ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে ৪ মাস ক্লাস করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অপরাধে একজন ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।

রাবিতে ৪ মাস ক্লাস করার পর ভুয়া শিক্ষার্থী আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে ৪ মাস ক্লাস করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অপরাধে একজন ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক ওই ভুয়া শিক্ষার্থী হলেন, নাভিক রহমান। তিনি ছদ্মবেশে আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করছিলেন। পাশাপাশি খেলাধুলা, জাতীয় দিবস উদযাপনসহ বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাভিক রহমান দাবি করেন, তার মাকে খুশি করতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অভিনয় করেছেন। তার পরিবারের আশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, কিন্তু ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই তিনি এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিনয় করে আসছিলেন।

নাভিক রহমানের ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, তিনি নিজেকে রাবি আইন বিভাগের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করেছেন। আর প্রোফাইল পিকচারে আইন বিভাগ লেখা একটি টি-শার্ট পরিহিত ছবি রয়েছে। ফেসবুকে আইন বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ছবিও পোস্ট করেছেন।

আইন বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, তার সহপাঠীদের সন্দেহ হলে তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন বিষয়টি সামনে আসে। পরে তার অভিভাবক হিসেবে যাদের ডাকা হয়েছিল, তারাও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। বিভাগের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গিয়ে নাভিক ও তার ভুয়া অভিভাবকদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, একজন ৪ মাস ধরে ক্লাস করেছে, প্রতিটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিহ্নিত করতে পারেনি।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু বলেন, তাকে রাতে আটক করা হয়েছে। প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই না। তাই সে আদৌ ক্লাস করেছে কি না, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই ভালো বলতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ছেলে বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়নি, তাই এতদিন মাকে খুশি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিনয় করেছে। তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে ৪ মাস ক্লাস করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অপরাধে একজন ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।

রাবিতে ৪ মাস ক্লাস করার পর ভুয়া শিক্ষার্থী আটক

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে ৪ মাস ক্লাস করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অপরাধে একজন ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক ওই ভুয়া শিক্ষার্থী হলেন, নাভিক রহমান। তিনি ছদ্মবেশে আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করছিলেন। পাশাপাশি খেলাধুলা, জাতীয় দিবস উদযাপনসহ বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাভিক রহমান দাবি করেন, তার মাকে খুশি করতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অভিনয় করেছেন। তার পরিবারের আশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, কিন্তু ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই তিনি এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিনয় করে আসছিলেন।

নাভিক রহমানের ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, তিনি নিজেকে রাবি আইন বিভাগের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করেছেন। আর প্রোফাইল পিকচারে আইন বিভাগ লেখা একটি টি-শার্ট পরিহিত ছবি রয়েছে। ফেসবুকে আইন বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ছবিও পোস্ট করেছেন।

আইন বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, তার সহপাঠীদের সন্দেহ হলে তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন বিষয়টি সামনে আসে। পরে তার অভিভাবক হিসেবে যাদের ডাকা হয়েছিল, তারাও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। বিভাগের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গিয়ে নাভিক ও তার ভুয়া অভিভাবকদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, একজন ৪ মাস ধরে ক্লাস করেছে, প্রতিটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিহ্নিত করতে পারেনি।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু বলেন, তাকে রাতে আটক করা হয়েছে। প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই না। তাই সে আদৌ ক্লাস করেছে কি না, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই ভালো বলতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ছেলে বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়নি, তাই এতদিন মাকে খুশি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিনয় করেছে। তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখবে বলে জানান তিনি।