ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলোয়াড়রা খেলার আগে শিশুদের নিয়ে মাঠে নামার অজানা রহস্য ভেদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১৯৪৯ বার পড়া হয়েছে
স্পোর্টস ডেস্ক: খেলোয়াড়রা খেলার আগে শিশুদের নিয়ে মাঠে নামেন কেন? ফুটবল বা ক্রিকেট ম্যাচে দল যখন মাঠে প্রবেশ করে, তখন খেলোয়াড়দের হাত ধরে ছোট ছোট শিশুদেরও হাঁটতে দেখা যায়। এই শিশুদের বলা হয় ‘প্লেয়ার এসকর্ট’ বা ‘ম্যাসকট’। দেখতে দারুণ লাগা এই দৃশ্যটির পেছনে রয়েছে একটি সুন্দর ইতিহাস এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

প্রথার ইতিহাস: 

এই প্রথা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে এর প্রচলন। ১৯৯৬ সালে লিভারপুল ও এভারটনের একটি ম্যাচে দুই দলের অধিনায়কের সাথে দুজন শিশু মাঠে নামে। মজার ব্যাপার হলো, এভারটনের সেই শিশুদের একজন ছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সী ভবিষ্যতের ফুটবল তারকা ওয়েন রুনি।

২০০০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সাথে একজন করে শিশু মাঠে আসে। ২০০২ সাল (বিশ্বকাপ): ফিফা এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে শিশুদের অধিকার রক্ষায় ‘Say Yes to Children’ বা ‘শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন’ প্রচারণা চালায়। এরপর থেকেই প্রথাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়।

খেলোয়াড়রা খেলার আগে শিশুদের নিয়ে মাঠে নামেন কেন?

ছবি: সংগৃহীত

কেন শিশুদের মাঠে আনা হয়?

বর্তমানে বিভিন্ন ক্লাব ও টুর্নামেন্টে শিশুদের মাঠে নিয়ে আসার পেছনে মূলত ৫টি কারণ থাকে:

১. সামাজিক সচেতনতা ও দাতব্য কাজ: অনেক সময় ফিফা বা বড় বড় সংস্থা শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের বার্তা দিতে এদের মাঠে আনে।

আবার কোনো কোনো ক্লাব অসুস্থ বা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ইচ্ছা পূরণের জন্য এবং দাতব্য তহবিলের অর্থ সংগ্রহের জন্য এই সুযোগ দেয়।

২. স্পন্সর ও প্রতিযোগিতা: বিশ্বকাপের স্পন্সর (যেমন- ম্যাকডোনাল্ডস) বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেখানে বিজয়ী শিশুরা প্রিয় তারকার সাথে মাঠে নামার সুযোগ পায়।

৩. অনুপ্রেরণা জোগানো: ক্লাবের নিজস্ব ফুটবল একাডেমির মেধাবী শিশুদের পুরস্কার হিসেবে মূল দলের সাথে পাঠানো হয়, যাতে তারা অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে বড় খেলোয়াড় হতে পারে।

৪. সমর্থকদের সম্মান জানানো: যেসব সমর্থক নিয়মিত খেলা দেখেন এবং সিজন টিকিট কেনেন, তাদের সন্তানদের লটারির মাধ্যমে এই বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়।

৫. পরিবারবান্ধব পরিবেশ: গ্যালারির উগ্রতা কমিয়ে খেলার মাঠের পরিবেশকে আরও মানবিক ও পরিবারবান্ধব করাই এর মূল লক্ষ্য।

(এমনকি ইদানীং পশু দত্তক নেওয়ার সচেতনতা বাড়াতে শিশুদের পাশাপাশি কুকুর ছানাও মাঠে আনা হচ্ছে)।

বয়সসীমা ও অন্যান্য তথ্য

সাধারণত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের এই কাজের জন্য নির্বাচন করা হয়। কারণ, ৫ বছরের ছোট শিশুরা হাজার হাজার দর্শকের সামনে ভয় পেতে পারে, আর ১৭ বছরের বেশি বয়সীদের শিশু গণ্য করা হয় না।

কিছু কিছু বিখ্যাত ক্লাব (যেমন- চেলসি) নির্দিষ্ট ফি বা অর্থের বিনিময়েও শিশুদের এই সুযোগ দেয়। তবে চেলসির মতো ক্লাবে আবেদনকারীর সংখ্যা এত বেশি যে, বর্তমানে সেখানে কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকতে হয়।

হাজারো দর্শকের সামনে যখন একটি শিশু তার প্রিয় তারকার হাত ধরে মাঠে নামে, তখন তার মনেও একদিন বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয়। আজকের এই ছোট্ট শিশুটিই যে আগামী দিনের ‘ওয়েন রুনি’ বা বিশ্বকাঁপানো তারকা হবে না, তা কে বলতে পারে!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খেলোয়াড়রা খেলার আগে শিশুদের নিয়ে মাঠে নামার অজানা রহস্য ভেদ

আপডেট সময় : ০১:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক: খেলোয়াড়রা খেলার আগে শিশুদের নিয়ে মাঠে নামেন কেন? ফুটবল বা ক্রিকেট ম্যাচে দল যখন মাঠে প্রবেশ করে, তখন খেলোয়াড়দের হাত ধরে ছোট ছোট শিশুদেরও হাঁটতে দেখা যায়। এই শিশুদের বলা হয় ‘প্লেয়ার এসকর্ট’ বা ‘ম্যাসকট’। দেখতে দারুণ লাগা এই দৃশ্যটির পেছনে রয়েছে একটি সুন্দর ইতিহাস এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

প্রথার ইতিহাস: 

এই প্রথা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে এর প্রচলন। ১৯৯৬ সালে লিভারপুল ও এভারটনের একটি ম্যাচে দুই দলের অধিনায়কের সাথে দুজন শিশু মাঠে নামে। মজার ব্যাপার হলো, এভারটনের সেই শিশুদের একজন ছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সী ভবিষ্যতের ফুটবল তারকা ওয়েন রুনি।

২০০০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সাথে একজন করে শিশু মাঠে আসে। ২০০২ সাল (বিশ্বকাপ): ফিফা এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে শিশুদের অধিকার রক্ষায় ‘Say Yes to Children’ বা ‘শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন’ প্রচারণা চালায়। এরপর থেকেই প্রথাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়।

খেলোয়াড়রা খেলার আগে শিশুদের নিয়ে মাঠে নামেন কেন?

ছবি: সংগৃহীত

কেন শিশুদের মাঠে আনা হয়?

বর্তমানে বিভিন্ন ক্লাব ও টুর্নামেন্টে শিশুদের মাঠে নিয়ে আসার পেছনে মূলত ৫টি কারণ থাকে:

১. সামাজিক সচেতনতা ও দাতব্য কাজ: অনেক সময় ফিফা বা বড় বড় সংস্থা শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের বার্তা দিতে এদের মাঠে আনে।

আবার কোনো কোনো ক্লাব অসুস্থ বা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ইচ্ছা পূরণের জন্য এবং দাতব্য তহবিলের অর্থ সংগ্রহের জন্য এই সুযোগ দেয়।

২. স্পন্সর ও প্রতিযোগিতা: বিশ্বকাপের স্পন্সর (যেমন- ম্যাকডোনাল্ডস) বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেখানে বিজয়ী শিশুরা প্রিয় তারকার সাথে মাঠে নামার সুযোগ পায়।

৩. অনুপ্রেরণা জোগানো: ক্লাবের নিজস্ব ফুটবল একাডেমির মেধাবী শিশুদের পুরস্কার হিসেবে মূল দলের সাথে পাঠানো হয়, যাতে তারা অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে বড় খেলোয়াড় হতে পারে।

৪. সমর্থকদের সম্মান জানানো: যেসব সমর্থক নিয়মিত খেলা দেখেন এবং সিজন টিকিট কেনেন, তাদের সন্তানদের লটারির মাধ্যমে এই বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়।

৫. পরিবারবান্ধব পরিবেশ: গ্যালারির উগ্রতা কমিয়ে খেলার মাঠের পরিবেশকে আরও মানবিক ও পরিবারবান্ধব করাই এর মূল লক্ষ্য।

(এমনকি ইদানীং পশু দত্তক নেওয়ার সচেতনতা বাড়াতে শিশুদের পাশাপাশি কুকুর ছানাও মাঠে আনা হচ্ছে)।

বয়সসীমা ও অন্যান্য তথ্য

সাধারণত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের এই কাজের জন্য নির্বাচন করা হয়। কারণ, ৫ বছরের ছোট শিশুরা হাজার হাজার দর্শকের সামনে ভয় পেতে পারে, আর ১৭ বছরের বেশি বয়সীদের শিশু গণ্য করা হয় না।

কিছু কিছু বিখ্যাত ক্লাব (যেমন- চেলসি) নির্দিষ্ট ফি বা অর্থের বিনিময়েও শিশুদের এই সুযোগ দেয়। তবে চেলসির মতো ক্লাবে আবেদনকারীর সংখ্যা এত বেশি যে, বর্তমানে সেখানে কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকতে হয়।

হাজারো দর্শকের সামনে যখন একটি শিশু তার প্রিয় তারকার হাত ধরে মাঠে নামে, তখন তার মনেও একদিন বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয়। আজকের এই ছোট্ট শিশুটিই যে আগামী দিনের ‘ওয়েন রুনি’ বা বিশ্বকাঁপানো তারকা হবে না, তা কে বলতে পারে!