সূদের যুগে স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতি
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূইয়া: সূদ মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি অভিশাপ। অথচ মুসলমানরা আজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূদের সাথে জড়িত। কুরআন ও সুন্নাহে সূদের বিরুদ্ধে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, “সূদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এরপরও তোমরা সূদের দিকে ধাবিত হইতেছ , মনে রেখ ইহা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ব ”
সূদ ব্যক্তি হতে সমাজে, সমাজ হতে রাষ্ট্রে প্রতিটি স্তরে স্তরে বিদ্যমান। মুসলিম ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মুসলমানদের পতনের জন্য অন্যতম দায়ী হল সূদী অর্থনীতি।
পাঠক, আপনি যদি নবাব সিরাজউদ্দৌলা এর পতনের ইতিহাস পাঠ করেন, তাহলে দেখবেন সূদখোর জগৎ শেঠ হল এর মূল কারিগর। নবাব আলিবর্দী খা জগৎ শেঠ হতে সূদের উপর মোটা অংকের টাকা লোন করেছিলেন। এই সুযোগে জগৎ শেঠ রাজকার্যে হস্তাক্ষেপ করার সুযোগ পায়। তাই নবাব সিরাজ জগৎ শেঠের পুত্রকে ষড়যন্ত্রের মধ্যে হাতে নাতে ধরার পর ও কিছু করতে পারে নি।
এভাবে সুয়েজ খাল খননের মাধ্যমে মিসরের খেদিভরা সূদের সাথে সম্পৃক্ত হয় , যার ফলে ইংরেজরা মিসরে প্রভাব সৃষ্টি করে এবং এর ফলে আরব জাতীয়তাবাদের উস্কানি দিয়ে আরবদের মাধ্যমে উসমানীয় খিলাফতের পতন ঘটায় ।
সূদের দাপটে পরহেযগার মুসলমানগণ অসহায়, উলামাগন চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হয়েছে, সাধারণ মুসলমানগণ দিশেহারা। মুসলমানদের মধ্যে পুঁজিবাদ তথা সূদখোরদের এমন দাপট ইসলামের ইতিহাসে ইতিপূর্বে দেখা যায় নি। মুসলমানদের দুই শত বছরের কুরবানীর ফসল পাকিস্তান নামক মুসলিম রিয়াসাতটি পুঁজিবাদের খপ্পরে পড়ে ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত পরাজিত হয়েছে।পাকিস্তান নামক মুসলিম রিয়াসাতটি তার শেষ দিকে সূদকে স্বাভাবিক করনের ফলাফল হল আজকের অকর্মন্য ও অসাড় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নামক দুটি রাষ্ট্র।
ইসলামের বিভিন্ন আবশ্যিক কার্যাদিতে সূদের দৌরাত্ম । কিছু কিছু ঘটনা এমন রয়েছে যে সূদের টাকা দিয়ে মসজিদের উন্নয়ন, সূদের টাকা দিয়ে ইমাম সাহেবের বেতন, সূদের টাকা দিয়ে হাজীদের আপ্যায়ন ইত্যাদি । এমতাবস্থায় যতটুকু সম্ভব ধর্মীয় বিষয়াদির কিছু অংশ সুদ হতে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা আবশ্যক। এরই ধারাবাহিকতায় স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতির মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোকে সূদ হতে মুক্ত রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে, ওয়াকফ সম্পত্তি হতে অর্জিত আয় সূদে বিনিয়োগ হচ্ছে, যা অনেক মোতাওয়াল্লি বা মাদ্রাসার মুহতামিম নিজেরাও জানে না।
স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতির প্রকূতি ও উদ্দেশ্যাবলী
১. ধর্মীয় বিষয়াদির জন্য ওয়াকফকূত স্হাবর বা অস্হাবর সম্পত্তি।
২, বেহাতকূত ওয়াকফ সম্পত্তি গুলো পুনরুদ্ধার এবং ওয়াকফকূত সম্পত্তির আয় ও ব্যয় ওয়াকিফের ওয়াকফ ডীড মোতাবেক পরিচালিত করা ।
৩. ওয়াকফকূত সম্পত্তি সম্পর্কিত পরিচালনার দায়িত্ব পরহেযগার মুসলমানগণের হাতে অর্পন করা।
৪. ওয়াকফকূত সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্টানগুলোকে হারাম মাল হতে বাঁচিয়ে রাখা।
৫.ওয়াকফ সম্পত্তির আয় কোন ভাবেই সূদে বিনিয়োগ করার সুযোগ না দেওয়া।
৬. ওয়াকফকূত সম্পত্তিকে মুসলমানদের সামষ্টিক সম্পত্তি হিসেবে গন্য করা এবং তা সামষ্টিক অর্থনীতির আওতাধীন করা।
৭, ওয়াকফ সম্পত্তির হিসাব নিকাশ এর জন্য পাশ্চাত্যের একাউন্টিং মেথোড পরিত্যাগ করে একাউন্টিং এর ইসলামী মেথোড ব্যবহার করা।
৮, এই অর্থনীতির মাধ্যমে একদল মুসলমানকে ধর্মীয় বিষয়াদি ও পার্থিব বিষয়াদির সমন্বয়ে একদল গবেষক তৈরি করা।
| ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যাপারে মুসলমানদের করনীয় ঃ–
1 ওয়াকফ সম্পত্তি উদঘাটন সম্পর্কিত অনুসন্বান কমিটি গঠন করা । 2.নিউস্কীম মাদ্রাসাগুলো পুনরুদ্বার করে চালু করা । 3. ওয়াকফ ফি সাবি লিল্লাহে পরিচালনা পর্ষদ ধার্মিক লোকদের দিয়ে গঠন করা । 4. ওয়াকফ মন্ত্রনালয় গঠন করা 5. প্রত্ব তাত্বিক বিভাগের সম্পত্তি ওয়াকফে ন্যাস্ত করা 6. সরকার ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করলে এর ক্ষতিপূরন দেয়া 7. কোয়াজী ওয়াকফ পদ্বতি চালু করা 8.ধর্মীয় অনুষ্টানে অর্জিত খাজনা ওয়াকফ প্রতিষ্টানে দেয়া 9. ওয়াকফ সম্পত্তিতে ইজমেন্ট রাইট দেয়া 10.ওয়াকফ সম্পত্তির বিক্রয় নিষিদ্ব করা 11. ওয়াকফ আদালত প্রতিষ্টা করা । 12 ওয়াকফ সম্পত্তিতে মেথোড অভ ইয়ার ইন্ডিং এ চন্দ্র বর্ষ অনুসরন করা ।
এতদসংক্রান্ত পর্যায়ক্রমে আরো লেখা পরবর্তীতে দেয়া হবে ।
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূইয়া চেয়্যারমান প্যান ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ । |
























