পাঠ্যবই নির্ভুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: শিক্ষা উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০২:৫২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
তিনি বলেন, ‘‘সময় স্বল্পতার কারণে ২০২৬ সালের বই চলমান বছরের কারিকুলাম অনুযায়ী ছাপানো হবে এবং এতে যেসব সাধারণ ভুলভ্রান্তিগুলো ছিল, সেগুলো ঠিক করে আগামী বছরের শুরুতেই যাতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই হাতে পায় তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই যত কষ্টই হোক, বইগুলো যত্ন এবং দায়িত্বের সঙ্গে নির্ভুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আশাবাদী, এনসিটিবি এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারবে।’’
বুধবার (৪ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘‘২০২৫ সালে সম্পন্ন হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা আশা করছি, এইচএসসি পরীক্ষাও একইভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই।’’
উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমরা মনে করি দেশের বেকারত্ব দূর করার ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম প্রণয়ন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিখাতের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, গ্লাস ও সিরামিক, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন এবং বিশিষ্ট শিল্প-প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় করণীয় চিহ্নিত করতে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক, প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কর্মশালা করা হয়েছে।
এখানে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম এবং দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারে কীভাবে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষায় দীক্ষিত মানবসম্পদ অন্তর্ভুক্ত করা যায় সে বিষয়ে অংশীদারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবক প্রিয় করার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। আমরা মনে করি, কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত, তাই সে বিষয়ে আমাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে এবং একইসঙ্গে অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদেরও বেকারত্ব দূর করার জন্য কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে আমরা কাজ করছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চপদে নিয়োগের প্রয়োজনে আমরা একটি উপাচার্য নির্বাচনী প্যানেল তৈরি করেছি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদান এবং ইচ্ছুকদের আবেদনপত্র গ্রহণের মাধ্যমে ভিসি নিয়োগ প্রদান করা হবে। আমরা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং বিজ্ঞ অধ্যাপকদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন করেছি। আমি আশাবাদী, আপনাদের সবার সহযোগিতায় যদি যোগ্যতা এবং কম্পিটিশনের ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারি, তবে আমার যে স্বপ্ন; দেশে বসেই আগামী জেনারেশন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে সে পথে এগোতে পারব।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকদের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি ২০০০ কোটি টাকার বন্ড এবং ২০০ কোটি টাকার নগদ বরাদ্দ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সমস্যা নিরসনে এটি একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ।’’




















