ভিতরে ৪০ জন লোক ট্রেনিংয়ে উপস্থিতি ছিল বাইরের লোককে ডেকে স্বাক্ষর করিয়ে ৭৫জন দেখানো হয়েছে
প্রশিক্ষণের অর্থ আত্মসাৎ ও সরকারি বরাদ্দের পাট বীজ বিতরণের অনিয়ম
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় চাষিদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সরকারের বরাদ্দকৃত পাট ও পাটবীজ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রুবেল রানার বিরুদ্ধে। পাট চাষিদের নামে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে জাল স্বাক্ষর দিয়ে তিনি পাট ও পাটবীজ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করছেন পাট চাষিরা।
অন্যদিকে ২০২৩/২৪ সালে উপজেলার ৭৫ জন পাট চাষিকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠ চাষের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষকদের ভুয়া তালিকা তৈরি করে প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও একটি সূত্রে জানা যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাট চাষী সাধারণ কৃষককে প্রশিক্ষণের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও ঘটেছে তার উল্টো দিক। প্রশিক্ষণের নামে উপজেলায় কর্মরত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ড্রাইভার তপু, বাসা নাটোর, ইউএনও অফিসের নাজির, বাসা বাগমারা , তথ্য সেবা অফিসের পিয়ন লিটন, বাসা পঞ্চগড়, পরিসংখ্যান অফিসের পিয়ন আবুল কাশেম, বাসা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আনসার সদস্য শুভ, বাসা নওগাঁ, ইএনও অফিসের নাসরিন, বাসা রাজশাহী।
অফিসের পিয়ন ড্রাইভার আনসার সদস্য এইরকম অনেককে কৃষক বানিয়ে টাকা লোপাট করছে। উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ অর্থবছরে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুর্গাপুর উপজেলার পাট চাষিদের জন্য যে পরিমাণ বীজ এবং সার বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটিও কৃষকরা সঠিকভাবে পায় না । কিন্তু উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রুবেল রানা পাট চাষিদের ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে জাল স্বাক্ষর দিয়ে বরাদ্দের সার বীজ উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেন।
বিষয়টি নিয়ে পানানগর গ্রামের পাট চাষি রুবেল বলেন, ২০২৪ সালে আমি কোনো পাটবীজ কিংবা এক ছটাক সারও পাইনি প্রশিক্ষণ ও পাইনি। একই অভিযোগ করেন রবিউল, দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের পাট চাষি একরামুল হক, সাইদুর রহমানসহ অনেক পাট চাষি।
অভিযোগের প্ররিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রুবেল রানা প্রসঙ্গনিউজ২৪.কম কে বলেন, কাজ করলে একটু ভুল ত্রুটি হতে পারে। জেলার ৬টি উপজেলায় এই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে । তাছাড়া তালিকা দেয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন। আপনারা চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নের জবাবে সর্বশেষ তিনি নিজে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ও করজোড়ে মিনতি করে বলেন, আমার ভুল হয়েছে আর কোনদিন এরকম ভুল হবেনা।এটিই শেষ নয়। গণমাধ্যমকমীদের খুশি করার জন্য অর্থ দিয়ে প্রতিবেদন না করারও প্রস্তাব দেন দূণীতিবাজ কর্মকর্তা রুবেল রানা।
উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প পাট চাষ এবং সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে পাট উন্নয়ন জেলা কর্মকর্তা অজিত বলেন, আমি শুধু স্বাক্ষর করি কাকে টাকা দিল এ বিষয়টা আমি কিছু জানিনা। প্রতিটি উপজেলায় ৭৫জন করে প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করবে। নাস্তা বাবদ ৫০ টাকা, দুপুরের খাবার ২০০ টাকা ও একটি ব্যাগ ১৭০ টাকা এবং প্রতিজন কৃষকের হাতে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা । সর্বমোট প্রতিজন কৃষকের খরচ দাঁড়ায় ৯২০ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরে জমিনে প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভিতরে ৪০ জন লোক ট্রেনিংয়ে উপস্থিতি ছিল বাইরের লোককে ডেকে স্বাক্ষর করিয়ে ৭৫জন দেখানো হয়েছে । পরে জেলা কর্মকর্তা বলেন এই ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাটওপাট বীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা আমি আপনার কাছ থেকে বিষয়টি শোনার পর এবং আমার ড্রাইভার প্রশিক্ষণে থাকার প্রমাণ পাওয়ায় পাটকর্মকর্তাকে শোকজ লেটার দিয়েছি । সংশ্লিষ্ট জেলা পাট কর্মকর্তা ও ডিসি স্যারকে বিষয়টি অনুলিপি প্রেরণ করেছি, আমার অফিসে আরো যারা এই পাট প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
গোপন তথ্য সূত্রে জানা যায় প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামানিক উপস্থিত ছিলেন। তার সামনে উপজেলা চত্বরে কর্মরত উপরে উল্লেখিত ৬ জন স্টাফ সহ আরো অনেকেই বসেছিলেন ধারণা করা যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি সকল কিছুই অবগত।
প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি























