ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রায়গঞ্জে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের নুসরাতকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ বজ্রপাতের সময় জীবন বাঁচাতে পারে ‘৩০-৩০ নিয়ম’ বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং নেই, যেটা ছিল সাময়িক: বিদ্যুৎমন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামীপুত্র ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর বাম দুর্গে মুসলিম তরুণীর বিজয় শিবগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

উত্তরায় বাবার সামনে থেকে মেয়েকে অপহরণ: এক দিনের রিমান্ডে প্রধান আসামী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বাবার সামনে থেকে তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে অপহরণের মামলার প্রধান আসামী লামিন ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারের পর শনিবার ১৯ বছর বয়সী লামিন ইসলামকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই ফরিদুজ্জামান। ওইদিন আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য এই দিন রাখেন। এদিন শুনানিকালে লামিনকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিরপক্ষে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

বাদীপক্ষে আইনজীবী শাহ্ মো. শরিফুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “ভিডিওটা দেখলে এটা স্পষ্ট পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামিরা ওঁৎ পেতে ছিল। জোরপূর্বক বাবার কাছ থেকে মেয়েটাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।” এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, “মিন্নির মত ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে মেয়ে জড়িত।” এপর্যায়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে চান।

তাহমিনা আক্তার বলেন, “ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক আগে থেকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বাবার হাত থেকে মেয়েটাকে কীভাবে ছিনিয়ে নিল? ১০ম শ্রেণীর মেয়ে বাবার হাতে নিরাপদ না থাকলে কার কাছে নিরাপদ থাকবে। ফিল্মি স্টাইলে মেয়েটাকে অপহরণ করে। পরবর্তীতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছে।”

তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান বলেন, “মেয়েটার বয়স ১২ বছর। ঢাকার মত এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকার লোকজন ভীতিকর অবস্থায় আছে। এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামিরা গ্রেপ্তার হলে এলকাবাসী শান্তি পাবে।”

শুনানি নিয়ে আদালত আদেশে বলেছে, “মামলার এজাহার, রিমান্ড ফরওয়ার্ডিং, ভিকটিমের ২২ ধারা পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটা একটা অপহরণের ঘটনায় মামলা। ভিকটিম উদ্ধার। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে ১ নং আসামিসহ অজ্ঞাতনানা ৭/৮ জনের উপস্থিতিতে ভিকটিমকে জোর করে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। ঘটনায় আর কে কে জড়িত, নাম-ঠিকানা জানার জন্য আসামির রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আবশ্যক।

“তবে আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন আছে বলে আদালত মনে করে না। আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হল।” মে মাসের এক তারিখে গাজীপুরের পুবাইল থানাধীন একটি এলাকা থেকে লামিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় অপহৃত বছর বয়সি শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, “গত ২২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে পরীক্ষা শেষে বাসায় ফেরার পথে উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৬ এলাকায় পৌঁছালে আসামি লামিন ইসলাম ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।”

ওই ঘটনায় মেয়েটির বাবা উত্তরা পূর্ব থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উত্তরায় বাবার সামনে থেকে মেয়েকে অপহরণ: এক দিনের রিমান্ডে প্রধান আসামী

আপডেট সময় : ০৩:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বাবার সামনে থেকে তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে অপহরণের মামলার প্রধান আসামী লামিন ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারের পর শনিবার ১৯ বছর বয়সী লামিন ইসলামকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই ফরিদুজ্জামান। ওইদিন আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য এই দিন রাখেন। এদিন শুনানিকালে লামিনকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিরপক্ষে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

বাদীপক্ষে আইনজীবী শাহ্ মো. শরিফুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “ভিডিওটা দেখলে এটা স্পষ্ট পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামিরা ওঁৎ পেতে ছিল। জোরপূর্বক বাবার কাছ থেকে মেয়েটাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।” এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, “মিন্নির মত ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে মেয়ে জড়িত।” এপর্যায়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে চান।

তাহমিনা আক্তার বলেন, “ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক আগে থেকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বাবার হাত থেকে মেয়েটাকে কীভাবে ছিনিয়ে নিল? ১০ম শ্রেণীর মেয়ে বাবার হাতে নিরাপদ না থাকলে কার কাছে নিরাপদ থাকবে। ফিল্মি স্টাইলে মেয়েটাকে অপহরণ করে। পরবর্তীতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছে।”

তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান বলেন, “মেয়েটার বয়স ১২ বছর। ঢাকার মত এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকার লোকজন ভীতিকর অবস্থায় আছে। এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামিরা গ্রেপ্তার হলে এলকাবাসী শান্তি পাবে।”

শুনানি নিয়ে আদালত আদেশে বলেছে, “মামলার এজাহার, রিমান্ড ফরওয়ার্ডিং, ভিকটিমের ২২ ধারা পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটা একটা অপহরণের ঘটনায় মামলা। ভিকটিম উদ্ধার। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে ১ নং আসামিসহ অজ্ঞাতনানা ৭/৮ জনের উপস্থিতিতে ভিকটিমকে জোর করে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। ঘটনায় আর কে কে জড়িত, নাম-ঠিকানা জানার জন্য আসামির রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আবশ্যক।

“তবে আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন আছে বলে আদালত মনে করে না। আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হল।” মে মাসের এক তারিখে গাজীপুরের পুবাইল থানাধীন একটি এলাকা থেকে লামিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় অপহৃত বছর বয়সি শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, “গত ২২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে পরীক্ষা শেষে বাসায় ফেরার পথে উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৬ এলাকায় পৌঁছালে আসামি লামিন ইসলাম ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।”

ওই ঘটনায় মেয়েটির বাবা উত্তরা পূর্ব থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।