ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলের জমি ব্যক্তির নামে সংশোধনে নেই উদ্যোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একের পর এক রেলওয়ের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালে রেলের ভূমি ব্যবস্থাপনার কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সব মিলিয়ে ৪২৭ একর জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ার তথ্য উঠে আসে। দখল হওয়া এসব জমির মধ্যে ১৫ দশমিক ২১৮৩ একর সিএস, এসএ, আরএস, বিএস জরিপের সময় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং নামজারি করা হয়েছে। প্রতিবেদন জমা পড়ার তিন বছর পার হলেও এসব জমি সংশোধনের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। এভাবে জমি দখল হয়ে যাওয়ায় শুধু লাইসেন্স ফি বাবদই বার্ষিক ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে রেলের।
সৈয়দপুর রেল সূত্র বলেছে, উপজেলা শহরে রেলওয়ের ৮০০ একর ভূসম্পত্তির মধ্যে ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমিতে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা গড়ে ওঠে। অবশিষ্ট জমির মধ্যে আছে রেলের বিভিন্ন স্থাপনা ও কর্মচারীদের জন্য বসতবাড়ি। অব্যবহৃত জমির মধ্যে ৫৫ একর কৃষি, ২১ দশমিক ৩৮ একর জলাশয়, ১ একর বাণিজ্যিক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি পৌরসভার কাছে আছে। আর স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত রেলের বাদবাকি ৪৩৭ একর জমি বেহাত বা দখল হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৮৫ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তি অনুযায়ী, জমির মালিকানা রেলের কাছেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু পৌরসভাকে দেওয়া ওই ২৫ দশমিক ৭৫ একরের ওপর ভিত্তি করেই রেলওয়ের জমি দিন দিন বেদখল হচ্ছে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শুধু জমি নয়, রেলের ১ হাজার ৪০০ বসতবাড়ির মধ্যে অর্ধেকের বেশি বেদখল হয়ে গেছে। রেলওয়ে কোয়ার্টার ভেঙে অনেক দখলদার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এগুলোতে নেসকো বিদ্যুৎ-সংযোগও দিয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি ও যোগসাজশে রেলওয়ের জমি অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি হয়েছে।’

এ বিষয়ে ৭ নম্বর কাছারি সৈয়দপুর কার্যালয়ের কানুনগো শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ কর্মস্থলে নতুন। ব্যাপারটি জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। আর আইনি কার্যক্রম নেওয়া না হলে দ্রুততম সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কথা হলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে। তাই রেলের জমি ব্যক্তির নামে নামজারির বিষয়টি কিংবা রেল কর্তৃপক্ষ নামজারি সংশোধনের জন্য কোনো মামলা করেছে কি না, তা জানা নেই। সরকারি জমি ব্যক্তির নামে নামজারি হওয়ার সুযোগ নেই। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তবে তা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলের জমি ব্যক্তির নামে সংশোধনে নেই উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
জাতীয় ডেস্ক: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একের পর এক রেলওয়ের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালে রেলের ভূমি ব্যবস্থাপনার কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সব মিলিয়ে ৪২৭ একর জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ার তথ্য উঠে আসে। দখল হওয়া এসব জমির মধ্যে ১৫ দশমিক ২১৮৩ একর সিএস, এসএ, আরএস, বিএস জরিপের সময় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং নামজারি করা হয়েছে। প্রতিবেদন জমা পড়ার তিন বছর পার হলেও এসব জমি সংশোধনের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। এভাবে জমি দখল হয়ে যাওয়ায় শুধু লাইসেন্স ফি বাবদই বার্ষিক ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে রেলের।
সৈয়দপুর রেল সূত্র বলেছে, উপজেলা শহরে রেলওয়ের ৮০০ একর ভূসম্পত্তির মধ্যে ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমিতে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা গড়ে ওঠে। অবশিষ্ট জমির মধ্যে আছে রেলের বিভিন্ন স্থাপনা ও কর্মচারীদের জন্য বসতবাড়ি। অব্যবহৃত জমির মধ্যে ৫৫ একর কৃষি, ২১ দশমিক ৩৮ একর জলাশয়, ১ একর বাণিজ্যিক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি পৌরসভার কাছে আছে। আর স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত রেলের বাদবাকি ৪৩৭ একর জমি বেহাত বা দখল হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৮৫ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তি অনুযায়ী, জমির মালিকানা রেলের কাছেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু পৌরসভাকে দেওয়া ওই ২৫ দশমিক ৭৫ একরের ওপর ভিত্তি করেই রেলওয়ের জমি দিন দিন বেদখল হচ্ছে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শুধু জমি নয়, রেলের ১ হাজার ৪০০ বসতবাড়ির মধ্যে অর্ধেকের বেশি বেদখল হয়ে গেছে। রেলওয়ে কোয়ার্টার ভেঙে অনেক দখলদার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এগুলোতে নেসকো বিদ্যুৎ-সংযোগও দিয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি ও যোগসাজশে রেলওয়ের জমি অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি হয়েছে।’

এ বিষয়ে ৭ নম্বর কাছারি সৈয়দপুর কার্যালয়ের কানুনগো শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ কর্মস্থলে নতুন। ব্যাপারটি জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। আর আইনি কার্যক্রম নেওয়া না হলে দ্রুততম সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কথা হলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে। তাই রেলের জমি ব্যক্তির নামে নামজারির বিষয়টি কিংবা রেল কর্তৃপক্ষ নামজারি সংশোধনের জন্য কোনো মামলা করেছে কি না, তা জানা নেই। সরকারি জমি ব্যক্তির নামে নামজারি হওয়ার সুযোগ নেই। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তবে তা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’