ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়া, সঞ্চয়পত্র বিক্রি হ্রাস পাওয়া এবং বৈদেশিক উৎস থেকে কম ঋণ ছাড় হওয়ার কারণে অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ কম ছিল। জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা দ্রুতগতিতে বেড়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে লাখ কোটি টাকা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। ওই মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮২২ কোটি টাকা, যা মার্চে ছিল ১৭ লাখ ১৯ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য তলানিতে নেমেছে। আগের সরকারের মতো কিছু সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের হুমকিতে ব্যবসা-বাণিজ্য। এক দিকে সরকার শুল্ক-কর বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ব্যাংকের সুদহার। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে সুদহার বাড়িয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগ কমেছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এখন অনেকেই বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে। সে জন্য বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংকগুলোর তারল্যের সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমেছে। তবে সরকারের স্থিতিশীলতায় এটি আবার বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আগামী মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ

আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়া, সঞ্চয়পত্র বিক্রি হ্রাস পাওয়া এবং বৈদেশিক উৎস থেকে কম ঋণ ছাড় হওয়ার কারণে অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ কম ছিল। জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা দ্রুতগতিতে বেড়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে লাখ কোটি টাকা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। ওই মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮২২ কোটি টাকা, যা মার্চে ছিল ১৭ লাখ ১৯ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য তলানিতে নেমেছে। আগের সরকারের মতো কিছু সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের হুমকিতে ব্যবসা-বাণিজ্য। এক দিকে সরকার শুল্ক-কর বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ব্যাংকের সুদহার। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে সুদহার বাড়িয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগ কমেছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এখন অনেকেই বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে। সে জন্য বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংকগুলোর তারল্যের সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমেছে। তবে সরকারের স্থিতিশীলতায় এটি আবার বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আগামী মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে।