ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদ্রোহী লীগের তান্ডবে নষ্ট হচ্ছে ফারুক চৌধুরীর গুছানো মাঠ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


বর্তমান তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জোরদার করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ঘাটে জোরেশোরে কাজ করে যাচ্ছেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। সেখানে নিজ দলের কিছু দলছুট বিদ্রোহী লীগের বগি নেতাদের কর্মকান্ডের উত্তেজনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরা আওয়ামী লীগের গুছানো মাঠ নষ্ট করতে বাপ দাদার ভিটে মাটি বিক্রি করে এমপি বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে নেমেছে।

এসব দলছুট নেতারা মনোনয়ন পাবেন না যেনেও দলের চেইন অব কমান্ড না মেনে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিবাদ সৃষ্টি করে ছত্রভঙ্গ করা হচ্ছে নেতাকর্মী সমর্থকদের। জানা গেছে, বিগত ২০০৯সাল থেকে শুরু হয়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগে বিদ্রোহীদের দৌড় ঝাপ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে পরপর দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে।

অথচ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুইবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চাকা মার্কা নিয়ে ভোট করেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। যার জন্য পরপর দুইবারই বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত এমরান আলী মোল্লার (ধানের) শীষ প্রতীকের কাছে পরাজিত বরণ করতে হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানীকে। ফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বার বার বিএনপির কাছে হারাতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে।

পরবর্তীতে (২০১৯)সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে না দিয়ে দেয়া হয় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশীদ ময়নাকে। কিন্তু আবারো দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি মার্কা নিয়ে ভোট করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম।

অবশ্য সেইবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকার্শে বিরোধিতা করলেও বিপুল ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না। তার পরেও বিরোধিতা করতে মরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা দুইজন আওয়ামী লীগের সংগঠন নিয়ে শুরু করেছে নিজের ইচ্ছে মত ইদুর বিড়াল খেলা।

যা সম্প্রতি,মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে ধরা পড়ে তাদের এই চক্রান্তের বেড়াজাল। সদ্য মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকার্শে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী তার অনুগত সাইদুর রহমানকে বিদ্রোহী প্রার্থী করে জগ মার্কা নিয়ে ভোটে দাঁড় করান। শুধু তাই না উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকার্শে এবং গোপনে নৌকার বিপক্ষে ভোট করাই জগ মার্কার কাছে ফেল করতে হয় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে।

তবে মুন্ডুমালা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭ থেকে ৮টি কেন্দ্রে নৌকা বিজয়ী হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর নিজ ভোট দেয়া কেন্দ্রে জগের পানিতে নৌকা ডুবি হয়। এতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে নৌকার পরাজয় ঘটায় মুন্ডুমালা বাজার জুড়ে জনসাধারণের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উল্লাস করেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম।

যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে হয়েছে। অথচ সেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াই আওয়ামী লীগের ব্যনারে ফুল নিবেদন করে দেয়া হয়েছে গণসংবর্ধনা। যা তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পেরেছিলেন না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের একের পর এক দল বিরোধী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকরা বলে জানান তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার। তিনি আরও বলেন,যাঁরা প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী তাঁরা কখনো দলের বিরুদ্ধে বিরোধিতা করবেনা, যখন তানোর গোদাগাড়ীতে বিএনপি জামাতের কাছে আওয়ামী লীগ অসহায় হয়েছিলো, কোথাও সভা সমাবেশ করার মতো নেতা ছিলোনা তখন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তার ব্যবসা বানিজ্য ত্যাগ করে তানোর গোদাগাড়ী আসনের দায়িত্ব হাতে তুলে নেন।

আজ তার নেতৃত্বে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের মাঠ চাঙ্গা ও শক্তিশালীতে রুপান্তর হয়েছে। তানোর গোদাগাড়ীতে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর কোন বিকল্প নেই বলছেন স্থানীয় জনতা ও দলীয় জনগণ।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্রোহী লীগের তান্ডবে নষ্ট হচ্ছে ফারুক চৌধুরীর গুছানো মাঠ

আপডেট সময় : ০৪:০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


বর্তমান তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জোরদার করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ঘাটে জোরেশোরে কাজ করে যাচ্ছেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। সেখানে নিজ দলের কিছু দলছুট বিদ্রোহী লীগের বগি নেতাদের কর্মকান্ডের উত্তেজনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরা আওয়ামী লীগের গুছানো মাঠ নষ্ট করতে বাপ দাদার ভিটে মাটি বিক্রি করে এমপি বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে নেমেছে।

এসব দলছুট নেতারা মনোনয়ন পাবেন না যেনেও দলের চেইন অব কমান্ড না মেনে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিবাদ সৃষ্টি করে ছত্রভঙ্গ করা হচ্ছে নেতাকর্মী সমর্থকদের। জানা গেছে, বিগত ২০০৯সাল থেকে শুরু হয়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগে বিদ্রোহীদের দৌড় ঝাপ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে পরপর দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে।

অথচ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুইবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চাকা মার্কা নিয়ে ভোট করেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। যার জন্য পরপর দুইবারই বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত এমরান আলী মোল্লার (ধানের) শীষ প্রতীকের কাছে পরাজিত বরণ করতে হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানীকে। ফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বার বার বিএনপির কাছে হারাতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে।

পরবর্তীতে (২০১৯)সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে না দিয়ে দেয়া হয় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশীদ ময়নাকে। কিন্তু আবারো দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি মার্কা নিয়ে ভোট করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম।

অবশ্য সেইবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকার্শে বিরোধিতা করলেও বিপুল ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না। তার পরেও বিরোধিতা করতে মরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা দুইজন আওয়ামী লীগের সংগঠন নিয়ে শুরু করেছে নিজের ইচ্ছে মত ইদুর বিড়াল খেলা।

যা সম্প্রতি,মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে ধরা পড়ে তাদের এই চক্রান্তের বেড়াজাল। সদ্য মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকার্শে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী তার অনুগত সাইদুর রহমানকে বিদ্রোহী প্রার্থী করে জগ মার্কা নিয়ে ভোটে দাঁড় করান। শুধু তাই না উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকার্শে এবং গোপনে নৌকার বিপক্ষে ভোট করাই জগ মার্কার কাছে ফেল করতে হয় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে।

তবে মুন্ডুমালা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭ থেকে ৮টি কেন্দ্রে নৌকা বিজয়ী হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর নিজ ভোট দেয়া কেন্দ্রে জগের পানিতে নৌকা ডুবি হয়। এতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে নৌকার পরাজয় ঘটায় মুন্ডুমালা বাজার জুড়ে জনসাধারণের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উল্লাস করেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম।

যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে হয়েছে। অথচ সেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াই আওয়ামী লীগের ব্যনারে ফুল নিবেদন করে দেয়া হয়েছে গণসংবর্ধনা। যা তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পেরেছিলেন না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের একের পর এক দল বিরোধী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকরা বলে জানান তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার। তিনি আরও বলেন,যাঁরা প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী তাঁরা কখনো দলের বিরুদ্ধে বিরোধিতা করবেনা, যখন তানোর গোদাগাড়ীতে বিএনপি জামাতের কাছে আওয়ামী লীগ অসহায় হয়েছিলো, কোথাও সভা সমাবেশ করার মতো নেতা ছিলোনা তখন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তার ব্যবসা বানিজ্য ত্যাগ করে তানোর গোদাগাড়ী আসনের দায়িত্ব হাতে তুলে নেন।

আজ তার নেতৃত্বে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের মাঠ চাঙ্গা ও শক্তিশালীতে রুপান্তর হয়েছে। তানোর গোদাগাড়ীতে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর কোন বিকল্প নেই বলছেন স্থানীয় জনতা ও দলীয় জনগণ।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি