ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘দেশে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করুন’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশ্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর এর প্রধান সমন্বয়কারী আকরাম হুসেইন বলেছেন, লন্ডনে থেকে চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা না করে আপনি দেশে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করুন। বিএনপি জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে না পারলে তাদেরকেও জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের পরিণতি ভোগ করতে হবে।‌ জুলাই অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা শক্তি হিসেবে যা আমরা কখনোই চাই না।

শনিবার গুলশানে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর আওতাধীন গুলশান জোন কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আকরাম হুসেইন বলেন, চাঁদা না পেয়ে যুবদলের সন্ত্রাসীরা পাথর মেরে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় পুরো জাতি স্তম্ভিত ও বাকরুদ্ধ। সোহাগ হত্যার ভিডিও কতটা ভয়াবহ, নির্মম ও নিষ্ঠুর তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়। যুবদলের সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতিকে কী মেসেজ দিতে চায় তা খোদ বিএনপিকেই পরিস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যারা দিনেও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর সেই ক্ষমতাপ্রেমী বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়েছে। আমরা এ জঘন্য, নারকীয় হত্যার তীব্র নিন্দা, কঠোর প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই। সেই সাথে সোহাগ হত্যার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করা। এক জুলাই থেকে আমরা আরেকটি জুলাইয়ে অবতীর্ণ হয়েছি ঠিকই কিন্তু মৌলিক সংস্কারের কোন কিছুই আলোর মুখ দেখছে না। ফলে চারিদিকে তৈরি হয়েছে এক নতুন সংকট। বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি হিসেবে মৌলিক সংস্কারের উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে নয়া মাফিয়া তৈরি হওয়ার দুষ্টু চক্রের। এর থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্তির জন্য তৈরি হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এম এম শোয়াইব বলেন, আমরা এক ফ্যাসিস্টকে হটিয়েছি আরেক ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রশাসন একটি বিশেষ দলের হুকুম তামিল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। ফলে আইন শৃঙ্খলার উপর্যুপুরি অবনতি ঘটেছে। যা জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গাদ্দারির শামীল। অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধতা দিয়েছে এই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ। কোন নির্দিষ্ট দলের দাসত্ব করার জন্য নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘দেশে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করুন’

আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
জাতীয় ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশ্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর এর প্রধান সমন্বয়কারী আকরাম হুসেইন বলেছেন, লন্ডনে থেকে চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা না করে আপনি দেশে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করুন। বিএনপি জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে না পারলে তাদেরকেও জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের পরিণতি ভোগ করতে হবে।‌ জুলাই অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা শক্তি হিসেবে যা আমরা কখনোই চাই না।

শনিবার গুলশানে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর আওতাধীন গুলশান জোন কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আকরাম হুসেইন বলেন, চাঁদা না পেয়ে যুবদলের সন্ত্রাসীরা পাথর মেরে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় পুরো জাতি স্তম্ভিত ও বাকরুদ্ধ। সোহাগ হত্যার ভিডিও কতটা ভয়াবহ, নির্মম ও নিষ্ঠুর তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়। যুবদলের সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতিকে কী মেসেজ দিতে চায় তা খোদ বিএনপিকেই পরিস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যারা দিনেও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর সেই ক্ষমতাপ্রেমী বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়েছে। আমরা এ জঘন্য, নারকীয় হত্যার তীব্র নিন্দা, কঠোর প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই। সেই সাথে সোহাগ হত্যার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করা। এক জুলাই থেকে আমরা আরেকটি জুলাইয়ে অবতীর্ণ হয়েছি ঠিকই কিন্তু মৌলিক সংস্কারের কোন কিছুই আলোর মুখ দেখছে না। ফলে চারিদিকে তৈরি হয়েছে এক নতুন সংকট। বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি হিসেবে মৌলিক সংস্কারের উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে নয়া মাফিয়া তৈরি হওয়ার দুষ্টু চক্রের। এর থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্তির জন্য তৈরি হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এম এম শোয়াইব বলেন, আমরা এক ফ্যাসিস্টকে হটিয়েছি আরেক ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রশাসন একটি বিশেষ দলের হুকুম তামিল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। ফলে আইন শৃঙ্খলার উপর্যুপুরি অবনতি ঘটেছে। যা জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গাদ্দারির শামীল। অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধতা দিয়েছে এই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ। কোন নির্দিষ্ট দলের দাসত্ব করার জন্য নয়।