ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় মিলেছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:


কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় মিলেছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। সোমবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করছে পুলিশ। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিহত আটজন হলেন- ভৈরবের রাধানগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আফজাল হোসেন (২৩), করিমগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলামের স্ত্রী হোসনা আক্তার, কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন কবির, বাজিতপুর উপজেলার ভু্ইয়াগাও গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে আছির উদ্দিন, ভৈরবের উত্তর রানীবাজার গ্রামের প্রধান শীলের ছেলে সবুজ চন্দ্র শীল, শ্রীনগর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে রাব্বী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে সাইমন মিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বরইছাড়া গ্রামের মৃত সুরত বালীর ছেলে নিজাম উদ্দিন সরকার।

এর আগে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার আছেন। যাদের উন্নত চিকিৎসা দরকার তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী ট্রেনটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব জংশনের কাছাকাছি গাইনাহাটি এলাকায় ঢাকাগামী এগারসিন্দুর ও ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মালবাহী একটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালবাহী ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল, আর যাত্রীবাহী ট্রেনটি যাচ্ছিল কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায়। ভৈরব জংশনের আউটার পয়েন্ট ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের শেষ দুই বগিতে ধাক্কা দেয় মালবাহী ট্রেনটি। এ সময় যাত্রীবাহী ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যায়।

এতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক যাত্রী। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় মিলেছে

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩

নিউজ ডেস্ক:


কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় মিলেছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। সোমবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করছে পুলিশ। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিহত আটজন হলেন- ভৈরবের রাধানগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আফজাল হোসেন (২৩), করিমগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলামের স্ত্রী হোসনা আক্তার, কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন কবির, বাজিতপুর উপজেলার ভু্ইয়াগাও গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে আছির উদ্দিন, ভৈরবের উত্তর রানীবাজার গ্রামের প্রধান শীলের ছেলে সবুজ চন্দ্র শীল, শ্রীনগর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে রাব্বী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে সাইমন মিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বরইছাড়া গ্রামের মৃত সুরত বালীর ছেলে নিজাম উদ্দিন সরকার।

এর আগে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার আছেন। যাদের উন্নত চিকিৎসা দরকার তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী ট্রেনটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব জংশনের কাছাকাছি গাইনাহাটি এলাকায় ঢাকাগামী এগারসিন্দুর ও ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মালবাহী একটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালবাহী ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল, আর যাত্রীবাহী ট্রেনটি যাচ্ছিল কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায়। ভৈরব জংশনের আউটার পয়েন্ট ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের শেষ দুই বগিতে ধাক্কা দেয় মালবাহী ট্রেনটি। এ সময় যাত্রীবাহী ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যায়।

এতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক যাত্রী। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি