জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে কাজ চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম শহরবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বুধবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক বড় ওয়াটার লগ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে একটু সময় লাগবে। এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।’
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ মুহূর্তে চট্টগ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। সাধারণ মানুষ, যাদের বাসা ছিল না, তাদের জীবন আসলেই আক্ষরিক অর্থে পানিতে ভাসছে। চট্টচগ্রাম জুড়ে গলা পর্যন্ত পানি। মানুষ ভাবছে চট্টগ্রামের এই সমস্যার কোনদিন সমাধান হবে না। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।
তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মঙ্গলবার তিনিও সংবাদ মাধ্যমে দেখেছেন চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে এবং মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই সমস্যাটি শুধু চট্টগ্রামে নয়, বলা যায় সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। ঢাকা শহরেও অনেক জায়গায় বৃষ্টিতে পানি জমে যাচ্ছে। এটি অনেক দিনের সমস্যা।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন, বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে। বর্তমান সরকার সে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে।
শহর অঞ্চলে যে খাল, ড্রেন,নালাগুলো আছে প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল এসব ফেলে অসচেতনভাবে এেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার বিভিনন জায়গায় খাল খনন করছে ড্রেন পরিস্কার করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে কয়েকটি জায়গায় এটি করা হয়েছে। কিন্তু ৭–১০ দিনের মধ্যে মানুষ আবার অসচেতনভাবে এগুলোতে ময়লা ফেলে ব্লক করে দিচ্ছে।
সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে এবং আরও নেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জনমত তৈরি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন বা এ জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার কমানো বা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
হাওরাঞ্চলের কৃষকরা পাবেন সহায়তা
জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্নে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবল বর্ষণে সব হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা ধান কাটতে মাঠে লড়াই করছে। বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়টি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের সম্পর্কিত হলেও সরকার দলের ওই এমপি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের বিষয়টি উদ্বেগের। গত তিনদিন আগে আবহাওয়া প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে, আমি তিনটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত হলে সতর্কতা অবলম্বন করে। সকালে অধিবেশন শুরুর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি, এ তিনটা জেলাসহ ময়মনসিংহের কিছু এলাকা তীব্র বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ এলাকার যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের লোকেট করে আগামী তিনমাস সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করব।




















