ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুঠিয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে মিথ্যা বিয়ে! দুই মাস পরে তালাক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ী হাজি পাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন ওরফে নাসির উদ্দিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পশ্চিম ভাগ এলাকার শিউলি খাতুন নামের এক নারীর সঙ্গে ৬ মাস থেকে শারীরিক মেলা মিশা ধর্ষণ মামলার ভয়ে অতঃপর মিথ্যে বিয়ের অভিনয় দুই মাস পরে তালাক।

৩০ এপ্রিল উপজেলা ফুলবাড়ী হাজিপাড়া এলাকার মৃত্যু ওবায়দুল ইসলামের ছেলে পশ্চিমভাগ এলাকার রইস উদ্দিনের মেয়ে শিউলি খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রমজান মাসে ইউপি সদস্য ও স্কুল শিক্ষক সহ এলাকাবাসী দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে মৌখিক ভাবে শুধু কালেমা পড়িয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আফজাল হোসেন নাসির খুব একটা ভালো চরিত্রের মানুষ না ইতিপূর্বেও দুইটি বিয়ে করে ছিলো সেই বউ গুলোকে প্রচন্ড মারধরের একপর্যায়ে তাদেরকেও তালাক দিয়ে বিদায় করে।
ভালুকগাছী ইউনিয়নের ২-নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলন হোসেন জানান, আমি সহ আমাদের এলাকার বেশ কয়েকজন মিলে আফজাল হোসেন নাসির ও শিউলী খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন করি। তাদের বিয়েটি সরকারিভাবে রেজিস্টার করা হয়নি। যেতো সরকারি ভাবে বিয়েটি রেজিস্টার করা হয়নি সেই ক্ষেত্রে বিয়ে টি কতটা আইনত এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিলন হোসেন জানান, বিয়েটি আইন সম্মতিক্রমে হয়নি।
মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, আমরা গত রমজান মাসে  যে বিয়েটি দিছি সেটি সম্পূর্ণই বেআইনিভাবে। তবে সেখানে আমি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তার মধ্যে একজন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন তাদের আদেশক্রমে বিয়েটি সম্পন্ন হয়।

ভুক্তভোগী নারী শিউলী খাতুন জানান, দীর্ঘদিন আমার সাথে মেলামেশার পরে আমাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আমি ধর্ষণ মামলা করতে চাইলে স্থানীয়রা সবাই বসে রমজান মাসে আমাকে তড়িঘড়ি করে একজনকে ডেকে এনে কবুল পড়িয়ে বিয়ে দেন, কিন্তু আমার বিয়েটি তারা কোন সময় রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।

আজ আমাকে হঠাৎ করেই একটি তালাকের কাগজ হাতে এনে দিয়েছে আমার স্বামী যেহেতু আমাদের বিয়েটি রেজিস্টারি এখনো হয়নি সেখানে কেনই বা তালাক পত্র আসলো আমি বুঝতে পারছি না তবে আমি এখন যেটা বুঝলাম আমি ধর্ষণ মামলা করতে চেয়েছিলাম সেই সময় আমি মামলা করতে যেন না পারি তাই তারা এমন বিয়ের নাটক তৈরি করেছিল।

এ বিষয়ে আফজাল হোসেন নাসির জানান, আমাদের বিয়ের রেজিস্টার না হলেও আমি তাকে তালাক দিয়েছি আমি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি নয়। আমি পুঠিয়া থানাতে ফোন করেছি পুলিশ এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবে।

পুঠিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এস,আই) সাদেকুল হোসেন জানান, মোবাইলের ফোন কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিকেলে আমরা ফুলবাড়ীর হাজী পাড়াতে গিয়ে মেয়েটির কথা শুনে এবং তালাকের কাগজ দেখে সেই সাথে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি ছেলেটি মেয়েটির সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাই আমরা মেয়েটিকে বলেছে যে আপনি আইনি সহায়তা প্রয়োজন হলে থানায় একটি অভিযোগ প্রদান করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পুঠিয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে মিথ্যা বিয়ে! দুই মাস পরে তালাক

আপডেট সময় : ০২:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ী হাজি পাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন ওরফে নাসির উদ্দিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পশ্চিম ভাগ এলাকার শিউলি খাতুন নামের এক নারীর সঙ্গে ৬ মাস থেকে শারীরিক মেলা মিশা ধর্ষণ মামলার ভয়ে অতঃপর মিথ্যে বিয়ের অভিনয় দুই মাস পরে তালাক।

৩০ এপ্রিল উপজেলা ফুলবাড়ী হাজিপাড়া এলাকার মৃত্যু ওবায়দুল ইসলামের ছেলে পশ্চিমভাগ এলাকার রইস উদ্দিনের মেয়ে শিউলি খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রমজান মাসে ইউপি সদস্য ও স্কুল শিক্ষক সহ এলাকাবাসী দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে মৌখিক ভাবে শুধু কালেমা পড়িয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আফজাল হোসেন নাসির খুব একটা ভালো চরিত্রের মানুষ না ইতিপূর্বেও দুইটি বিয়ে করে ছিলো সেই বউ গুলোকে প্রচন্ড মারধরের একপর্যায়ে তাদেরকেও তালাক দিয়ে বিদায় করে।
ভালুকগাছী ইউনিয়নের ২-নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলন হোসেন জানান, আমি সহ আমাদের এলাকার বেশ কয়েকজন মিলে আফজাল হোসেন নাসির ও শিউলী খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন করি। তাদের বিয়েটি সরকারিভাবে রেজিস্টার করা হয়নি। যেতো সরকারি ভাবে বিয়েটি রেজিস্টার করা হয়নি সেই ক্ষেত্রে বিয়ে টি কতটা আইনত এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিলন হোসেন জানান, বিয়েটি আইন সম্মতিক্রমে হয়নি।
মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, আমরা গত রমজান মাসে  যে বিয়েটি দিছি সেটি সম্পূর্ণই বেআইনিভাবে। তবে সেখানে আমি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তার মধ্যে একজন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন তাদের আদেশক্রমে বিয়েটি সম্পন্ন হয়।

ভুক্তভোগী নারী শিউলী খাতুন জানান, দীর্ঘদিন আমার সাথে মেলামেশার পরে আমাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আমি ধর্ষণ মামলা করতে চাইলে স্থানীয়রা সবাই বসে রমজান মাসে আমাকে তড়িঘড়ি করে একজনকে ডেকে এনে কবুল পড়িয়ে বিয়ে দেন, কিন্তু আমার বিয়েটি তারা কোন সময় রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।

আজ আমাকে হঠাৎ করেই একটি তালাকের কাগজ হাতে এনে দিয়েছে আমার স্বামী যেহেতু আমাদের বিয়েটি রেজিস্টারি এখনো হয়নি সেখানে কেনই বা তালাক পত্র আসলো আমি বুঝতে পারছি না তবে আমি এখন যেটা বুঝলাম আমি ধর্ষণ মামলা করতে চেয়েছিলাম সেই সময় আমি মামলা করতে যেন না পারি তাই তারা এমন বিয়ের নাটক তৈরি করেছিল।

এ বিষয়ে আফজাল হোসেন নাসির জানান, আমাদের বিয়ের রেজিস্টার না হলেও আমি তাকে তালাক দিয়েছি আমি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি নয়। আমি পুঠিয়া থানাতে ফোন করেছি পুলিশ এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবে।

পুঠিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এস,আই) সাদেকুল হোসেন জানান, মোবাইলের ফোন কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিকেলে আমরা ফুলবাড়ীর হাজী পাড়াতে গিয়ে মেয়েটির কথা শুনে এবং তালাকের কাগজ দেখে সেই সাথে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি ছেলেটি মেয়েটির সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাই আমরা মেয়েটিকে বলেছে যে আপনি আইনি সহায়তা প্রয়োজন হলে থানায় একটি অভিযোগ প্রদান করুন।