শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক মোকাবিলায় উদ্যোগ
ওষুধ শিল্পে বড় ছাড়
ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৭৯টি নতুন কাঁচামালকে শুল্কমুক্ত তালিকায় আনা হচ্ছে। এতে দেশে চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস এবং স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
খেলনা, কোল্ড স্টোরেজ ও ক্রিকেট ব্যাট প্রস্তুতকারীদের জন্য সুখবর
কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কোল্ড স্টোরেজ যন্ত্রপাতির (বিশেষ করে কম্প্রেসর) ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। খেলনা ও ক্রিকেট ব্যাট তৈরির কাঁচামালে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি প্রস্তুত খেলনার আমদানি শুল্কমূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৪ ডলার। উইলো কাঠের (ক্রিকেট ব্যাট তৈরির জন্য জনপ্রিয় কাঠ) শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৬ শতাংশ করার প্রস্তাবও থাকছে।
গণপরিবহনে সহায়তা
ঢাকার যানজট নিরসনে ১৬ থেকে ৪০ আসনের বাস আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। মাইক্রোবাসে (১০-১৫ আসন) সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চিনির শুল্ক হ্রাস
পরিশোধিত চিনির ওপর নির্দিষ্ট শুল্ক ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার টাকা প্রতি টন করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বাজারে দামের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
সফটওয়্যার রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়তা
দেশীয় সফটওয়্যার রফতানিতে উৎসাহ দিতে সফটওয়্যার উন্নয়ন সরঞ্জাম, অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেস এবং সিকিউরিটি সফটওয়্যারের আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আনা হচ্ছে।
বিলাসপণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব
অপরিহার্য খাতে শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি বিলাসপণ্যে শুল্ক মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, লিপস্টিক ও ফেসওয়াশের ন্যূনতম শুল্ক মূল্য দ্বিগুণ করে প্রতি কেজি ৪০ ডলার করা হচ্ছে। চকোলেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
হেলিকপ্টার আমদানিতে শুল্ক বাড়ছে
ব্যবসা ও জরুরি সেবায় ব্যবহৃত হেলিকপ্টার আমদানিতে শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এলএনজিতে ভ্যাট মওকুফ
শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে এলএনজি আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মওকুফ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
করপোরেট ও আয়করে পরিবর্তন আসছে
রাজস্ব আয় বাড়াতে আসন্ন বাজেটে আয়কর কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের জন্য পুনরায় ৩০ শতাংশ করহার চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আয়ের বিভিন্ন স্তর অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন করহার নির্ধারণ করে ধাপে বাড়তে থাকা হারে (গ্র্যাজুয়েটেড) কর কাঠামো চালুর চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে। ফলে স্বল্প আয়ের করদাতাদের তুলনায় উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ বেশি পড়বে।
উল্লেখ্য, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে এলডিসি পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা। একইসঙ্গে রাজস্ব আহরণ, শিল্পোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।





















