ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হজ ক্যাম্পে চালু হলো লাগেজ র‌্যাপিং সেবা তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর আসামি গ্রেফতার মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ যায় নাকি আসে, প্রশ্ন আসিফের ঢাকায় ১০০ দিনের কাজের হিসাব দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সংস্কারের পথ থেকে কি বিচ্যুত হচ্ছে বাংলাদেশ?: আল জাজিরার বিশ্লেষণ দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় রাজি বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনায় রাজশাহীতে মহানগর শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল মার্কিন অবরোধের মধ্যেই দু’টি জাহাজ জব্দ করলো ইরান হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনারকে শিবিরের স্মারকলিপি

কাগজে ১১১ বাস্তবে ৫০০ কোটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:


সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) ও তার পরিবারের নামে ১১১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ কোটি টাকা জমা রাখার প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দালিলিক মূল্য শত কোটি টাকা, বাস্তবে মূল্য হবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।

গতকাল দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মুস্তফা কামাল, তার স্ত্রী কাশমেরী কামাল ও সন্তানদের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসহ শতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, রাজউক, ঢাকা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, রেজিস্ট্রার অফিস ও ভূমি অফিসসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে নথিপত্র তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফার নামে ঢাকার জোয়ারসাহারা, বাড্ডা, উত্তরা ও কুমিল্লায় জমি, বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, শেয়ারে বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ২০৬ টাকা বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া লোটাস কামাল প্রপার্টিজ, অরবিটাল এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ, তার স্ত্রী কাশমেরী কামালের নামে কুমিল্লা, ঢাকার গুলশান ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন জায়গায় জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। তার স্ত্রী কাশমেরী কামালের নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, শেয়ারে বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়পত্রে আরও ৩৮ কোটি ৮৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫০৬ টাকা, তার স্ত্রীর নামে লোটাস কামাল প্রোপারটিজ এবং সৌদি বাংলাদেশ কন্ট্রাকটিং কোং লিমিটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে ২০ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ৯৭২ টাকার বিনিয়োগ, তার নামে তিনটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে। এসব সম্পদের বাইরেও মুস্তফা কামালের দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলেও প্রাথমিক তথ্য রয়েছে।

সূত্র জানায়, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার পরিবার, সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত ফি বাবদ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চক্রটি চাকরির ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্র দেড় বছরে তাদের মালিকানাধীন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সাড়ে ৪ লাখের মতো লোক পাঠিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সবমিলিয়ে ওই সময়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হলেও অতিরিক্ত ফি হিসেবেই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়।

এত শ্রমিক পাঠালেও অনেকেই কাজ করার অনুমতি না পাওয়ায় ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন। এমন অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের উপপরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম কাজ করছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাগজে ১১১ বাস্তবে ৫০০ কোটি

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

নিউজ ডেস্ক:


সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) ও তার পরিবারের নামে ১১১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ কোটি টাকা জমা রাখার প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দালিলিক মূল্য শত কোটি টাকা, বাস্তবে মূল্য হবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।

গতকাল দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মুস্তফা কামাল, তার স্ত্রী কাশমেরী কামাল ও সন্তানদের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসহ শতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, রাজউক, ঢাকা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, রেজিস্ট্রার অফিস ও ভূমি অফিসসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে নথিপত্র তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফার নামে ঢাকার জোয়ারসাহারা, বাড্ডা, উত্তরা ও কুমিল্লায় জমি, বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, শেয়ারে বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ২০৬ টাকা বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া লোটাস কামাল প্রপার্টিজ, অরবিটাল এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ, তার স্ত্রী কাশমেরী কামালের নামে কুমিল্লা, ঢাকার গুলশান ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন জায়গায় জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। তার স্ত্রী কাশমেরী কামালের নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, শেয়ারে বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়পত্রে আরও ৩৮ কোটি ৮৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫০৬ টাকা, তার স্ত্রীর নামে লোটাস কামাল প্রোপারটিজ এবং সৌদি বাংলাদেশ কন্ট্রাকটিং কোং লিমিটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে ২০ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ৯৭২ টাকার বিনিয়োগ, তার নামে তিনটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে। এসব সম্পদের বাইরেও মুস্তফা কামালের দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলেও প্রাথমিক তথ্য রয়েছে।

সূত্র জানায়, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার পরিবার, সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত ফি বাবদ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চক্রটি চাকরির ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্র দেড় বছরে তাদের মালিকানাধীন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সাড়ে ৪ লাখের মতো লোক পাঠিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সবমিলিয়ে ওই সময়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হলেও অতিরিক্ত ফি হিসেবেই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়।

এত শ্রমিক পাঠালেও অনেকেই কাজ করার অনুমতি না পাওয়ায় ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন। এমন অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের উপপরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম কাজ করছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি