবেষক ও সংগ্রাহক অধ্যাপক ক্ষিতিমোহন সেনের রচিত গ্রন্থ ‘ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা’-র পুনর্মুদ্রণ। উল্লেখ্য, ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন অমর্ত্য সেনের মাতামহ। বইটির নবপ্রকাশিত সংস্করণের ভূমিকা লিখেছেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ নিজে।