ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বিএনপিতে ভিড়ছেন দলছুট নেতারা-তৃণমূলে ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদ খান বিগত সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন না করে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করায় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এই মাসুদকে এখন কয়েকজন আশ্রয় দিয়েছেন। গত ৩০ মে তাঁর অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি।

এ বিষয় জানতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেনকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন বলেন, এ ঘটনা তিনি জানেন না, দলের আহ্বায়ক ওই এলাকার সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী। কেন অব্যাহতি দেওয়া নেতার পক্ষে সুপারিশ করেছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

এখন বিএনপির সুদিনে তিনি দলীয় লোকদের শেল্টারে বিএনপিতে প্রবেশ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাখাওয়াত হোসেন মনির বাস্তুহারা দলের সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ২০১২ সালে গ্রেপ্তারের পর আওয়ামী কর্মী পরিচয়ের প্রত্যয়নে আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। সেই মনির আবার গত ১৬ এপ্রিল বিএনপির অফিস পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিএনপি নেতাদের প্রত্যয়নে জামিন পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চরকাউয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশিদুল হাসান বলেন, মনির আওয়ামী লীগ আমলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর মতো লোকের জন্য নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ।

জেলার বানারীপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিচ মৃধা আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক এমপি শাহে আলমের পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা নির্বাচনেও তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সেই আনিচ এখন দলে বেশ সরব। আনিচের আপন ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ মৃধা। এখন আনিচ বিএনপির সক্রিয় নেতা। এ ঘটনায় তৃণমূলের কর্মীরা ক্ষুব্ধ। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি নান্না হাওলাদার বলেন, আনিচের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হয়নি। তিনি উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে সক্রিয় থাকায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ের সুবিধাভোগীরা এখন দলে বেশি অ্যাকটিভ। কিন্তু কেউ যদি কর্মসূচিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে সরিয়ে দিতে পারি না। আমরা ক্লিন ইমেজের লোক দলে টানব। কিন্তু আওয়ামী সুবিধাভোগীদের স্থান না দিতে নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের ঢুকে পড়ার ঢালাও অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে। আমরা এসব পর্যবেক্ষণে রাখছি।’ তিনি বলেন, কিছু নেতা আসন্ন নির্বাচনে দল ভারী করতে এ মৌসুমি নেতাদের দলে ঢোকাচ্ছেন। বিএনপি এ ধরনের তৎপরতাকে প্রশ্রয় দেবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বরিশালে বিএনপিতে ভিড়ছেন দলছুট নেতারা-তৃণমূলে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:৩১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদ খান বিগত সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন না করে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করায় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এই মাসুদকে এখন কয়েকজন আশ্রয় দিয়েছেন। গত ৩০ মে তাঁর অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি।

এ বিষয় জানতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেনকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন বলেন, এ ঘটনা তিনি জানেন না, দলের আহ্বায়ক ওই এলাকার সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী। কেন অব্যাহতি দেওয়া নেতার পক্ষে সুপারিশ করেছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

এখন বিএনপির সুদিনে তিনি দলীয় লোকদের শেল্টারে বিএনপিতে প্রবেশ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাখাওয়াত হোসেন মনির বাস্তুহারা দলের সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ২০১২ সালে গ্রেপ্তারের পর আওয়ামী কর্মী পরিচয়ের প্রত্যয়নে আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। সেই মনির আবার গত ১৬ এপ্রিল বিএনপির অফিস পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিএনপি নেতাদের প্রত্যয়নে জামিন পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চরকাউয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশিদুল হাসান বলেন, মনির আওয়ামী লীগ আমলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর মতো লোকের জন্য নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ।

জেলার বানারীপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিচ মৃধা আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক এমপি শাহে আলমের পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা নির্বাচনেও তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সেই আনিচ এখন দলে বেশ সরব। আনিচের আপন ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ মৃধা। এখন আনিচ বিএনপির সক্রিয় নেতা। এ ঘটনায় তৃণমূলের কর্মীরা ক্ষুব্ধ। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি নান্না হাওলাদার বলেন, আনিচের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হয়নি। তিনি উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে সক্রিয় থাকায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ের সুবিধাভোগীরা এখন দলে বেশি অ্যাকটিভ। কিন্তু কেউ যদি কর্মসূচিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে সরিয়ে দিতে পারি না। আমরা ক্লিন ইমেজের লোক দলে টানব। কিন্তু আওয়ামী সুবিধাভোগীদের স্থান না দিতে নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের ঢুকে পড়ার ঢালাও অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে। আমরা এসব পর্যবেক্ষণে রাখছি।’ তিনি বলেন, কিছু নেতা আসন্ন নির্বাচনে দল ভারী করতে এ মৌসুমি নেতাদের দলে ঢোকাচ্ছেন। বিএনপি এ ধরনের তৎপরতাকে প্রশ্রয় দেবে না।