ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিপি আয়নূল হককে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়: জামায়াত আমীর আলী মর্তুজা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হককে ঘিরে ধানগড়ায় সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রায়গঞ্জ উপজেলা শাখা। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. এস এম মুনসুর আলীর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর আলী মর্তুজা।

লিখিত বক্তব্যে আলী মর্তুজা বলেন, ধানগড়ায় সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হককে ঘিরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। তবে ঘটনাটিকে কোনোভাবেই দলীয় সংঘাত বা রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ধানগড়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবিকে কেন্দ্র করে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ দাবির সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ সম্পৃক্ত থাকলেও এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সাংগঠনিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই।

জামায়াত আমীর বলেন, টিটিসি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে পুরো উপজেলাবাসীর জন্য সুবিধাজনক স্থানে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা উচিত। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি না করে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ঘটনার দিন কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। ওই কর্মসূচিতে সাংগঠনিকভাবে অংশগ্রহণের জন্য রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। তাই একটি স্থানীয় দাবিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবি হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, কিছুদিন ধরে ফয়সাল বিশ্বাসের কিছু বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা এবং ধানগড়াবাসীকে কটাক্ষ করার মতো বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে এমপি ভিপি আয়নুল হক ফয়সাল বিশ্বাসকে তাঁর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কারা গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এরপর ফয়সাল বিশ্বাস গাড়িতে এমপির পাশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনাটিকে ভিন্ন রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জামায়াত-শিবিরকে হামলার জন্য দায়ী করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের ওপর হামলার দায় চাপানো অনুচিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, হামলা-উস্কানি ও অশালীন আচরণের সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার বন্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং টিটিসি স্থাপনের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে স্থান নির্ধারণী কমিটি গঠন করে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা।

আলী মর্তুজা বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না, কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা চাই সত্য উদঘাটিত হোক, অপরাধী শাস্তি পাক এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হোক।”

তিনি সাংবাদিকদের যাচাই-বাছাই করে সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের অনুরোধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন, বায়তুল মাল সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ডা. কামরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি সুমন আহমেদ, পৌর আমীর আলহাজ্ব হোসেন আলী, রায়গঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন আকন্দ, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মাসুদ রানা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতারা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নামে মিথ্যা অপবাদ কারও জন্যই শুভকর নয়। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করাই সবার দায়িত্ব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভিপি আয়নূল হককে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়: জামায়াত আমীর আলী মর্তুজা

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হককে ঘিরে ধানগড়ায় সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রায়গঞ্জ উপজেলা শাখা। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. এস এম মুনসুর আলীর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর আলী মর্তুজা।

লিখিত বক্তব্যে আলী মর্তুজা বলেন, ধানগড়ায় সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হককে ঘিরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। তবে ঘটনাটিকে কোনোভাবেই দলীয় সংঘাত বা রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ধানগড়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবিকে কেন্দ্র করে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ দাবির সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ সম্পৃক্ত থাকলেও এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সাংগঠনিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই।

জামায়াত আমীর বলেন, টিটিসি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে পুরো উপজেলাবাসীর জন্য সুবিধাজনক স্থানে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা উচিত। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি না করে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ঘটনার দিন কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। ওই কর্মসূচিতে সাংগঠনিকভাবে অংশগ্রহণের জন্য রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। তাই একটি স্থানীয় দাবিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবি হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, কিছুদিন ধরে ফয়সাল বিশ্বাসের কিছু বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা এবং ধানগড়াবাসীকে কটাক্ষ করার মতো বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে এমপি ভিপি আয়নুল হক ফয়সাল বিশ্বাসকে তাঁর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কারা গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এরপর ফয়সাল বিশ্বাস গাড়িতে এমপির পাশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনাটিকে ভিন্ন রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জামায়াত-শিবিরকে হামলার জন্য দায়ী করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের ওপর হামলার দায় চাপানো অনুচিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, হামলা-উস্কানি ও অশালীন আচরণের সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার বন্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং টিটিসি স্থাপনের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে স্থান নির্ধারণী কমিটি গঠন করে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা।

আলী মর্তুজা বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না, কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা চাই সত্য উদঘাটিত হোক, অপরাধী শাস্তি পাক এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হোক।”

তিনি সাংবাদিকদের যাচাই-বাছাই করে সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের অনুরোধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন, বায়তুল মাল সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ডা. কামরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি সুমন আহমেদ, পৌর আমীর আলহাজ্ব হোসেন আলী, রায়গঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন আকন্দ, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মাসুদ রানা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতারা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নামে মিথ্যা অপবাদ কারও জন্যই শুভকর নয়। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করাই সবার দায়িত্ব।