‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নামে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিচারপতি, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন দল ও মতের ধর্মীয় নেতা, পীর-মাশায়েখ, আলেম-উলামা, সাংকৃতিক ব্যক্তিত্ব সংগঠক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় ‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। হাজার বছরের সম্প্রীতি রক্ষার প্রত্যয়ে অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী, অসাম্প্রদায়িক এ সংগঠনটি গঠিত হয়।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকাল ০৩.০০ ঘটিকায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। সভায় সকল দল, পথ, ধর্ম-মতের প্রতিনিধিত্বকারীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদও গঠিত হয়। উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদ, দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ প্রমুখ।
ডা. মাহবুব আলম মাহফুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতি, নবগঠিত ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ এর আহ্বায়ক ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম তার বক্তব্যে নিরপেক্ষতার নামে নিষ্ক্রীয় ভূমিকায় না থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ডের নাম নয়- এটি বিভিন্ন জাতিসত্তা, ধর্ম, মত ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সহাবস্থান, বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার। নানা দেশ ও জাতির মানুষের আগমন, বিভিন্ন ধর্ম-মতের বিকাশ এবং বহু সংস্কৃতির মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে এই ভূখণ্ডের সমাজ-সংসার।
যুগ থেকে যুগান্তরে ভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করেছে, একে অপরের উৎসব-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে আসছে। আজ আবহমান বাংলার সেই ঐতিহ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বৈশ্বিক উগ্রবাদের কালো ছায়া এসে পড়েছে এই লাল-সবুজের মানচিত্রের ওপরও। এর প্রভাবে শুধু উগ্রবাদ বা সহিংসতার বিস্তারই ঘটেনি, সমাজে নারী ও ভিন্নমতের মানুষের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ, সংকীর্ণ ও অসহিষ্ণু দৃষ্টিভঙ্গিও জায়গা করে নিয়েছে। ধর্মীয় হুজুগ তুলে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হচ্ছে সুফি মাজার, দরগাহ ও খানকায়; এমনকি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিল্পকলা কিংবা গণমাধ্যম কার্যালয়ও।
সংগঠনের এই উদ্যোক্তা বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ শহরে পরিণত হয়েছে আমাদের রাজধানী ঢাকা। এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আমাদের হাজার বছরের সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতিও। এই বাস্তবতায় আর নীরবতা নয়, নিরপেক্ষতার নামে নিষ্ক্রীয়তা নয়- এখন প্রয়োজন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো।” -বলেন হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সুফিবাদী প্রখ্যাত বাউল শিল্পী লতিফ সরকার, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদেও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শ্রী মনিন্দ্র কুমার নাথ। আরো উপস্থিত ছিলেন বাউল শিল্পী ফকির আবুল সরকার, মুসলিম লীগের সভাপতি এ্যাড. মহসিন হোসেন।
বক্তারা বলেন, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ মানে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের, সকল দল-উপদলের মানুষ সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করবে। বাংলাদেশ কোনো একক ধর্ম, দল বা গোষ্ঠীর নয়- বাংলাদেশ প্রতিটি নাগরিকের, বাংলাদেশ সবার। বাংলাদেশের চেতনা ও প্রত্যয় ধারণ করে, দেশের যাবতীয় বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রত্যেক মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায়, মানবাধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।





















