ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-পাকিস্তান যতবার যুদ্ধে জড়িয়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫ ১০২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বৈরী। এরপর থেকে কাশ্মীর প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে দুই দেশ। বুধবার বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে দুই দেশের বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ ও সংঘর্ষে জড়ানোর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।

 দেশভাগের মাত্র কয়েক মাস পরেই প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়। যা ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে সীমান্ত লঙ্ঘন, গেরিলা অনুপ্রবেশ ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। যুদ্ধ স্থায়ী হয় প্রায় এক মাস, কোনো পক্ষই স্পষ্ট জয় পায়নি। উভয় দেশই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং রাশিয়ার মধ্যস্থতায় তাসখন্দ চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধটি শেষ হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার একটি যুদ্ধ হয়। ভারতের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের ফলে পাকিস্তান বিপর্যস্ত হয় এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৯৯ সালের কার্গিল সংঘাতে পাকিস্তানি সেনারা ভারত-শাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করেছিল; এটি ছিল পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ। যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের জন্ম দেয়।

অভিযানের পর ভারতের তৎকালীন সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর-জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “হামলাকারীরা যেন ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষতি করার সুযোগ না পায়, সে জন্য এ হামলা চালানো হয়েছে।”

পাকিস্তান তাদের নিজস্ব বিমান আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়, যা কার্গিলের পর থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক উত্তেজনার একটি।

ভারতের জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ওই হামলা হয়। হামলার দায় স্বীকার করে নেয় পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জয়শ-ই-মুহাম্মদ।

ওই সময় তীব্র ক্ষোভের মধ্যে পড়ে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী।

হামলার পর নয়া দিল্লি দাবি করে, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ আস্তানায় আঘাত হেনেছে এবং কয়েক ডজন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের যুদ্ধবিমান একটা বনাঞ্চলে আঘাত হেনেছে এবং এতে কারো মৃত্যু হয়নি।

ইসলামাবাদ দাবি করে, তাদের যুদ্ধবিমান ভারতের বিমানকে ধাওয়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখায় ফিরে যেতে বাধ্য করে।

এ ঘটনার একদিন পর ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যার সমাপ্তি ঘটে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে ভারতীয় একটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ওই সময় ভারতীয় এক পাইলট আটক হন এবং কয়েক দিন পর দেশে ফেরেন।

গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটক হত্যার ঘটনা ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয় অস্থিরতা। এর মাঝেই বুধবার ভোর রাতে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের সীমান্ত এলাকায় ভারত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারত-পাকিস্তান যতবার যুদ্ধে জড়িয়েছে

আপডেট সময় : ০১:১৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বৈরী। এরপর থেকে কাশ্মীর প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে দুই দেশ। বুধবার বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে দুই দেশের বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ ও সংঘর্ষে জড়ানোর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।

 দেশভাগের মাত্র কয়েক মাস পরেই প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়। যা ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে সীমান্ত লঙ্ঘন, গেরিলা অনুপ্রবেশ ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। যুদ্ধ স্থায়ী হয় প্রায় এক মাস, কোনো পক্ষই স্পষ্ট জয় পায়নি। উভয় দেশই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং রাশিয়ার মধ্যস্থতায় তাসখন্দ চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধটি শেষ হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার একটি যুদ্ধ হয়। ভারতের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের ফলে পাকিস্তান বিপর্যস্ত হয় এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৯৯ সালের কার্গিল সংঘাতে পাকিস্তানি সেনারা ভারত-শাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করেছিল; এটি ছিল পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ। যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের জন্ম দেয়।

অভিযানের পর ভারতের তৎকালীন সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর-জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “হামলাকারীরা যেন ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষতি করার সুযোগ না পায়, সে জন্য এ হামলা চালানো হয়েছে।”

পাকিস্তান তাদের নিজস্ব বিমান আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়, যা কার্গিলের পর থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক উত্তেজনার একটি।

ভারতের জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ওই হামলা হয়। হামলার দায় স্বীকার করে নেয় পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জয়শ-ই-মুহাম্মদ।

ওই সময় তীব্র ক্ষোভের মধ্যে পড়ে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী।

হামলার পর নয়া দিল্লি দাবি করে, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ আস্তানায় আঘাত হেনেছে এবং কয়েক ডজন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের যুদ্ধবিমান একটা বনাঞ্চলে আঘাত হেনেছে এবং এতে কারো মৃত্যু হয়নি।

ইসলামাবাদ দাবি করে, তাদের যুদ্ধবিমান ভারতের বিমানকে ধাওয়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখায় ফিরে যেতে বাধ্য করে।

এ ঘটনার একদিন পর ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যার সমাপ্তি ঘটে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে ভারতীয় একটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ওই সময় ভারতীয় এক পাইলট আটক হন এবং কয়েক দিন পর দেশে ফেরেন।

গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটক হত্যার ঘটনা ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয় অস্থিরতা। এর মাঝেই বুধবার ভোর রাতে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের সীমান্ত এলাকায় ভারত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।