ছোট ও মাঝারি গরুতে ক্রেতার আগ্রহ বেশি
- আপডেট সময় : ০১:২৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: এক দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। এবার কোরবানির পশু হিসেবে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। হাট থেকে গরু নিয়ে ফিরছেন এক ক্রেতা। গতকাল রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায়।
পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে বড় আকারের ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী কিসমত আলী। গতকাল দুপুর পর্যন্ত একটিও বিক্রি হয়নি। আলাপকালে হতাশা নিয়ে বললেন, ভবিষ্যতে ঢাকায় আর বড় গরু আর আনবেন না। একটি গরুর পেছনে অনেক খরচ হলেও যে দাম বলছেন, তাতে খরচই উঠবে না।
রহমতগঞ্জ মাঠে গরু কিনতে কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা হাসিবুর রহমান বলেন, এবার দাম বেশি হাঁকা হচ্ছে। তবে পছন্দ হলে গরু কিনেই ফিরবেন। একই মত আরও কয়েকজন ক্রেতার। তাঁরা দর-কষাকষি করছিলেন। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতার দামের বেশি ব্যবধান হাসি ফোটাচ্ছিল না কারও মুখে।
রহমতগঞ্জ হাটে কয়েকটি গোলাপি ও কালো রঙের মহিষও উঠেছে। অবশ্য এই হাটের বড় আকর্ষণ মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের সাদা গরু। হাট পরিচালনাকারীরা জানান, মিরকাদিমের গরু ঈদের দু-এক দিন আগে ওঠে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় অল্প সময়েই বিক্রি হয়ে যায়।
দুপুরে শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটে দাম গতবারের মতো বলে জানালেন কমলাপুরের বাসিন্দা তাহমীদ। তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। বললেন, গত বছরও প্রায় একই দামে একই আকারের একটি গরু কিনেছিলেন।
ওই হাটে পাবনা থেকে ১৯টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী হামিদুল হক। তিনি বলেন, দাম কম-বেশি যা-ই হোক, কিছু লাভ থাকলেই ছেড়ে দেবেন। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি এলে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে কাদা। এমন পরিবেশে গরু কয়েক দিন থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
শাহজাহানপুর হাট পরিচালনাকারীদের একজন আশরাফুল ইসলাম জানান, তাঁদের হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকে বিক্রি পুরোদমে শুরু হয়েছে।
দুপুরে শাহজাহানপুর হাট পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, গরুর এমন একটা স্বাভাবিক দাম থাকুক, যেখানে কৃষক বা খামারি লাভবান হন এবং ক্রেতাও লাভবান হন। গরুর দাম যদি খুব কমে যায়, তখন কৃষক বা খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার দাম বেড়ে গেলে ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গতকাল রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটেই ব্যাংকের অস্থায়ী এটিএম বুথ খোলা হয়েছে। সেখানে টাকা তোলা ছাড়াও জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। হাটে রয়েছে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন।
যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটের গরু কলেজ মাঠ ছাড়িয়ে প্রতিবারের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের খালি জায়গা, পাশের সরু সড়কসহ আশপাশের সব সড়কে বিস্তৃত হয়েছে। ওই হাটের ‘সাদা বাবু’ নামের গরুটি সবার নজর কেড়েছে। বিশালদেহী গরুটির রং সাদা হওয়ায় এই নাম বলে জানান মালিক বাবুল মাতব্বর। ২৭ মণ ওজনের গরুটি গত রোববার আনা হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে। দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। এক ক্রেতা আট লাখ টাকা দাম বলেছেন। উৎসাহী শিশু-কিশোরেরা গরুটির সঙ্গে সেলফি তুলছিল। ওই হাটে প্রচুর গরু উঠেছে।
হাটের ইজারাদার তারিকুল ইসলাম জানান, এই হাটে ৬০টি সিসি ক্যামেরা, জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, তিনটি ব্যাংকের বুথসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।




















