ইলিশের দাম নির্ধারণের উদ্যোগ-আপত্তি ব্যবসায়ীদের
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫ ৭০ বার পড়া হয়েছে
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন গত ১৭ জুন ইলিশের দাম নির্ধারণ বিষয়ে একটি চিঠি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এর পরই ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আপত্তির সুর শোনা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণকেন্দ্র চাঁদপুর মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে ইলিশের সরবরাহ খুবই কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রশাসনের দাম নির্ধারণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে সরবরাহ আরও কমে যাবে।
মেসার্স আনোয়ার হোসেন জমাদার আড়তের ব্যবসায়ী মনছুর আহমেদ মাহিন জানান, বর্তমানে আড়তে বড় সাইজের ইলিশ থাকলেও ছোট সাইজের ইলিশের পরিমাণ কম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, আর ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। এমন দামে জেলেরা লোকসান দিচ্ছেন। দাম বেঁধে দিলে তাঁরা মাছ ধরার আগ্রহ হারাবেন।
ঘাটে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই ইলিশের দাম বেড়েই চলেছে। ইলিশ তো আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক সম্পদ, ব্যবসায়ীদের তো তেমন বিনিয়োগও করতে হয় না। তাহলে দাম এত বাড়বে কেন? আমি মনে করি, সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দাম নির্ধারণ করাই যৌক্তিক।’
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, ‘কাঁচামালের বাজারে দাম নির্ধারণ করে বিক্রি সম্ভব নয়। সরবরাহের ওপরই নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ হঠাৎ করে দাম বেঁধে দিলে তা ব্যবসায়ীরা মানবে না।’ তিনি জানান, আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার মণ ইলিশ আসত, এখন এক-দেড় শ মণও আসে না।
সমিতির সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক বলেন, ‘মূল্য নির্ধারণের চেয়ে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করাই জরুরি। আমরা গত তিন বছর ধরে উৎপাদন কমতে দেখছি। কেন কমছে, সে বিষয়ে গবেষণা জরুরি।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘চাঁদপুরসহ দেশের ১০-১২টি জেলায় ইলিশ ধরা ও বিক্রি হয়। আমরা মনে করি, চাঁদপুরে অংশীজনদের নিয়ে দাম নির্ধারণ করা গেলে অন্য জেলায়ও এর প্রভাব পড়বে। ইলিশ যেন সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়ে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমরা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি।’




















