হজ্জ্ব আত্মশুদ্ধির অনন্য সফর
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫ ১২২ বার পড়া হয়েছে
তারপর আরাফাহ। ৯ জিলহজ। সূর্য গড়ায়, ময়দানে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে চোখ ভেজানো দোয়ায়। এটাই হজের মূল। এটাই কান্না, মিনতি, আত্মসমর্পণের দিন।
সূর্য ডুবে গেলে সবাই যায় মুজদালিফায়। রাতটা কাটে খোলা আকাশের নিচে। আকাশ তখন তাঁবু। চাঁদ-তারার সঙ্গে তখন হৃদয়ে খেলা চলে। আল্লাহর অবাক করা সৃষ্টির সঙ্গে মনের মিতালি গড়ে ওঠে। কত নেয়ামত দিয়ে প্রভু সাজিয়েছেন এই আকাশ। মনে জাগে, ‘ফাবি আইয়ি আলায়ি রাব্বিকুমাতুকাজ্জিবান—অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে!’ সেই রাতেই পাথর কুড়িয়ে রাখে সকালের জন্য। শয়তানকে নিক্ষেপের প্রস্তুতি।
তারপর কোরবানি। হজে তামাত্তু কিংবা কিরান করলে এই কোরবানি ওয়াজিব। প্রাণী জবাইয়ের সেই মুহূর্তে এক ধরনের অনুভূতি হয়—কিছু ত্যাগ করার, কিছু বিলিয়ে দেওয়ার।
সবশেষে আবার মিনা—১১,১২, চাইলে ১৩ তারিখও। তিনটা জামারাতে সাতটা করে পাথর। প্রতিদিন। ছোট, মাঝারি, বড়। একটা করে দিনের বিদায়। রাতগুলো কাটে মিনার তাঁবুতে।
সবশেষে মক্কা ছাড়ার সময় কাবা ঘরের চারপাশে বিদায়ী তাওয়াফ। হেঁটে হেঁটে চোখ ভিজে যায়। মনে হয়—এতো তাড়াতাড়ি চলে যেতে হচ্ছে কেন?
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে হজ করল, অশ্লীলতা বা গুনাহে লিপ্ত হলো না, সে ফিরে আসবে নিঃসন্দেহে নিষ্পাপ হয়ে—যেমন একেবারে নবজাতক ছিল।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৩৫০)
হজ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটা একধরনের নিঃশব্দ বিপ্লব। নিজেকে বদলে ফেলার শুরু। আত্মা ধুয়ে ফেলার সময়।




















