ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্ররাজনীতি বিতর্কে বুয়েট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:


আবারও ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কর্মসূচি পালন করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। গতকাল তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বুয়েট মুক্ত রাখার দাবিও করেছে।

বুয়েটে এবারের আন্দোলনের গতকাল ছিল তৃতীয় দিন। বিকালে সংবাদ সম্মেলন ছাড়া প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে ছিল না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে পূর্বনির্ধারিত টার্মফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়নি কোনো শিক্ষার্থী। বিপরীতে ছাত্রলীগ গতকাল সকাল থেকে ছিল সক্রিয়। মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বুয়েটে প্রবেশ করে। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। সমাবেশে বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে অসাংবিধানিক, মৌলিক অধিকার পরিপন্থি ও শিক্ষাবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। জঙ্গি সংগঠনগুলোর অন্ধকার রাজনীতির জন্য আবরার ফাহাদের বিষয়কে সামনে এনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম (ইমতিয়াজ রাব্বি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি রাজীবুল ইসলাম বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীম। এ সময় গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বুয়েটে প্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্ররাজনীতি প্রতিরোধের আন্দোলন ও ঢুকতে সহযোগিতা করা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বির সিট বাতিল করার প্রতিবাদ করেন তারা। রাব্বির সিট ফিরিয়ে না দিলে বুয়েটে কমিটি দেওয়ার প্রতিও আহ্বান জানান নেতা-কর্মীরা। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বুয়েটের শহীদ মিনারে ফুল দেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শতাধিক নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বুয়েট কি পাকিস্তান, ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে! বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে কোনো জায়গায় প্রবেশের অধিকার আমার রয়েছে। অনতিবিলম্বে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। দাবি মানা না হলে ছাত্রলীগ জানে, কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ইমতিয়াজের অপরাধ সে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ইফতার বিতরণ করেছে। স্বাধীনতা দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে, কার অনুমতি নিতে হবে? টাঙ্গুয়ার হাওড়ে যারা গ্রেফতার হয়েছে, জামিনে এসে তারা নির্ধারণ করছে কে ক্লাস করতে পারবে, কে পারবে না। শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা বুয়েটই বন্ধ রেখেছে। সেখানে নিষিদ্ধ রাজনীতির চাষাবাদ হচ্ছে। বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর, জেএমবি ও ছাত্র শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ই-মেইলে দাওয়াত দিচ্ছে, টাঙ্গুয়ার হাওরে শিবির দেশ বিরোধী মিটিং করেছে। তাই বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত একটি নাটক। ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বি বলেন, বুয়েটে সুদীর্ঘ রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে তা বন্ধ হতে পারে না। বরং যারা জাতীয় দিবস পালনে বাধা দিয়েছে, বুয়েট প্রশাসনের উচিত তাদের বিচারের আওতায় আনা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান ইমতিয়াজ। রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার বিষয়ে বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, রাজনীতি না করলে শিক্ষার্থীদের চোখ খুলবে না, দেশের প্রতি তাদের প্রেম আসবে না। ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের গড়ে ওঠার জন্যই দরকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চাইলে বুয়েটে আবার ছাত্র রাজনীতি চালু হতে পারে। তিনি বলেন, তখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তাদের আবার উদ্যোগী হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা রাজনীতি করতেই হবে- এমন তো কাউকে জোর করতে পারব না। তারা যদি নিজ থেকে উদ্যোগ নেয়- আমরা শিখতে চাই, করতে চাই, প্র্যাকটিস করতে চাই, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে; আমরাও করতে চাই। তাদের যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তারা চালু করতে পারে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। মিডিয়ায় বুয়েটের আন্দোলনরত বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বুয়েটের ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি না চাওয়া মানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মতাদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। আমরা শুধু চাই না, ক্ষমতার লোভ এবং অপচর্চা আবারও এসে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে না ফেলুক। হিজবুত তাহরীর ও শিবিরের প্রসঙ্গে তারা বলেন, হিজবুত তাহরীর কোনো রাজনৈতিক দল না বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। আমরা হিজবুত তাহরীরের নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ বিপক্ষে এবং এ জাতীয় অপশক্তির উত্থান যেন বুয়েটে না হয় এ জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবিরের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসছে তাদের ঘটনাটি বুয়েটের বাইরে হয়েছে এবং এর সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত আহ্বান জানাই এবং এটি আমাদের পূর্বের একটি আন্দোলনের অন্যতম দাবি হিসেবে ছিল। আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়ে তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে কেউ কোনোরূপ সমাগম করেনি। শিক্ষার্থীদের ফোন কলে হুমকি-ধমকি প্রদান করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম গুজব, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ছবি নাম পরিচয়সহ পোস্ট করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয়- এমন সব অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমতাবস্থায় বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছাত্ররাজনীতি বিতর্কে বুয়েট

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪

নিউজ ডেস্ক:


আবারও ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কর্মসূচি পালন করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। গতকাল তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বুয়েট মুক্ত রাখার দাবিও করেছে।

বুয়েটে এবারের আন্দোলনের গতকাল ছিল তৃতীয় দিন। বিকালে সংবাদ সম্মেলন ছাড়া প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে ছিল না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে পূর্বনির্ধারিত টার্মফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়নি কোনো শিক্ষার্থী। বিপরীতে ছাত্রলীগ গতকাল সকাল থেকে ছিল সক্রিয়। মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বুয়েটে প্রবেশ করে। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। সমাবেশে বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে অসাংবিধানিক, মৌলিক অধিকার পরিপন্থি ও শিক্ষাবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। জঙ্গি সংগঠনগুলোর অন্ধকার রাজনীতির জন্য আবরার ফাহাদের বিষয়কে সামনে এনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম (ইমতিয়াজ রাব্বি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি রাজীবুল ইসলাম বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীম। এ সময় গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বুয়েটে প্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্ররাজনীতি প্রতিরোধের আন্দোলন ও ঢুকতে সহযোগিতা করা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বির সিট বাতিল করার প্রতিবাদ করেন তারা। রাব্বির সিট ফিরিয়ে না দিলে বুয়েটে কমিটি দেওয়ার প্রতিও আহ্বান জানান নেতা-কর্মীরা। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বুয়েটের শহীদ মিনারে ফুল দেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শতাধিক নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বুয়েট কি পাকিস্তান, ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে! বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে কোনো জায়গায় প্রবেশের অধিকার আমার রয়েছে। অনতিবিলম্বে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। দাবি মানা না হলে ছাত্রলীগ জানে, কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ইমতিয়াজের অপরাধ সে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ইফতার বিতরণ করেছে। স্বাধীনতা দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে, কার অনুমতি নিতে হবে? টাঙ্গুয়ার হাওড়ে যারা গ্রেফতার হয়েছে, জামিনে এসে তারা নির্ধারণ করছে কে ক্লাস করতে পারবে, কে পারবে না। শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা বুয়েটই বন্ধ রেখেছে। সেখানে নিষিদ্ধ রাজনীতির চাষাবাদ হচ্ছে। বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর, জেএমবি ও ছাত্র শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ই-মেইলে দাওয়াত দিচ্ছে, টাঙ্গুয়ার হাওরে শিবির দেশ বিরোধী মিটিং করেছে। তাই বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত একটি নাটক। ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বি বলেন, বুয়েটে সুদীর্ঘ রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে তা বন্ধ হতে পারে না। বরং যারা জাতীয় দিবস পালনে বাধা দিয়েছে, বুয়েট প্রশাসনের উচিত তাদের বিচারের আওতায় আনা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান ইমতিয়াজ। রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার বিষয়ে বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, রাজনীতি না করলে শিক্ষার্থীদের চোখ খুলবে না, দেশের প্রতি তাদের প্রেম আসবে না। ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের গড়ে ওঠার জন্যই দরকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চাইলে বুয়েটে আবার ছাত্র রাজনীতি চালু হতে পারে। তিনি বলেন, তখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তাদের আবার উদ্যোগী হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা রাজনীতি করতেই হবে- এমন তো কাউকে জোর করতে পারব না। তারা যদি নিজ থেকে উদ্যোগ নেয়- আমরা শিখতে চাই, করতে চাই, প্র্যাকটিস করতে চাই, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে; আমরাও করতে চাই। তাদের যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তারা চালু করতে পারে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। মিডিয়ায় বুয়েটের আন্দোলনরত বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বুয়েটের ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি না চাওয়া মানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মতাদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। আমরা শুধু চাই না, ক্ষমতার লোভ এবং অপচর্চা আবারও এসে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে না ফেলুক। হিজবুত তাহরীর ও শিবিরের প্রসঙ্গে তারা বলেন, হিজবুত তাহরীর কোনো রাজনৈতিক দল না বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। আমরা হিজবুত তাহরীরের নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ বিপক্ষে এবং এ জাতীয় অপশক্তির উত্থান যেন বুয়েটে না হয় এ জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবিরের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসছে তাদের ঘটনাটি বুয়েটের বাইরে হয়েছে এবং এর সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত আহ্বান জানাই এবং এটি আমাদের পূর্বের একটি আন্দোলনের অন্যতম দাবি হিসেবে ছিল। আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়ে তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে কেউ কোনোরূপ সমাগম করেনি। শিক্ষার্থীদের ফোন কলে হুমকি-ধমকি প্রদান করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম গুজব, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ছবি নাম পরিচয়সহ পোস্ট করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয়- এমন সব অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমতাবস্থায় বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি