বাবা-ভাই না ফেরার দেশে, ঋতুপর্ণার মা লড়ছেন ক্যানসারের সঙ্গে
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
স্পোর্টস ডেস্ক: বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা। এরপর জাতীয় দলে এসেও সে ধারাটা ধরে রেখেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার গোলে বাংলাদেশ সাফ জিতেছিল দ্বিতীয় বারের মতো, এরপর তার জোড়া গোলে এবার এশিয়ান কাপে খেলাও নিশ্চিত করে ফেলেছে দলটা।
তবে তার এমন পারফর্ম্যান্সের মাহাত্ম্য বেড়ে যায় যখন তার ব্যক্তিগত কষ্টের কথা সামনে চলে আসে। ঋতুপর্ণার বাবা আগেই পরলোকগত হয়েছেন। ২০২২ সালে তার ভাই পার্বণ চাকমাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।
তার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে আগেই। ঋতুপর্ণার পৃথিবী তাই স্রেফ তার মা আর বোনেদের ঘিরেই। এবার ঋতু জানালেন, তার মা-ও আক্রান্ত ক্যানসারে। তবে সেসব দুর্ভাবনাকে তিনি মাঠে চলে আসতে দিচ্ছেন না আদৌ। সেসব একপাশে রেখেই তিনি পারফর্ম করে যাচ্ছেন অবিরাম।
২ জুলাই যখন তার জোড়া গোলে বাংলাদেশ চলে গেল এশিয়ান কাপে, তার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করেছেন মাকে। ঋতুপর্ণার কথা, ‘জেতার পর মাকে কল দিয়েছি। পরিবারের সবাইকে। তারা সবাই খুব খুশি। মা অসুস্থ। আমার গোল করার কথা শুনে সে অনেক খুশি, বলছিল তার আর নিজেকে অসুস্থ মনে হচ্ছে না।’
বাহরাইনের পর মিয়ানমারকেও হারিয়ে প্রথমবারের মতো মেয়েদের এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বে তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে নিয়মরক্ষার ম্যাচ আজ ঋতুপর্ণাদের। ইয়াঙ্গুনের থুউন্নু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচ।
টানা দুই জয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে আছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। শুক্রবার কিডস জোনে বেড়াতে গিয়ে ছবি এঁকে সময় কাটিয়েছেন মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমারা। এ অনুভূতিটা কেমন জানালেন ঋতুপর্ণা, ‘অনুভূতি বলে প্রকাশ করতে পারব না। আমরা যখন জানতে পারি, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেছি, এটা কল্পনারও বাইরে ছিল। আমরা বহু বছর পর এত কষ্ট করে এশিয়ান কাপে খেলব। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন।’
তবে দুই জয়ে এশিয়ান কাপ নিশ্চিত করার পরও উদযাপন করেনি বাংলাদেশ দল। সবটুকু উদযাপন তোলা আছে শেষ ম্যাচের জন্য। তা শেষেই উদযাপন করতে চান ঋতুপর্ণারা, ‘আমরা এখনো উদযাপন করিনি। আরেকটা ম্যাচ আছে। তারপর উদযাপন করার পরিকল্পনা আমাদের।’




















