ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ কমিশনে নন বিসিএস সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: এবি পার্টি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: পুলিশ প্রথমবারের মতো জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের সংস্কার চেয়েছে যা ইতিহাসে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। রোববার রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সম্মুখে ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন,পুলিশ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তে সকল রাজনৈতিক দলই একমত পোষণ করেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ কমিশন (যা ‘কমিশন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)গঠিত হবে একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে, যিনি ৭২ বছরের নিচে হবেন। কমিশনের সদস্য সচিব হবেন অবসরপ্রাপ্ত একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি ৬২ বছরের নিচে থাকবেন।

কমিশনে সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এদের মধ্যে থাকবেন—সংসদে সরকার দলের নেতা (লিডার অব দ্য হাউস), বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধীদল থেকে হবেন) একজন করে প্রতিনিধি। এ ছাড়া একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, যিনি হাইকোর্ট বিভাগে অন্তর্ভুক্ত এবং কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানবাধিকার কর্মী, যিনি কমপক্ষে ১০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হতে হবে। কিছু নির্ধারিত সদস্য বাছাইয়ের জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার সদস্য থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক।

এই প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনকে আমরা অসম্পূর্ণ মনে করছি। এবি পার্টি মনে করে বাংলাদেশের জনসাধারণের সাথে ওতপ্রোতভাবে কনস্টেবল ও এসআই কাজ করে।

এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এই কনস্টেবল ও এসআাইরা করে থাকে। তাই এই বৃহৎ অংশের প্রতিনিধি বাদ দিয়ে পুলিশ কমিশন পূর্ণতা হবে না। এই কমিশনে নন বিসিএস পুলিশ, গুম স্বীকার ব্যক্তি আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত দায়রা জজকে এবি পার্টি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন,রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি। রাষ্ট্র পরিচালনা মূলনীতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক, ন্যায়বিচারের সঙ্গে গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি—এই বিষয়গুলো যুক্ত করার সাথে এবি পার্টি একমত পোষণ করেছেন।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক সুলতান আরিফ ও ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পুলিশ কমিশনে নন বিসিএস সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: এবি পার্টি

আপডেট সময় : ০১:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
জাতীয় ডেস্ক: পুলিশ প্রথমবারের মতো জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের সংস্কার চেয়েছে যা ইতিহাসে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। রোববার রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সম্মুখে ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন,পুলিশ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তে সকল রাজনৈতিক দলই একমত পোষণ করেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ কমিশন (যা ‘কমিশন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)গঠিত হবে একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে, যিনি ৭২ বছরের নিচে হবেন। কমিশনের সদস্য সচিব হবেন অবসরপ্রাপ্ত একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি ৬২ বছরের নিচে থাকবেন।

কমিশনে সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এদের মধ্যে থাকবেন—সংসদে সরকার দলের নেতা (লিডার অব দ্য হাউস), বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধীদল থেকে হবেন) একজন করে প্রতিনিধি। এ ছাড়া একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, যিনি হাইকোর্ট বিভাগে অন্তর্ভুক্ত এবং কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানবাধিকার কর্মী, যিনি কমপক্ষে ১০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হতে হবে। কিছু নির্ধারিত সদস্য বাছাইয়ের জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার সদস্য থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক।

এই প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনকে আমরা অসম্পূর্ণ মনে করছি। এবি পার্টি মনে করে বাংলাদেশের জনসাধারণের সাথে ওতপ্রোতভাবে কনস্টেবল ও এসআই কাজ করে।

এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এই কনস্টেবল ও এসআাইরা করে থাকে। তাই এই বৃহৎ অংশের প্রতিনিধি বাদ দিয়ে পুলিশ কমিশন পূর্ণতা হবে না। এই কমিশনে নন বিসিএস পুলিশ, গুম স্বীকার ব্যক্তি আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত দায়রা জজকে এবি পার্টি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন,রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি। রাষ্ট্র পরিচালনা মূলনীতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক, ন্যায়বিচারের সঙ্গে গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি—এই বিষয়গুলো যুক্ত করার সাথে এবি পার্টি একমত পোষণ করেছেন।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক সুলতান আরিফ ও ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ।