ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকের পর পুলিশে দিল ছাত্রদল-শিবির
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫ ১৩২ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কলেজে ক্লাস করতে আসা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কলেজ শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দরা তাঁকে আটকের পর বোয়ালিয়া মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
আটককৃত ছাত্রলীগের ওই কর্মীর নাম মোঃ সাগর রেজা (২২)। তিনি রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার উদয় সাগর গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ আলমগীর।
তথ্যমতে, আজ বৃহস্পতিবার তিনি কলেজে ক্লাস করতে আসেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির কর্মীরা তাঁকে চিনতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার হাতে থাকা ফোন যাচাই-বাছাই করলে ফেসবুকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্ট দেখা যায়। ছবিগুলোতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে আওয়ামী লীগ ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে ।
এছাড়াও তার ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োডাটাতে ছাত্রলীগের একাধিক পদে থাকার ট্যাগ এখনো যুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য সহ সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রহনপুর পৌর শাখা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি লীগ চাঁপাই-নবাগঞ্জ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ গোমস্তপুর উপজেলা শাখা, সাংগঠনিক সম্পাদক বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ গোমস্তপুর উপজেলা শাখাসহ বিভিন্ন পদবীর ট্যাগ তার ফেসবুক প্রোফাইলে এখনো যুক্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, কয়েকদিন যাবৎ আমরা লক্ষ্য করছি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা সন্দেহজনক ভাবে ক্লাসের নামে কলেজে এসে মাক্স পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার ধারাবাহিকতায় আজকে সে ক্লাসে আসলে তার সহপাঠীরা যারা তার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলো তারা তাকে ধরে এবং আমাদের জানায়। আমরা তার কাছে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন তথ্য পায়। পরবর্তীতে আমরা তাকে প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করি।
তিনি আরো বলেন, সে মূলত ক্লাসের নামক করে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে কয়েকদিন যাবৎ কলেজে বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করছিল।
রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাসিক দত্ত ও আশিকে ছায়া তলে তিনি রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর অত্যাচার নিপীড় নির্যাতন চালাতো। কলেজে সাধারন শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে মারধর করতো। আমরা তাকে চিনতে পেরে তাকে সাধারণ শিক্ষার্থী মারধরের হাত থেকে বাঁচিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ কে ফোন করা হলে তিনি জানান, তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে এখনো আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি। আসলে যাচাই করে দেখবো। নতুন করে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। পূর্বের একটি মামলা চলমান রয়েছে, সেই মামলায় তাকে চালান করে দেওয়া হবে।





















